Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

চবি ক্যাম্পাসের অকাল প্রয়াত বন্ধু প্রিয়াঙ্কা

চবি ক্যাম্পাসের অকাল প্রয়াত বন্ধু প্রিয়াঙ্কা
ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনের শেষ পরীক্ষার আগে জীবন থেকেই চিরতরে হারিয়ে গেলি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের প্রিয়বন্ধু প্রিয়াঙ্কা। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের পাঠ শেষে আমরা জীবনে পথে নানা দিকে ছড়িয়ে যাবো। তোকে আর কোনদিনই ফিরে পাবো না।

তোর এভাবে চলে যাওয়াটা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিনা আমরা। তোর স্ট্রাগল একদম চোখের সামনে থেকে দেখেছি। আমার ডিপার্টমেন্টের প্রথম পরিচয় হয় তোর সাথেই। এক এলাকার হওয়ার সুবাদে আন্তরিকতাও বেশি ছিল। ছিল অম্ল-মধুর কতো স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা!

হলে থাকার জন্য দুজনেই প্রশাসনের কাছে কত দৌড়াদৌড়ি করেছি! কোনভাবে হলে থাকাটা ম্যানেজ করেও ফেললাম। কিছুদিন পরে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হওয়ায় তুই যাওয়া-আসা করেছিস এলাকায়। ক্লাশ করতে পারবিনা দেখে আমরা বন্ধুরা মিলে তোকে নানাভাবে সহযোগিতা দেয়া শুরু করি। বাট শেষের দিকে আমাদের কিছু বন্ধু সেটাকে সহজ ভাবে নিতে পারেনি।

তাদের চেহারা আমার স্পষ্ট মনে আছে।তারা তো আর তোর কষ্টের কথা জানতো না। তোকে যখন ১ম বর্ষে পরীক্ষা দিতে দেয়নি তখন আমি এত আপসেট হয়েছিলাম। আমি কাকে কাকে অভিশাপ দিয়েছিলাম, সেটাও মনে আছে।

কখনোই তোর সেই সংগ্রামের সরাসরি ভাগীদার হওয়ার সুযোগ আমি হাতছাড়া করিনি। আমার সব নোট ও বই আমি তোর জন্য রেখে দিতাম। তুই ফোন করতি। আমাদের কথা হতো। সংগ্রাম আর শিক্ষা এক সাথে চালিয়েছিস তুই।

পরীক্ষার সময় হলে থাকার সমস্যাটা আমরা যারা হলে থেকেছি তারা জানি।তোকে আমার সাথে রেখেই পরীক্ষা দেয়ার জন্য বলতাম। আর তোর চোখেমুখে যে কৃতজ্ঞতা ফুটে উঠতো সেটা আমি এখনো স্পষ্ট দেখতে পাই।

আমাকে বলতি, 'তুই রান্না করিস না আমি ডাইনিং এ খাবো।'

আমি তেকে সে সুযোগ দিতাম না। কি অমায়িক একটা বন্ধু ছিল আমার! সুখ-দুখের সাথী। তোর জীবনের অভিজ্ঞতা শুনলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাঙ্গনের ছাত্রীদের কঠিন ও নির্মম সংগ্রামের কথাটিই ভেসে আসবে।

এতো কিছুর মধ্যে দ্রুত সময় গড়িয়ে যায়।তোর জীবনে নতুন মানুষের আগমন ঘটে। নতুন যুগল জীবন শুরু হয় তোর। কি সুখ ই না তোর হয়েছিল! অামাকে সবসময় বলছিস জীবনের সেইসব কথা।

কি সুন্দর ফুটফুটে দুটো বাচ্চার মা হয়েছিস তুই! ইশ নিশ্চয়ই তোর নিজেকে পৃথিবীর সবচাইতে বেশি সুখী মানুষ মনে হয়েছিল। নিজকে পরিপূর্ণ দেখার মত সুখ আর কি কোথাও আছে?

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মাতৃমৃত্যুর হার কমে গেছে এটা নিয়ে রীতিমত পুরস্কার পদকও আমরা পেয়ে গেছি। আমার বন্ধু প্রিয়াঙ্কার মৃত্যুকে তাহলে কি বলব?

প্রিয়াঙ্কার বাচ্চাদের কি হবে তা কি আমরা কেউ ইমাজিন করতে পারছি? কল্পনা করা যায় মা হারা নবজাতক জমজ সন্তান দুটির কথা?

প্রিয়াঙ্কা, তোর কোন স্মৃতিই আজ বহন করতে পারি না। তোর জন্য বুকে শুধু হাহাকার বাজে। তোর আত্মার ধন সন্তানদের জন্য চোখ ভিজে আসে বারবার।

আপনার মতামত লিখুন :

পর্যাপ্ত বাসের দাবিতে শিক্ষকদের বাস অবরোধ

পর্যাপ্ত বাসের দাবিতে শিক্ষকদের বাস অবরোধ
শিক্ষকদের বাস অবরোধ করে জাবি ছাত্র ইউনিয়ন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত বাসের দাবিতে শিক্ষকদের বাস অবরোধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সংসদ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ'র ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে রাখা বাসগুলো অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষকদের ঢাকাগামী কয়েকটি বাস নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের খবর জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566304255422.jpg

 

এসময় তারা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনেন এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট নিরসনের লক্ষে পরিবহন পুলের দুইটি বাস সংযুক্ত করার আশ্বাস দেন পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বাসের নষ্ট ফ্যান ও লাইট ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অধ্যাপক আলী আজমের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'বাস সংকট সমাধানের লক্ষে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছি। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতির পরও আমরা কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখছিনা। তবে অধ্যাপক আলী আজমের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে আজকের অবস্থান কর্মসূচি তুলে নিয়েছি। কিন্তু কথার বরখেলাপ হলে পুনরায় অবস্থান কর্মসূচি কিংবা আরও কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।’

জবি উপাচার্যের মা আর নেই

জবি উপাচার্যের মা আর নেই
মরিয়ম বেগম, ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের মা মরিয়ম বেগম আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাত সোয়া ১টায় বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় উত্তর মুগদাস্থ ছেলের বাড়িতে মারা যান তিনি। তিনি সাত ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

উপাচার্যের মায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, সাংবাদিক সমিতি, কর্মচারী সমিতি এবং অন্যন্য দফতর।

শোক প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীপিকা রানী সরকার বলেন, ‘উপাচার্যের মায়ের মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শোকাহত। আমরা তার মাগফেরাত কামনা করছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি ।

মঙ্গলবার বাদ আসর কুমিল্লার হরিপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে মরহুমার নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র