গার্ডকে মারলেন শাবিপ্রবির ছাত্রলীগ নেতা

শাবিপ্রবির মূল ফটক, ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক গার্ডকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অসামাজিক কাজে বাধা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ হোসেন রনি নামে এক ছাত্রলীগ নেতা গার্ডকে মারধর করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রনির বিরুদ্ধে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী গার্ড লিটন দেব।

অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী লিটন দেব উল্লেখ করেন, 'গত মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পার্শ্ববর্তী গাজী কালুর টিলায় ডিউটি করার সময় অসামাজিক অবস্থায় বহিরাগত এক যুগলকে পান তিনি। তাদেরকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যেতে চাইলে তারা নিজেদেরকে ওসমানি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন এবং ছাত্রলীগ নেতা রনি’র পরিচিত বলে দাবি করেন।'

এসময় তারা রনিকে কল দিয়ে শহীদ মিনারের সামনে নিয়ে আসে এবং রনি এসে তাদেরকে ছেড়ে দিতে বলে। তাদেরকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যেতে চাইলে এ সময় রনি গার্ডের কানে জোরে জোরে চড় দেন, মাথায় আঘাত করে ও বুকে ঘুষি মারেন। মারধরের কথা প্রক্টরকে জানালে ঐ গার্ডের চাকরি খেয়ে ফেলবেন বলে হুমকি প্রদান করেন রনি। এ সময় ঐ যুগলকে অটোরিকশায় তুলে দেইয় ছাত্রলীগ নেতা।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, কানে আঘাত পাওয়ার ফলে তার কান থেকে পানি পড়ছে এবং বাম কানে শুনতে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে বুকে ঘুষির ফলে তিনি বুকে ব্যথা পান। অভিযোগ পত্রে ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেন গার্ড।

যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি অস্বীকার করে আসিফ হোসেন রনি বলেন, ‘ঐ গার্ডের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সে অনেককে পুলিশে এবং প্রক্টরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। ওই দিন গার্ড মেয়েটির সাথে বাজে ব্যবহার করেছিল যার কারণে তাকে আমি একটি চড় মারি। তার দায়িত্ব হচ্ছে চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ করা, কোনো ছেলে মেয়ে হাত ধরে বসে থাকলে তা দেখা তার দায়িত্ব নয়।’

এবিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কর্তৃক একজন গার্ডকে মারধর করা খুব নিন্দনীয় কাজ। বিষয়টি আমি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্যারকে জানিয়েছি। তদন্ত করে ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে সহকারী প্রক্টর সামিউল ইসলামকে প্রধান করে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল ও মোঃ শাকিল ভূঁইয়া। কমিটিকে অতিদ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নৃবিজ্ঞান বিভাগ ও আইপিই বিভাগের সংঘর্ষে এক সহকারী প্রক্টরকে লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছিল রনি’র বিরুদ্ধে। এজন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল।

 

ক্যাম্পাস এর আরও খবর

//election count down