Alexa

'আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে'- প্রক্টরকে ঢাবি শিক্ষার্থীর পত্র

'আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে'- প্রক্টরকে ঢাবি শিক্ষার্থীর পত্র

প্রক্টরকে লেখা ঢাবি শিক্ষার্থীর জরিমানা মওকুফের আবেদনপত্র /ছবি: সংগৃহীত

টাকার অভাবে পরীক্ষা দিতে পারবেন না এমন হতাশা থেকে ‘আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে' উল্লেখ করে প্রক্টরের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী।

'জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন' শিরোনামে বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানীর কাছে একটি চিঠি জমা দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ সোহেল রানা।

প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী ঐ ছাত্রের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে সোহেল রানা লিখেছেন, ‘৭ম সেমিস্টারে ৪০১ নং কোর্সের জন্য ডিনস কমিটি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। আমার বাবা হার্ট অ্যাটাকের রোগী, যার উপর পরিবারের সবাই নির্ভরশীল। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সবাই পরীক্ষা দিলেও আমি টাকার অভাবে না দিতে পারায় হতাশায় ভুগছি। হতাশা থেকে আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বার্তা২৪কে বলেন, 'আমরা বিষয়টি দেখছি। টাকার অভাবে আত্মহত্যা করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। ছেলেটিকে চিকিৎসা ও সহযোগিতা করার জন্য ছেলেটির খোঁজ নিচ্ছি।'

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, 'টাকার অভাবে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবে না বা আত্মহত্যা করবে তা হতে দেওয়া যাবে না। ছেলেটাকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য তার হল প্রাধ্যক্ষ ও বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি এবং তার খোঁজ নিয়ে দেখছি।'

সোহেল রানা এমন সময় প্রক্টরকে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন যখন কিনা গণমাধ্যমে একের পর এক ঢাবি শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। যেখানে চলতি মাসের ১২ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

উল্লেখ্য, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের (চতুর্থ বর্ষ) শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার সময় গত ১৪ মে ‘যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি’ (৪০১ নং) নামক কোর্সটির পরীক্ষা দিতে পারেননি। এই জন্য পরীক্ষার ফলাফলে সবাইকে অকৃতকার্য দেখানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঐ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আর নেবে না বলে ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে অন্তত অর্ধ শতবার ধরনা দেন। অবশেষে গত ২০ নভেম্বর ডিনস কমিটির সভায় ৬১ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা সাপেক্ষে পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :