Alexa

ভোট ও শীতের ছুটিতে বাড়ির পথে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

ভোট ও শীতের ছুটিতে বাড়ির পথে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

ছবি: বার্তা২৪

আর মাত্র ৬ দিন পরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই নাড়ির টানে ছুটছে রাজধানীবাসী। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। শীতের ছুটি কাটাতে ও জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে অধিকাংশ তরুণই এখন গ্রামের পথে। যারা এখনো হলে থাকছেন তারা দুই-একদিনের মধ্যে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর শনিবার। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে। তার আগের দিন শুক্রবারও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ায় অনেকে লম্বা ছুটি নিয়েই গ্রামের উদ্দেশ্যে চলে গেছেন। সেই সঙ্গে শীতকালীন ছুটিও শুরু হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত১৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি শুরু হয়েছে। মহান বিজয় দিবস, শীতকালীন এবং যীশুখিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে ১৮ দিনের ছুটি চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশু শুরু হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/23/1545557432888.jpg

রোববার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মহসীন হল ঘুরে দেখা যায়, নিয়মিত শিক্ষার্থীর এক তৃতীয়ংশ ছাত্রও হলে নেই। বেশিরভাগ রুমের দরজায় তালা ঝুলছে। স্বাভাবিক সময়ে ছাত্রদের পদচারণায় মুখর হলটিতে এখন বেশ নিরবতা।

জানতে চাইলে এই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ বার্তা২৪কে বলেন, ‘বছরের শেষ হওয়ায় এই সময় অনেকে বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের ভোটের তারিখও ৩০ ডিসেম্বর তাই অধিকাংশ ছাত্রই বাড়ি চলে গেছে।’ 

ম্যানেজার আলমগীরের মুখও শুকনো। জানতে চাইলাম মুখ শুকনো কেন? ম্যানেজারের স্বগোত্যক্তি, ‘ছাত্র নেই তাই বেঁচাকেনাও নেই। সবাই বাড়িত চলে গেছে।’

ম্যানেজারের কথার সত্যতা পাওয়া যায় হলের উত্তরপাশে দোকানগুলোতে। ভরদুপুরেও ১৩টা দোকানের ৭টাই বন্ধ। ছাত্রদের আনাগোনায় এই জায়গাটুকু সবসময় গমগম করলেও এখন কালেভদ্রে দুয়েকজন কাস্টমারের আনাগোনা দেখা গেল। জানতে চাইলে দোকানদার ওদুদ মিয়া বলেন, ‘ছাত্ররা নেই দেখে অনেক দোকানদারও দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে গেছে। আমরাও আর দুয়েকদিনের মধ্যে বাড়িতে চলে যাব।’

এই চিত্রশুধু মহসীন হলে নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো হলেই একই অবস্থা। মহসীন হলের পাশেই সূর্যসেন হল। ওই হলের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, হলে এখন বাড়ি যাওয়ার আমেজ। একজন আরেকজনকে দেখা হলেই জিজ্ঞেস করে, ‘বাড়ি যাবেন কখন?’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোট নিয়েও রয়েছে দারুণ উচ্ছ্বাস। জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান বার্তা২৪কে বলেন, ‘এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বয়স হয়েছে। মানে ফার্স্ট টাইম ভোটার হয়েছি। তাই এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে চাই। কেন্দ্রের পরিবেশ ভালো থাকলে পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দেব।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ হল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের দখলে। কিন্তু নির্বাচনের মৌসুমে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও হলে নেই। অধিকাংশ নেতা-কর্মী তার নিজ নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে এলাকায় অবস্থান করছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুল্লাহ্ আল জোবায়ের বার্তা২৪কে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে ৩০০ আসনের জন্য ৩০০ টিম করে দেওয়া হয়েছে। তারা এলাকায় গিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে অংশ নিয়েছে। তাই নেতা-কর্মীরাও হল ছেড়ে দিয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :