Alexa

চবি ক্যাম্পাসের অকাল প্রয়াত বন্ধু প্রিয়াঙ্কা

চবি ক্যাম্পাসের অকাল প্রয়াত বন্ধু প্রিয়াঙ্কা

ছবি: বার্তা২৪

জীবনের শেষ পরীক্ষার আগে জীবন থেকেই চিরতরে হারিয়ে গেলি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের প্রিয়বন্ধু প্রিয়াঙ্কা। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের পাঠ শেষে আমরা জীবনে পথে নানা দিকে ছড়িয়ে যাবো। তোকে আর কোনদিনই ফিরে পাবো না।

তোর এভাবে চলে যাওয়াটা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিনা আমরা। তোর স্ট্রাগল একদম চোখের সামনে থেকে দেখেছি। আমার ডিপার্টমেন্টের প্রথম পরিচয় হয় তোর সাথেই। এক এলাকার হওয়ার সুবাদে আন্তরিকতাও বেশি ছিল। ছিল অম্ল-মধুর কতো স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা!

হলে থাকার জন্য দুজনেই প্রশাসনের কাছে কত দৌড়াদৌড়ি করেছি! কোনভাবে হলে থাকাটা ম্যানেজ করেও ফেললাম। কিছুদিন পরে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হওয়ায় তুই যাওয়া-আসা করেছিস এলাকায়। ক্লাশ করতে পারবিনা দেখে আমরা বন্ধুরা মিলে তোকে নানাভাবে সহযোগিতা দেয়া শুরু করি। বাট শেষের দিকে আমাদের কিছু বন্ধু সেটাকে সহজ ভাবে নিতে পারেনি।

তাদের চেহারা আমার স্পষ্ট মনে আছে।তারা তো আর তোর কষ্টের কথা জানতো না। তোকে যখন ১ম বর্ষে পরীক্ষা দিতে দেয়নি তখন আমি এত আপসেট হয়েছিলাম। আমি কাকে কাকে অভিশাপ দিয়েছিলাম, সেটাও মনে আছে।

কখনোই তোর সেই সংগ্রামের সরাসরি ভাগীদার হওয়ার সুযোগ আমি হাতছাড়া করিনি। আমার সব নোট ও বই আমি তোর জন্য রেখে দিতাম। তুই ফোন করতি। আমাদের কথা হতো। সংগ্রাম আর শিক্ষা এক সাথে চালিয়েছিস তুই।

পরীক্ষার সময় হলে থাকার সমস্যাটা আমরা যারা হলে থেকেছি তারা জানি।তোকে আমার সাথে রেখেই পরীক্ষা দেয়ার জন্য বলতাম। আর তোর চোখেমুখে যে কৃতজ্ঞতা ফুটে উঠতো সেটা আমি এখনো স্পষ্ট দেখতে পাই।

আমাকে বলতি, 'তুই রান্না করিস না আমি ডাইনিং এ খাবো।'

আমি তেকে সে সুযোগ দিতাম না। কি অমায়িক একটা বন্ধু ছিল আমার! সুখ-দুখের সাথী। তোর জীবনের অভিজ্ঞতা শুনলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাঙ্গনের ছাত্রীদের কঠিন ও নির্মম সংগ্রামের কথাটিই ভেসে আসবে।

এতো কিছুর মধ্যে দ্রুত সময় গড়িয়ে যায়।তোর জীবনে নতুন মানুষের আগমন ঘটে। নতুন যুগল জীবন শুরু হয় তোর। কি সুখ ই না তোর হয়েছিল! অামাকে সবসময় বলছিস জীবনের সেইসব কথা।

কি সুন্দর ফুটফুটে দুটো বাচ্চার মা হয়েছিস তুই! ইশ নিশ্চয়ই তোর নিজেকে পৃথিবীর সবচাইতে বেশি সুখী মানুষ মনে হয়েছিল। নিজকে পরিপূর্ণ দেখার মত সুখ আর কি কোথাও আছে?

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মাতৃমৃত্যুর হার কমে গেছে এটা নিয়ে রীতিমত পুরস্কার পদকও আমরা পেয়ে গেছি। আমার বন্ধু প্রিয়াঙ্কার মৃত্যুকে তাহলে কি বলব?

প্রিয়াঙ্কার বাচ্চাদের কি হবে তা কি আমরা কেউ ইমাজিন করতে পারছি? কল্পনা করা যায় মা হারা নবজাতক জমজ সন্তান দুটির কথা?

প্রিয়াঙ্কা, তোর কোন স্মৃতিই আজ বহন করতে পারি না। তোর জন্য বুকে শুধু হাহাকার বাজে। তোর আত্মার ধন সন্তানদের জন্য চোখ ভিজে আসে বারবার।

আপনার মতামত লিখুন :

ক্যাম্পাস এর আরও খবর