Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

সাত বছরে শেষ হয়নি জবির হলের কাজ

সাত বছরে শেষ হয়নি জবির হলের কাজ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো / ছবিঃ সংগৃহীত
জবি প্রতিনিধি
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

শতভাগ অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের কাজ শুরুর পর অর্ধ-যুগ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি হলের কাজ। কয়েক দফা কাজের মেয়াদ বাড়ালেও পুরোপুরি কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আর বিলম্বের জন্য শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উদাসীনতাকে দায়ী করছে বিশ্ববিদ্যালয়  প্রশাসন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে হল একটা প্রাণের দাবি। বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনের পর একমাত্র আবাসিক হল ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ ছাত্রী হল স্থাপনের ছাড়পত্র পেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালটি।

হল প্রকল্পের প্রথম মেয়াদের কাজ ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত চলে। এরপর জুন ২০১৩ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদের কাজ চলে। পরবর্তীতে জুন ২০১৬ থেকে জুন ২০১৮ সালের পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের জুন পেরিয়ে গেলেও নিদিষ্ট সময়ে হল বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দিতে পারেনি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, সরকারি কোন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মেয়াদ দু’বারের বেশি বাড়ানো হয় না। কিন্তু জগন্নাথের হলটির মেয়াদ বিশেষ বিবেচনায় তিনবার বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের জুনের ৩০ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হলটি বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবারও সময় মতো কাজ শেষ করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতাকে। আর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে স্থানীয় সমস্যার কথা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢিলেঢালাভাবে চলছে হলটির নির্মাণকাজ। ১৫ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই দিলেও এখনও অনেক কাজ বাকি।

নির্মাণাধীন ভবনটি ১৬ তলা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ১১১টি কক্ষ, একটি লাইব্রেরি, একটি ক্যান্টিন, একটি ডাইনিং, প্রতি তলায় সাতটি করে টয়লেট, আটটি গোসলখানা, ছাত্রীদের ওঠা নামার জন্য চারটা লিফট লাগানো হবে।

এগুলোর আংশিক কাজ হলেও বেশির ভাগ কাজই এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। দরজা, জানালা, পানির পাইপ কিছুই লাগানো হয়নি। এছাড়া লিফট, গ্যাস লাইন ও পানির জন্য দরপত্রও করা হয়নি।

তবে কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরোপুরি হল বুঝিয়ে দিতে আরও ১০ থেকে ১২ মাস লাগবে বলে জানান নির্মাণাধীন এক শ্রমিক।

প্রকল্পের দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হল নির্মাণে দায়িত্বরত প্রকল্প ব্যবস্থাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকল্পটি ২০১১ সালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৪ সালে আমাদের হাতে বুঝিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবছরের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ভবনের কাজ করার জন্য আশপাশে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন সেই পরিমাণ পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই একপাশ থেকেই কাজ চালাতে হয়েছে।

একইসাথে মালামাল রাখার জায়গার সংকট এবং বিভিন্ন সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে তিনি দায়ী করেন। তিনি আশা করেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

জাবি ভিসির সাংবাদিক লাঞ্ছনায় জবিসাসের নিন্দা

জাবি ভিসির সাংবাদিক লাঞ্ছনায় জবিসাসের নিন্দা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জবিসাস)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য ফারজানা ইসলাম কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছনা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জবিসাস)।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহসান জোবায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জবিসাস সভাপতি হুমায়ুন কবির হুমু ও সাধারণ সম্পাদক লতিফুল ইসলামের পক্ষ থেকে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

জানা যায়, জাবি উপাচার্য কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আলো ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম সীমান্ত গত ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে চাইলে উপাচার্য তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। ‘এমন প্রশ্ন করার সাহস কোথায় পেলে’ বলে সাংবাদিকদের ধমকাতে থাকেন। এ সময় উপাচার্য প্রক্টরকে সাংবাদিক দুজনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শৃঙ্খলা বিধিতে ব্যবস্থা নিতে বলেন এবং তাদের বিভাগীয় সভাপতিকে ডেকে পাঠান।

এক পর্যায়ে উপাচার্য সাংবাদিক দুজনের ছবি তুলে রাখার নির্দেশ দিলে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম তাদের ছবি তুলে রাখেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে ধমকাধমকি করেন এবং নানা হুমকি দেন।

বিবৃতিতে জবিসাস নেতারা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এ হেন অপেশাদার ও অশোভনমূলক আচরণ কোনভাবেই কাম্য নয়। বিভাগীয় সভাপতিকে ডেকে আনা ও সাংবাদিকদের ছবি তুলে রাখা চরম অশোভন ও তাদের শিক্ষাজীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম শিগগিরই সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসে ন্যক্কারজনক এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এ ধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসবেন বলে আহ্বান জানান জবিসাস নেতারা।

প্রশ্ন করা যাবে না জাবি উপাচার্যকে!

প্রশ্ন করা যাবে না জাবি উপাচার্যকে!
জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিককে হেনস্থা করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি প্লাবন তারিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হেনস্থার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম সীমান্ত।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বণ্টনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান তারা। পরে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উপাচার্য।

এসময় বিভিন্ন প্রশ্ন করার পর এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে চান তারা। এ প্রশ্ন করামাত্র উপাচার্য সাংবাদিকদের উপর প্রচণ্ড রেগে যান তিনি। এমন প্রশ্ন করার সাহস কোথায় পেল বলে সাংবাদিকদেরকে ধমকাতে থাকেন তিনি।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে জানালে উপাচার্য তথ্যের সোর্স বলতে বলেন। কিন্তু সাংবাদিকরা সোর্সের গোপনীয়তা রক্ষা করার স্বার্থে সোর্সের নাম বলেননি। এতে উপাচার্য আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরকে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ছাত্র-শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এছাড়া উপাচার্য তাদের বিভাগীয় সভাপতিকে ডেকে পাঠান। এক পর্যায়ে উপাচার্য তাদের ছবি তুলে রাখার নির্দেশ দিলে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম তাদের ছবি তুলে রাখেন।

এসময় তাদেরকে নানা হুমকি প্রদান করেন উপাচার্য। এছাড়া উপাচার্যের কার্যালয়ে থাকা কয়েকজন শিক্ষক ও উপাচার্যের সঙ্গে তালমিলিয়ে হুমকি দিতে থাকেন বলে জানান তারা।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি প্লাবন তারিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে যেকোন অভিযোগ উঠলে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করার পূর্ণ অধিকার সাংবাদিকদের রয়েছে। প্রশ্ন করার কারণে উপাচার্য কোনভাবেই সাংবাদিকদের উপর রেগে যেতে পারেননা।’

এছাড়া তারা অচিরেই প্রশাসনকে এধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র