Alexa

সংঘাত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে- মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সংঘাত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে- মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলা, ছবি: বার্তা২৪

সংঘাত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ধারণ করে৷ তাই আমি সবাইকে আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করছি।

আজ শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার।

মাঠ পেরিয়ে ঘাট পেরিয়ে আলোর মিছিল চলছে বেশ। খুঁজছে শান্তি, খুঁজছে শান্তি, শান্তি জিতলে জিতবে দেশ!' স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যৌথভাবে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইউএসএ ভিত্তিক এনজিও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করছি। এ জন্য সকল দলকে সহিংসতা এড়িয়ে দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করতে হবে।'

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'সারা দেশে সব দল যাতে নিরাপদে প্রচারণা এবং শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা উচিত ৷ কারণ এটি উন্নত গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য৷ আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের এক অভাবনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা উদযাপন করতে যাচ্ছে ৷'

তরুণদের উদ্দেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, 'পৃথিবী তরুণদের ওপর নির্ভরশীল৷ তরুণরাই পারে পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে। অন্যায় দেখলে তরুণরাই তা প্রতিরোধ করতে পারে এবং বদলে দিতে পারে৷ তরুণের শক্তি আছে, আছে উদ্যম আর সাহস৷ তরুণের আছে মমতা, দয়া আর ভালোবাসা। আমি এখনও বিশ্বাস করি এই দেশে এখনও এমন অনেক কিছু করার আছে, যা করা হয়নি৷ আমরা ভুল পথে চালিত হই, কারণ আমরা সদস্য সংখ্যা নিয়ে চিন্তা করি৷ পৃথিবীর ইতিহাস প্রমাণ করে, সংখ্যা কোনো ব্যাপার নয়। আমরা চাই, কর্মউদ্দীপক ও উৎসাহী তরুণ সমাজ, যারা পৃথিবীকে পরিবর্তন করবে।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের পরপরই বিতর্কের ফাইনাল পর্ব শুরু হয়। ফাইনাল পর্বে জয়ী হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা কলেজ। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি এসএম রাকিব সিরাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আসাদের সঞ্চালনায় সমাপনী বিতর্ক প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন ঢাবি ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন।

উল্লেখ্য, সকাল ১০টায় দিনব্যাপী এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন টিএসসির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম জিয়াউল হক মামুন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে আসা ১৬টি দল বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দল হিসেবে বিতর্কে অংশ নেয়।

প্রসঙ্গত, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৬ মাস ধরে ‘শান্তিতে বিজয়’ স্লোগানে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছে। তারা বাংলাদেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন :