Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

'আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে'- প্রক্টরকে ঢাবি শিক্ষার্থীর পত্র

'আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে'- প্রক্টরকে ঢাবি শিক্ষার্থীর পত্র
প্রক্টরকে লেখা ঢাবি শিক্ষার্থীর জরিমানা মওকুফের আবেদনপত্র /ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

টাকার অভাবে পরীক্ষা দিতে পারবেন না এমন হতাশা থেকে ‘আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে' উল্লেখ করে প্রক্টরের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী।

'জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন' শিরোনামে বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানীর কাছে একটি চিঠি জমা দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ সোহেল রানা।

প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী ঐ ছাত্রের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে সোহেল রানা লিখেছেন, ‘৭ম সেমিস্টারে ৪০১ নং কোর্সের জন্য ডিনস কমিটি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। আমার বাবা হার্ট অ্যাটাকের রোগী, যার উপর পরিবারের সবাই নির্ভরশীল। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সবাই পরীক্ষা দিলেও আমি টাকার অভাবে না দিতে পারায় হতাশায় ভুগছি। হতাশা থেকে আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বার্তা২৪কে বলেন, 'আমরা বিষয়টি দেখছি। টাকার অভাবে আত্মহত্যা করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। ছেলেটিকে চিকিৎসা ও সহযোগিতা করার জন্য ছেলেটির খোঁজ নিচ্ছি।'

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, 'টাকার অভাবে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবে না বা আত্মহত্যা করবে তা হতে দেওয়া যাবে না। ছেলেটাকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য তার হল প্রাধ্যক্ষ ও বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি এবং তার খোঁজ নিয়ে দেখছি।'

সোহেল রানা এমন সময় প্রক্টরকে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন যখন কিনা গণমাধ্যমে একের পর এক ঢাবি শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। যেখানে চলতি মাসের ১২ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

উল্লেখ্য, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের (চতুর্থ বর্ষ) শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার সময় গত ১৪ মে ‘যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি’ (৪০১ নং) নামক কোর্সটির পরীক্ষা দিতে পারেননি। এই জন্য পরীক্ষার ফলাফলে সবাইকে অকৃতকার্য দেখানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঐ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আর নেবে না বলে ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে অন্তত অর্ধ শতবার ধরনা দেন। অবশেষে গত ২০ নভেম্বর ডিনস কমিটির সভায় ৬১ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি
ইবিতে প্রতিবাদ র‍্যালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২১ আগস্ট) ক্যাম্পাসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়। এরপর র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে বেলা ১২টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক শাসুজ্জামান খান।

বায়ো টেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শানিহনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়া স্বাগত বক্তা ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

এদিকে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। মানববন্ধনে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের মধ্যে যাদেরকে এখনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাদের শাস্তি কার্যকরে জোর দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুর ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি
জাবিতে ২১ আগস্টের হামলায় জড়িত খুনিদের প্রতীকী ফাঁসি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে গ্রেনেড হামলায় জড়িত তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও হারিস চৌধুরীকে প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্বর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।

প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, '২০০৪ সালের আগস্টের এই দিনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্যদিয়ে দেশকে অন্ধকারে পতিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দেশনেত্রীকে তারা হত্যা করতে পারেনি। সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ২১ আগস্টের ভয়াল এই হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জড়িত ছিল। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।'

এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুইশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র