Alexa

ছিনতাই আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা, উদাসীন জাবি প্রশাসন

ছিনতাই আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা, উদাসীন জাবি প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেইন গেট থেকে সিঅ্যান্ডবি এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সর্বশান্ত হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেক পথচারীদের। মোবাইল, টাকাসহ সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। আবার অনেক সময় জখম হতে হয় তাদের হাতে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের পূর্বে সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা ‘সংরক্ষিত এলাকা’। তবে এ এলাকায় ছিনতাইকারি ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম চরমে। ফলে অনেকে মনে করছেন এলাকাটি অপরাধ চক্রের জন্য সংরক্ষিত।

সর্বশেষ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মীর মশাররফ হোসেন হল গেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেটের মাঝামাঝি এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান ৩৬তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম হঠ্যাৎ কারা যেন এসে সিনেমার কৌশলে পেছন থেকে একজন আমাকে ঝাপটে ধরে। অন্য একজন সামনে থেকে আমার গলায় চাপাতি ধরে রাখে। আমার কাছে যা কিছু আছে দিয়ে দিতে বললো। না হলে আঘাত করার হুমকি দিলো। আমি ভয় পেয়ে আমার কাছে থাকা সবকিছু দিয়ে দিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে বিস্তারিত জানিয়েছি।’

এছাড়া আরও জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর একই এলকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থী রংপুরের আশিক।

তিনি বলেন, ‘মীর মশাররফ হোসেন হলের গেট পার হওয়ার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখে কাপড় বাঁধা তিন ব্যক্তি আমার পেছন থেকে গলায় ছুরি ধরে। এ সময় আমার কাছ থাকা একটি মোবাইল ফোন এবং টাকা নিয়ে যায় তারা।’

এছাড়া গত ১২ ডিসেম্বর এ এলাকায় ৩ জন সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী ছিনতাইয়ের শিকার হন। গত নভেম্বর মাসে এ এলাকায় ১০টিরও বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘঠেছে বলে জানা যায়।

এর আগে গতবছরের ১৬ অক্টোবর ড্যাফডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার বিভাগের ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফাহিম ছিনতাইকারীদের হাতে গুরুতর জখমের শিকার হন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান নিরপত্তা কর্মকর্তা সুদিপ্ত শাহীন বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে। তাই সেখানে কিছুই করার থাকে না আমাদের। তবে এটা বলে আমরা দ্বায় এড়িয়ে যেতে পারি না। এই এলকা কখনো নিরাপদ ছিলো না। তবে বেশ কিছুদিন ধরে খুব বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা জেলা পুলিশের সঙ্গে বসেছি। আশা করি সমাধান হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিকদার মো. জুলাকারনাইন বলেন, ‘ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে ইতোমধ্য আমরা ঢাকা জেলা পুলিশকে চিঠি দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিবো। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. রেজাউল হক বলেন, ‘নিয়মিত ছিনতাই হচ্ছে এমনটা নয় তবে মাঝেমাঝে হচ্ছে। এই এলাকায় আমাদের পুলিশ টহল সবসময় থাকে। তবে আমাদের কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। অপরাধীকে পাকড়াও করার পরে বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে তখন আমাদের আর কিছু করার থাকে না। অনেক সময় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাঁধার সম্মুখিন হই।’

আপনার মতামত লিখুন :