Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

সংঘাত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে- মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সংঘাত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে- মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলা, ছবি: বার্তা২৪
ঢাবি করেসপনডেন্ট
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

সংঘাত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ধারণ করে৷ তাই আমি সবাইকে আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করছি।

আজ শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার।

মাঠ পেরিয়ে ঘাট পেরিয়ে আলোর মিছিল চলছে বেশ। খুঁজছে শান্তি, খুঁজছে শান্তি, শান্তি জিতলে জিতবে দেশ!' স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যৌথভাবে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইউএসএ ভিত্তিক এনজিও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করছি। এ জন্য সকল দলকে সহিংসতা এড়িয়ে দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করতে হবে।'

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'সারা দেশে সব দল যাতে নিরাপদে প্রচারণা এবং শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা উচিত ৷ কারণ এটি উন্নত গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য৷ আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের এক অভাবনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা উদযাপন করতে যাচ্ছে ৷'

তরুণদের উদ্দেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, 'পৃথিবী তরুণদের ওপর নির্ভরশীল৷ তরুণরাই পারে পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে। অন্যায় দেখলে তরুণরাই তা প্রতিরোধ করতে পারে এবং বদলে দিতে পারে৷ তরুণের শক্তি আছে, আছে উদ্যম আর সাহস৷ তরুণের আছে মমতা, দয়া আর ভালোবাসা। আমি এখনও বিশ্বাস করি এই দেশে এখনও এমন অনেক কিছু করার আছে, যা করা হয়নি৷ আমরা ভুল পথে চালিত হই, কারণ আমরা সদস্য সংখ্যা নিয়ে চিন্তা করি৷ পৃথিবীর ইতিহাস প্রমাণ করে, সংখ্যা কোনো ব্যাপার নয়। আমরা চাই, কর্মউদ্দীপক ও উৎসাহী তরুণ সমাজ, যারা পৃথিবীকে পরিবর্তন করবে।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের পরপরই বিতর্কের ফাইনাল পর্ব শুরু হয়। ফাইনাল পর্বে জয়ী হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা কলেজ। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি এসএম রাকিব সিরাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আসাদের সঞ্চালনায় সমাপনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন।

উল্লেখ্য, সকাল ১০টায় দিনব্যাপী এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন টিএসসির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম জিয়াউল হক মামুন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে আসা ১৬টি দল বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দল হিসেবে বিতর্কে অংশ নেয়।

প্রসঙ্গত, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৬ মাস ধরে ‘শান্তিতে বিজয়’ স্লোগানে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। তারা বাংলাদেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জাবি শাখা ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে হোটেল মালিককে মারধরের অভিযোগ

জাবি শাখা ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে হোটেল মালিককে মারধরের অভিযোগ
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী, সুমন জোয়ার্দার, ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক হোটেল মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার সুজন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং সার্ভিসে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম সুমন জোয়ার্দার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ তম ব্যাচের ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী বলে জানা যায়।

সুজন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং সার্ভিসের মালিক মো. সুজন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'রোববার বিকালে সুমন তার বান্ধবীকে নিয়ে আমার দোকানে আসে। এ সময় তার বাড়ি থেকে আনা মাংস গরম করে দিতে বলে। কিন্তু আমাদের গ্যাসের চুলা নিভিয়ে ফেলায় আমরা অস্বীকৃতি জানাই। এরপরও সুমন কয়েকবার আমাকে ডাকে। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে আমি শুনতে পাইনি। পরে তার কাছে গেলে সুমন আমাকে বলে, তোর কানেতো সমস্যা, যাওয়ার সময় ঠিক করে দিয়ে যাব। খাওয়া শেষে বান্ধবীকে নিয়ে চলে যায় সুমন। পরে হলের সাত-আটজন জুনিয়র ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে এসে কাঠের টুকরা দিয়ে আমাকে মারধর করে।'

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন জোয়ার্দার মারধরের ঘটনা স্বীকার করে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দোকানের কাঠের চেলা দিয়ে মারছি। তার দোষের কারণেই মারধর করা হয়েছে। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে সেও মারধর করত।'

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'মাত্র জানতে পারলাম, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দোকানগুলো হলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত হল প্রশাসন নেন। তবে যেহেতু মারধরের ঘটনা ঘটেছে আমরা খোঁজ খবর নেব। এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগপত্র পাইনি।'

৫৯ বছরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

৫৯ বছরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাকৃবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভাযাত্রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

৫৮ পেরিয়ে ৫৯ বছরে পা দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষি ও কৃষি বিজ্ঞানের সকল শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৬১ সালের আজকের এই দিনে (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহে পূর্ব পাকিস্থান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে এ প্রতিষ্ঠানটি। স্বাধীনতার পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশবিদ্যালয় (বাকৃবি)।

ময়মনসিংহ শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে এক হাজার ২০০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠা এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়েছে ৪৭ হাজার ২৬৮ জন কৃষিবিদ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122325068.gif

প্রতিষ্ঠাকালে ভেটেরিনারি ও কৃষি অনুষদ নামে মাত্র দুটি অনুষদ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ছয়টি অনুষদ রয়েছে। কৃষি, ভেটেরিনারি, পশুপালন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের আওতায় ৪৪ বিভাগে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সাত হাজার ১০৩ জন শিক্ষার্থী ও ৫৮১ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে ১৩টি হল।

শোকের মাস আগষ্টের কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তেমন কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না করে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122353373.gif

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাডে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। পরে হ্যালিপ্যাড থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়।

শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মৎস্য খামারের সহযোগিতায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জার্মপ্লাজম সেন্টারের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বনজ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122378559.gif

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস বাস্তবায়ন উপ-কমিটির সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকিরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান।

উপাচার্য বলেন, 'বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করার যে চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছিলাম, তাতে আমরা জয়লাভ করেছি। তবে বর্তমানে দেশে সেইফ ফুড বা খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়টি আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে আমরা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র