Alexa

জাবিতে ছাত্রলীগের তিন কর্মী বহিষ্কার, নেই নোটিশ

জাবিতে ছাত্রলীগের তিন কর্মী বহিষ্কার, নেই নোটিশ

জাহাঙ্গীরনগর ও ছাত্রলীগ লোগো / ছবিঃ সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে শাখা ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে আজীবন বহিষ্কার করার পর পূর্বের সাময়িক বহিষ্কারের নোটিশ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে আজীবন বহিষ্কার ও অপর দু’জনকে দু’বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

বহিষ্কৃত তিন ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ছিনতাইয়ের অভিযোগে একবার সাময়িক ও শেষবার আজীবন বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে সিন্ডিকেট কমিটি।

কিন্তু বহিষ্কারাদেশ দেয়ার পর ৩ দিন অতিক্রম হলেও আজ পর্যন্ত আজীবন বহিষ্কারের নোটিশ প্রকাশ হয় নি। তবে আজীবন বহিষ্কারের ২০ দিন পূর্বের সাময়িক বহিষ্কারের নোটিশ দিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন বেখেয়ালি ও ধীরগতির জন্য সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে। অনেকে আবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।

জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় বহিরাগত যুগলকে মারধর ও ছিনতাইয়ের এক ঘটনায় বাঁধা দিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত এক সাংবাদিক ও তার বান্ধবীকে মারধর করে অন্তত ৮-৯জন ছাত্রলীগ কর্মী।

মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন; নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নেজাম উদ্দিন নিলয়, বাংলা বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভাশীষ ঘোষ, লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইয়ারাফিউ শিকদার, সোহেল রানা, মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনুল ইসলাম ও ইফতেখার উদ্দিন।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক তদন্তে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতাবলে ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যার কপি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কিন্তু সাময়িক বহিষ্কারাদেশ ঘোষণার মাত্র দু’ঘন্টার মাথায় ছাত্রলীগের চাপে ৭ জন থেকে নেজাম উদ্দিন নিলয়, আমিনুল ইসলাম ও ইফতেখার উদ্দিনকে বাদ দিয়ে অপর ৪ জনকে সাময়িক বহিষ্কারের নতুন অফিস আদেশ জারি করে প্রশাসন।

বাদ পড়া  তিন ছাত্রলীগ কর্মী হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী ও আসন্ন হল কমিটিতে বড় পদ প্রত্যাশী। আর বহিষ্কৃত চারজন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী বলে শিক্ষার্থীদের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে।

সাময়িক বহিষ্কারাদেশের পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের চাপে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে তাদের বহিষ্কার আদেশও তুলে নিতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

পরবর্তীতে ৩১ অক্টোবর ডিসিপ্লিন বোর্ডের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় আবারো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারী ওই চার জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

কিন্তু ৭ তারিখের সিন্ডিকেট সভা চার ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিস্কার করলেও তার নোটিশ জারি করতে গড়িমসি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৭ তারিখের সিন্ডিকেটের বহিষ্কারাদেশের অফিস আদেশ প্রকাশ করে ২৬ তারিখে।

এর মাঝে পূর্ব অভিযুক্ত চারজনের মধ্য ইয়ারাফিউ শিকদার, সোহেল রানা, মোস্তাফিজুর রহমানসহ আসিফ আহমেদ ও সজীব গাজীকে ছিনতাই ও মারধরের ঘটনায় আবারো আটক করা হয়।

গত ২৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাকর্মীরা তাদেরকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সোর্পদ করে। 

এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে আজীবন ও ২ জনকে ২ বছরের বহিষ্কারের সুপারিশ করে। একইদিন সন্ধ্যায় জরুরী সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কারের সুপারিশটি পাশ করে।

কিন্তু আজীবন বহিষ্কারাদেশের নোটিশ জারি করার পরিবর্তে একইদিন (২৬ নভেম্বর) পূর্বের সাময়িক বহিষ্কারাদেশের নোটিশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নোটিশ জারির ইস্যুতে দায়িত্বের অবহেলা করছে কিনা এমন প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘দায়িত্ব অবহেলা করছি এটা ঠিক না, আমাদের অনেকগুলো কাজ হাতে ছিলো যার কারণে আদেশ জারি করতে দেরি হয়েছে। তবে আমরা আজীবন বহিষ্কার করার আগেই সাময়িক বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি।’

 

আপনার মতামত লিখুন :