Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবন যাপন

আবাসন সংকটে শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবন যাপন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট / ছবিঃ বার্তা২৪
ইবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। প্রতিষ্ঠার পর ৩৯ বছর পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ আবাসিক হওয়ার কথা থাকলেও আজও সেটা হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর প্রায় ৭৫ ভাগই আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী মেস কিংবা বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। এসব মেস ও বাসাগুলোতে পরিবেশ নিম্নমানের, প্রতিনিয়ত লোডশেডিং এবং ন্যূনতম সুবিধা না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মেস কিংবা বাসাভাড়া করে থাকেন। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যথাক্রমে ২৪ ও ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন বাসে করে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয় পাশাপাশি পড়াশুনার ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরানুর রহমান বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি কিংবা শীত উপেক্ষা করে আমাদের ক্যাম্পাসে আসতে হয়। প্রতিদিন যাতায়াতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয় এতে আমাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত করে’।

প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছর পার করলেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখন পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে মাত্র ৭টি হল। এরমধ্যে চারটি ছাত্র ও তিনটি ছাত্রী হল। এছাড়া শেখ রাসেল হল নামে একটি ছাত্র হল নির্মাণাধীন রয়েছে। সবমিলিয়ে, সাতটি হলের আসন সংখ্যা মাত্র দুই হাজার ৭৭৫টি।

সাদ্দাম হোসেন হলে ৪৭৫, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৪০০, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৩৬৪, লালন শাহ্ হলে ৩৮৮, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩৯৮, বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ৪৮০ জন ও শেখ হাসিনা হলে ২৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন সুবিধা রয়েছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আবাসিক হলগুলো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ক্ষমতায় থাকা দলের ছাত্র সংগঠনগুলো আবাসিক হলসমূহ নিয়ন্ত্রন করে আসছে। বিশেষ করে ছাত্র হল। ছাত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রনে থাকার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিট পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর ছত্র ছায়া ছাড়া হলে সিট পাওয়া মুশকিল বলেও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ্ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবাসিক ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দলমতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তাই বলে তারা কি হলের আবাসিক ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হবে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

আবাসন সংকটের কারণে ছাত্রদের থেকে ছাত্রীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ছাত্রীদের হলের অনেক রুমে একসিটে দুজনকে থাকতে হচ্ছে বলে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ৪৮০টি আসনের বিপরীতে রয়েছে ৭০০ জন, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩৯৮ আসনের বিপরীতে রয়েছে ৭২১ জন এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে ২৬০ আসনের বিপরীতে রয়েছে ৩৮৭ জন ছাত্রী রয়েছে। এতে প্রতি আসনেই প্রায় দুজন করে ছাত্রীকে থাকতে হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/29/1543465561822.gif

এছাড়া হলে নতুন ছাত্রীদের জন্য রয়েছে গণরুমের ব্যবস্থা। প্রতিটি গণরুমে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে একসাথে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। হলের বড় আপুরা প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের গণরুমে থাকতে বাধ্য করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বেগম ফজিলাতুনন্নেসা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফারজানা ত্বন্নি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সব থেকে বেশি ভাবতে হয় থাকার সমস্যা নিয়ে। একরুমে গাদাগাদি করে থাকার কারণে আমরা ঠিকমত পড়াশুনা ও ঘুমানোর সুযোগ পায় না। কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের আবাসন সংকটের বিষয়টি আমলে নিলে হয়ত আমরা এই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতাম।

আবাসন সংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি ও সাদ্দাম হোসেন হলের বর্তমান প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বার্তা২৪কে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট চরম পর্যায়ে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষ করে মেয়েরা নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বেশি হলমুখি হচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন হলের সমস্যাটি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে’।

এদিকে আবাসন সংকটের কথা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বার্তা২৪কে বলেন, ‘পরিবহন নির্ভর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন ব্যবস্থা একটি বড় সংকট। তবে সংকটের কবলে বেশি দিন থাকতে হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। আমাদের ৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টে ৪ টি বহুতল হল পাশ হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। এতে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা ভোগ করতে পারবে’।

 

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি
ইবিতে প্রতিবাদ র‍্যালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২১ আগস্ট) ক্যাম্পাসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়। এরপর র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে বেলা ১২টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক শাসুজ্জামান খান।

বায়ো টেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শানিহনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়া স্বাগত বক্তা ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

এদিকে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। মানববন্ধনে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের মধ্যে যাদেরকে এখনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাদের শাস্তি কার্যকরে জোর দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুর ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি
জাবিতে ২১ আগস্টের হামলায় জড়িত খুনিদের প্রতীকী ফাঁসি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে গ্রেনেড হামলায় জড়িত তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও হারিস চৌধুরীকে প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্বর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।

প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, '২০০৪ সালের আগস্টের এই দিনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্যদিয়ে দেশকে অন্ধকারে পতিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দেশনেত্রীকে তারা হত্যা করতে পারেনি। সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ২১ আগস্টের ভয়াল এই হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জড়িত ছিল। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।'

এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুইশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র