Alexa

সাত বছরে শেষ হয়নি জবির হলের কাজ

সাত বছরে শেষ হয়নি জবির হলের কাজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো / ছবিঃ সংগৃহীত

শতভাগ অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের কাজ শুরুর পর অর্ধ-যুগ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি হলের কাজ। কয়েক দফা কাজের মেয়াদ বাড়ালেও পুরোপুরি কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আর বিলম্বের জন্য শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উদাসীনতাকে দায়ী করছে বিশ্ববিদ্যালয়  প্রশাসন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে হল একটা প্রাণের দাবি। বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনের পর একমাত্র আবাসিক হল ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ ছাত্রী হল স্থাপনের ছাড়পত্র পেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালটি।

হল প্রকল্পের প্রথম মেয়াদের কাজ ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত চলে। এরপর জুন ২০১৩ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদের কাজ চলে। পরবর্তীতে জুন ২০১৬ থেকে জুন ২০১৮ সালের পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের জুন পেরিয়ে গেলেও নিদিষ্ট সময়ে হল বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দিতে পারেনি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, সরকারি কোন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মেয়াদ দু’বারের বেশি বাড়ানো হয় না। কিন্তু জগন্নাথের হলটির মেয়াদ বিশেষ বিবেচনায় তিনবার বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের জুনের ৩০ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হলটি বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবারও সময় মতো কাজ শেষ করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতাকে। আর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে স্থানীয় সমস্যার কথা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢিলেঢালাভাবে চলছে হলটির নির্মাণকাজ। ১৫ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই দিলেও এখনও অনেক কাজ বাকি।

নির্মাণাধীন ভবনটি ১৬ তলা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ১১১টি কক্ষ, একটি লাইব্রেরি, একটি ক্যান্টিন, একটি ডাইনিং, প্রতি তলায় সাতটি করে টয়লেট, আটটি গোসলখানা, ছাত্রীদের ওঠা নামার জন্য চারটা লিফট লাগানো হবে।

এগুলোর আংশিক কাজ হলেও বেশির ভাগ কাজই এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। দরজা, জানালা, পানির পাইপ কিছুই লাগানো হয়নি। এছাড়া লিফট, গ্যাস লাইন ও পানির জন্য দরপত্রও করা হয়নি।

তবে কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরোপুরি হল বুঝিয়ে দিতে আরও ১০ থেকে ১২ মাস লাগবে বলে জানান নির্মাণাধীন এক শ্রমিক।

প্রকল্পের দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হল নির্মাণে দায়িত্বরত প্রকল্প ব্যবস্থাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকল্পটি ২০১১ সালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৪ সালে আমাদের হাতে বুঝিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবছরের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ভবনের কাজ করার জন্য আশপাশে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন সেই পরিমাণ পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই একপাশ থেকেই কাজ চালাতে হয়েছে।

একইসাথে মালামাল রাখার জায়গার সংকট এবং বিভিন্ন সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে তিনি দায়ী করেন। তিনি আশা করেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ক্যাম্পাস এর আরও খবর