Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

জাবিতে ছাত্রলীগের তিন কর্মী বহিষ্কার, নেই নোটিশ

জাবিতে ছাত্রলীগের তিন কর্মী বহিষ্কার, নেই নোটিশ
জাহাঙ্গীরনগর ও ছাত্রলীগ লোগো / ছবিঃ সংগৃহীত
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে শাখা ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে আজীবন বহিষ্কার করার পর পূর্বের সাময়িক বহিষ্কারের নোটিশ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে আজীবন বহিষ্কার ও অপর দু’জনকে দু’বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

বহিষ্কৃত তিন ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ছিনতাইয়ের অভিযোগে একবার সাময়িক ও শেষবার আজীবন বহিষ্কারাদেশ দিয়েছে সিন্ডিকেট কমিটি।

কিন্তু বহিষ্কারাদেশ দেয়ার পর ৩ দিন অতিক্রম হলেও আজ পর্যন্ত আজীবন বহিষ্কারের নোটিশ প্রকাশ হয় নি। তবে আজীবন বহিষ্কারের ২০ দিন পূর্বের সাময়িক বহিষ্কারের নোটিশ দিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন বেখেয়ালি ও ধীরগতির জন্য সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে। অনেকে আবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।

জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় বহিরাগত যুগলকে মারধর ও ছিনতাইয়ের এক ঘটনায় বাঁধা দিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত এক সাংবাদিক ও তার বান্ধবীকে মারধর করে অন্তত ৮-৯জন ছাত্রলীগ কর্মী।

মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন; নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নেজাম উদ্দিন নিলয়, বাংলা বিভাগের ৪৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভাশীষ ঘোষ, লোক প্রশাসন বিভাগের ৪৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইয়ারাফিউ শিকদার, সোহেল রানা, মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনুল ইসলাম ও ইফতেখার উদ্দিন।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক তদন্তে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্বাহী ক্ষমতাবলে ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যার কপি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কিন্তু সাময়িক বহিষ্কারাদেশ ঘোষণার মাত্র দু’ঘন্টার মাথায় ছাত্রলীগের চাপে ৭ জন থেকে নেজাম উদ্দিন নিলয়, আমিনুল ইসলাম ও ইফতেখার উদ্দিনকে বাদ দিয়ে অপর ৪ জনকে সাময়িক বহিষ্কারের নতুন অফিস আদেশ জারি করে প্রশাসন।

বাদ পড়া  তিন ছাত্রলীগ কর্মী হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী ও আসন্ন হল কমিটিতে বড় পদ প্রত্যাশী। আর বহিষ্কৃত চারজন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী বলে শিক্ষার্থীদের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে।

সাময়িক বহিষ্কারাদেশের পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের চাপে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে তাদের বহিষ্কার আদেশও তুলে নিতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

পরবর্তীতে ৩১ অক্টোবর ডিসিপ্লিন বোর্ডের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় আবারো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারী ওই চার জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

কিন্তু ৭ তারিখের সিন্ডিকেট সভা চার ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিস্কার করলেও তার নোটিশ জারি করতে গড়িমসি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৭ তারিখের সিন্ডিকেটের বহিষ্কারাদেশের অফিস আদেশ প্রকাশ করে ২৬ তারিখে।

এর মাঝে পূর্ব অভিযুক্ত চারজনের মধ্য ইয়ারাফিউ শিকদার, সোহেল রানা, মোস্তাফিজুর রহমানসহ আসিফ আহমেদ ও সজীব গাজীকে ছিনতাই ও মারধরের ঘটনায় আবারো আটক করা হয়।

গত ২৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাকর্মীরা তাদেরকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সোর্পদ করে। 

এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনকে আজীবন ও ২ জনকে ২ বছরের বহিষ্কারের সুপারিশ করে। একইদিন সন্ধ্যায় জরুরী সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কারের সুপারিশটি পাশ করে।

কিন্তু আজীবন বহিষ্কারাদেশের নোটিশ জারি করার পরিবর্তে একইদিন (২৬ নভেম্বর) পূর্বের সাময়িক বহিষ্কারাদেশের নোটিশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নোটিশ জারির ইস্যুতে দায়িত্বের অবহেলা করছে কিনা এমন প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘দায়িত্ব অবহেলা করছি এটা ঠিক না, আমাদের অনেকগুলো কাজ হাতে ছিলো যার কারণে আদেশ জারি করতে দেরি হয়েছে। তবে আমরা আজীবন বহিষ্কার করার আগেই সাময়িক বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি।’

 

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি
ইবিতে প্রতিবাদ র‍্যালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২১ আগস্ট) ক্যাম্পাসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়। এরপর র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে বেলা ১২টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক শাসুজ্জামান খান।

বায়ো টেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শানিহনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়া স্বাগত বক্তা ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

এদিকে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। মানববন্ধনে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের মধ্যে যাদেরকে এখনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাদের শাস্তি কার্যকরে জোর দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুর ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি
জাবিতে ২১ আগস্টের হামলায় জড়িত খুনিদের প্রতীকী ফাঁসি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে গ্রেনেড হামলায় জড়িত তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও হারিস চৌধুরীকে প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্বর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।

প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, '২০০৪ সালের আগস্টের এই দিনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্যদিয়ে দেশকে অন্ধকারে পতিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দেশনেত্রীকে তারা হত্যা করতে পারেনি। সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ২১ আগস্টের ভয়াল এই হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জড়িত ছিল। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।'

এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুইশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র