Alexa

তদন্তে আটকে আছে দিয়াজ হত্যার রহস্য

তদন্তে আটকে আছে দিয়াজ হত্যার রহস্য

দিয়াজ ইরফান চৌধুরী /ছবি: বার্তা২৪

দুই বছর পার হতে চললেও তদন্ত কর্মকর্তার হাত বদলেই আটকে আছে ছা্ত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এদিকে দিয়াজের পরিবার দাবি করছে, আসামির প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। ফলে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন দিয়াজের পরিবারসহ সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত দুই নং গেইট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথম ময়নাতদন্তে দিয়াজ আত্মহত্যা করেছেন এমন প্রতিবেদনের পর তার মা জাহেদা আমিন চৌধুরী ও দিয়াজের অনুসারীরা এটি প্রত্যাখ্যান করেন।

পরে ঐ বছরের ২৪ নভেম্বর তিনি বাদি হয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর মো. আনোয়ার হোসেন, সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আলমগীর টিপুসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আসামি করেন।

আদালত মামলাটি এজাহারে নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর হাটহাজারী থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরিবারের দাবিতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে দিয়াজকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উঠে আসে। এরপর মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তের ভার পায়। এর মধ্যে অনেকটা অজ্ঞাত কারণেই তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়।

তদন্তের বিলম্ব আর আসামিদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখে নিজেকে সামলাতে পারেন না মা জাহেদা আমিন। ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে গত ৩০ অক্টোবর ছেলের মরদেহের পোস্টার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। গত বছরও তিনি অনশন পালন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/20/1542705222324.jpg

কী কারণে দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও অজানা। তবে বরাবরের মতই দিয়াজের অনুসারীদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্মাণ কাজের দরপত্র নিয়ে কোন্দলের সূত্র ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেও মামলা বিলম্ব হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকরে আগে দিয়াজ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এ মামলায় সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন তিন মাস জেলহাজতে থাকার পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন। তবে মামলার অন্য আসামিদের ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হলেও তারা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি তারা দিয়াজের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তার বোন অ্যাডভোকেট জোবাইয়দা সরওয়ার নিপা।

তিনি বার্তা২৪কে জানান, আদালত থেকে আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ থাকলেও তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। ফলে আসামিরা আলামত নষ্ট ও সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। প্রশাসন ও আসামিরা এ মামলাকে প্রভাবিত করতে চাইছে। তদন্ত কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন। নির্বাচনী ঝামেলা শেষ হলেই তারা তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করবেন।

জানতে চাইলে সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জসিম বার্তা২৪কে বলেন, এখনো তদন্ত চলছে। নিরপেক্ষভাবে জবানবন্দি নিচ্ছি। বাদীপক্ষ থেকে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে তা সংগ্রহ করেছি। তবে সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।’ তবে মামলার আসামি গ্রেফতার ও তদন্ত রিপোর্ট কখন জমা দেওয়া হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে প্রতিবারের মতো দিয়াজের স্মরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে তার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন :