Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ছিনতাইয়ের অভিযোগে জাবি’র ৫ শিক্ষার্থী আটক

ছিনতাইয়ের অভিযোগে জাবি’র ৫ শিক্ষার্থী আটক
ছবি: সংগৃহীত
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বহিরাগত দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছিনতাইকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এর আগেও আটকৃতদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও সাংবাদিক মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- বাংলা বিভাগের আসিফ আহমেদ ও সজিব গাজী, লোক প্রশাসন বিভাগের ইয়া রাফিউ শিকদার, মুস্তাফিজুর রহমান ও সোহেল রানা। তারা জাবি’র ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী জাহেদুর রহমান বলেন, ‘বান্ধবীসহ বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে বসে ছিলাম। পরে তারা পাচঁজন এসে আমাদেরকে ধরে এবং বলে তোদেরকে এখন প্রক্টরের কাছে নিয়ে যাবো। আর প্রক্টরের কাছে নিলে একলাখ টাকা লাগবে, প্রক্টররাও টাকা খায়, সব আমাদের সেটিং করা। প্রক্টরও আমাদের হাতে আছে, তো এখন তোরা কি ঐ জায়গায় যাবি? আর না গেলে ভিতরে আয়।’

জাহেদুর আরো বলেন, ‘আমাদেরকে ক্যাম্পাসের অনেক ভিতরে নিয়ে মারধর করে। এ সময় আমার কাছে থাকা মানিব্যাগ থেকে টাকা ও আমার বান্ধবীর কানের দুল নিয়ে নেয়। তারপর আমাকে আলাদা করে নিয়ে যায় আর বান্ধবীকে ওখানেই রাখে।’

‘আমাকে বিকাশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আনতে বলে। আমি বন্ধুকে কল করার কথা বললে আমাকে আরো মারধর করে। পরে আমি দৌঁড় দিয়ে পালাইছি।’

ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আর্থিক  ক্ষতিপূরণের দাবি করে প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন জাহেদুর রহমান।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থী। তারা বলেন, ‘অভিযোগকারীদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে তাদের পরিচয় জানতে বিভাগ, ব্যাচ ও হলের নাম জিজ্ঞাসা করলে তারা উত্তর দিতে পারেনি। এ সময় অভিযোগকারী ভয়ে দৌঁড় দেয়। পরে অভিযোগকারীর পরিচিত ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইয়েরা এসে আমাদেরকে মারধর করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘আটককৃতরা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাঁদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নোটিশের জবাবও দিয়েছে। ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

রাবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

রাবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণুকুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

রোববার (২১ জুলাই) বিকেলে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী।

অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, 'দুই শিক্ষার্থীর অভিযোগের সত্যতার আলামত মিলেছে। হাইকোর্ট যৌন হয়রানির বিষয়ে যে ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মিলে গেছে এবং আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি। ওই দুই শিক্ষার্থীর সাথে তার (শিক্ষকের) কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি এবং আচরণ যৌন হয়রানির মতোই ছিল বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।'

যৌন হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষক বিষ্ণুকুমার হুমকি দিচ্ছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক বলেন, 'তারা বলেছিল, শিক্ষক অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। আমরা তদন্তে পেয়েছি, শিক্ষকের অনুসারী কিছু শিক্ষার্থীকে দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে ভুক্তভোগীদের বলা হয়েছে। শিক্ষক বড় হুমকি হতে পারত তাদের একাডেমিক ফলাফলে সেজন্য তাকে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।'

আগামীকাল সোমবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের কাছে কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী এবং ২৭ জুন দ্বিতীয় বর্ষের আরেক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ ইনস্টিটিউটে বিষ্ণুকুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবুল হাসানকে আহ্বায়ক করে এবং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আকতার বানু ও অধ্যাপক রুবাইয়াত জাহানকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থীকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষক চাপ দিচ্ছেন উল্লেখ করে গত ২৮ জুন নগরীর মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এরপর ওই শিক্ষককে ৩ জুলাই ইনস্টিটিউটের স্নাতক পর্যায়ের চারটি বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় একাডেমিক কাউন্সিল।

অ্যাপসে মিলবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস!

অ্যাপসে মিলবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস!
অ্যাপসে মিলবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস

অপেক্ষার প্রহর খুব দীর্ঘ হয় কোন সময় এক মিনিট ঘণ্টার সমতূল্য হয়ে দাড়ায়। বাড়তে থাকে চিন্তা আর সেটা যদি হয় সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বাসের জন্য অথবা অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য তাহলে তো আর কথায় নেই। তবে এবার বাস অথবা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য আর নয় অনিশ্চিত অপেক্ষা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের পরিবহন সেবার বিড়ম্বনা কমাতে তৈরি করা হয়েছে আন্ড্রোয়েড মোবাইল সেবা ভিত্তিক অ্যাপস ‘জেইউ ট্রান্সপোর্ট’। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনব্যবস্থা সহজীকরণে প্রয়োজনীয় অ্যাপটি নির্মাণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহীন বাশার। অ্যাপসটির ডিজাইন করেছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী সিথি আহমেদ। এছাড়া অ্যাপসটির সার্বিক দিক নির্দেশনায় ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র পরিচালক অধ্যাপক এম মেসবাহউদ্দিন সরকার।

নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী এই অ্যাপের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস ও অ্যাম্বুলেন্সগুলোর অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাপে দেখা যাবে। এছাড়া অ্যাপস ব্যবহারকারী কোন গাড়ি খুঁজতে থাকলে ব্যবহারকারীর দূরত্ব থেকে গাড়িটির দূরত্ব পরিমাপ করে গাড়িটির কাছে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে এবং সেই সাপেক্ষে সবচেয়ে সহজ পথটি দেখিয়ে দিবে। প্রতিটি গাড়ির গতিশীল অবস্থান অ্যাপটির অভ্যন্তরীণ ম্যাপের মাধ্যমে শনাক্ত করতে সক্ষম। অন্যদিকে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে রুটের পরিবর্তনসহ অন্যান্য তথ্য সার্ভার থেকে সবার উদ্দেশে নোটিফিকেশন আকারে জানিয়ে দিবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563716749845.jpg

যে কোন কারণে বাসে থাকা ড্রাইভার বা অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য থাকবে ‘লাইভ চ্যাটিং’ ব্যবস্থা। আর এই জন্য রয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কনভার্সেশন সিস্টেম। ব্যবহারকারী চাইলে যেকোন মুহূর্তে অ্যাপসে যুক্ত করা মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে খুব সহজেই গাড়ির স্টাফ বা চালকের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারবেন।

অ্যাপসটির ব্যবহার বিধি সম্পর্কে নির্মাতা শাহিন বাশার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘অ্যাপটি ইনস্টল করা যাচ্ছে গুগল প্লে স্টোর থেকে। আপাতত শুধুমাত্র অ্যান্ড্রোয়েড ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাপটি বিনামূল্যে ইনস্টল ও ব্যবহার করা যাবে। প্লে স্টোরে অ্যাপটি পাওয়া যাবে  https://play.google.com/store/apps/details?id=com.sbiitju.jugreenbus&hl=en ঠিকানায়। খুব সহজ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অ্যাপসে লগ-ইন করা যাবে। আর এইজন্য প্রয়োজন হবে শুধু মাত্র একটি মোবাইল নাম্বার, নাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া ব্যাচ ও বিভাগ সম্পর্কিত তথ্য। মোবাইল নাম্বার দেওয়ার পর মোবাইলে যাওয়া ভ্যারিফিকেশন কোড সাবমিট করার মাধ্যমেই প্রবেশ করা যাবে অ্যাপসে।

তবে কোনও বাসের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে জানতে হলে প্রয়োজন পড়বে ইন্টারনেট সংযোগের। ব্যবহারকারী তার ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করার মাধ্যমে সব গাড়ির অবস্থান জানতে পারবে।

অ্যাপসটির ডিজাইনার সিথি আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে অ্যাপসে আরো কিছু সুবিধা যোগ করার ইচ্ছা আছে। যেমন- দূরত্ব অনুযায়ী গাড়ি চলাচলের জ্বালানি খরচের হিসাব। চালকের গাড়ি পরিচালনা দক্ষতার উপরে উপর রেটিং সিস্টেম দেওয়ার ব্যবস্থা। বাসের আসন সংখ্যা এবং যাত্রী সম্পর্কিত তথ্য। নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে বাসের স্টাফের কাছে থামার জন্য অনুরোধ সিস্টেম ইত্যাদি। তবে সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

অ্যাপস সেবাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন সেবায় যুক্ত করার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন শাখার অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক লুৎফুল ইলাহী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক টেস্ট করেছি। সেবাটি পরিবহন সেবায় যুক্ত হলে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট লাঘব হবে। অ্যাপস ডেভলপ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোন সহায়তা করার ব্যাপারে আমরা কথা বলব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র