Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনে মত প্রদানের সময় বৃদ্ধি

ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনে মত প্রদানের সময় বৃদ্ধি
ছবি: বার্তা২৪
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোকে লিখিত পরামর্শ উপস্থাপনের জন্য আগামী সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর দুইটায়  বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই ঘোষণা দেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। এসময়, সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের জন্য উপাচার্য কর্তৃক কমিটিকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এরআগে বেলা ১১টায় সিনেট ভবনের কনফারেন্স হলে ডাকসু গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার জন্যে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি।

এতে উপস্থিত ছিলেন- কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা ও শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা। ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বাম ধারার সংগঠনগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে মিজানুর রহমান বলেন, 'ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রটি সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে সংশোধিত হয়েছিল। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি, তাই সেটি সংশোধনের প্রয়োজনও হয়নি। যেহেতু প্রশাসন শীঘ্রই ডাকসু নির্বাচন দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ তাই একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আজকে সংগঠনগুলো তাদের পরামর্শ দিয়েছে। তবে সময় যথেষ্ট না হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়েছে যেন সংগঠনগুলো তাদের পরামর্শ লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।'

তিনি বলেন, 'মতবিনিময় সভায় নতুন নতুন সম্পাদকের পদ সৃষ্টির দাবি এসেছে। নারী নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রীর পক্ষে একজন প্রতিনিধি থাকে। ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই এবং সভাপতির ক্ষমতা গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অনেকে দাবি করেছেন। একটি ক্ষেত্রে সকলে সমঝোতায় এসেছেন। নির্বাচনে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা প্রার্থী ও ভোটার হতে পারবেন। তবে নিয়মিত শিক্ষার্থী বলতে কী বোঝায় এনিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।'

সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের সমস্যাগুলো কমিটির কাছে তুলে ধরেছি। কমিটির আহ্ববায়ক আমাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো উপাচার্য ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন।'

তিনি বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনের সাথে ডাকসু নির্বাচনের কোনো সম্পার্ক নেই। ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, 'আমরা চাই নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই ডাকসু নির্বাচনে ভোট দেবে। নিয়মিত শিক্ষার্থী বলতে আমরা অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের সহাবস্থান রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না। তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে রাজনীতির চর্চা করে তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাব।'

সভার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, 'ডাকসুর গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধনী প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে আজকের এই সভা। এ সভায়ই সবকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র যাদের ভোটার বলে চিহ্নিত করবে তারাই ভোটার হবে। ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন করার প্রয়াস আছে। সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি।'

ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের জানান।

আপনার মতামত লিখুন :

নিজের অস্ত্রে ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত গুলিবিদ্ধ

নিজের অস্ত্রে ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত গুলিবিদ্ধ
মেশকাত হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন নিজের পকেটে থাকা অস্ত্রে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ হল গেটের ভেতরে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মেশকাত হোসেনের পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘লোডেড অস্ত্র পকেটে নিয়ে ঘুরলে যা হয় আর কি! আরও খারাপ কিছু হতে পারত।’

একটি সূত্র জানায়, মেশকাত সব সময় অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে হল গেটে ঢোকার সময় সম্ভবত অস্ত্র আনলক করা ছিল। তাই অসাবধানে গুলি বের হলে তার ডান পায়ের হাঁটুতে লাগে।

এ ব্যাপারে মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্র সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান খান সোহান জানান, হলে ঢোকার সময় মেশকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। আর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মকবুল হোসেন ঘটনাটি দেখার জন্য লোক পাঠিয়েছেন বলে জানান।

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’
‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনার/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে শিখন-পঠনের নতুন মাধ্যম স্টেম শিক্ষা। এর সহায়তায় এমন এক সুসমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে যাতে তারা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, বাস্তবজ্ঞান, যেকোন কিছুকে ভেঙে তার মূল সমস্যায় পৌঁছাতে পারবে। এজন্য একুশ শতকে স্টেম শিক্ষা অতি জরুরি।

শনিবার (২০ জুলাই) ‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  ড কামাল উদ্দীন আহমেদ, স্টেম বাংলাদেশের আহবায়ক ড আল নাকীব চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি থাকার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, স্টেম শিক্ষা হচ্ছে নতুন উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেকোনো কিছুর অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা অর্জন করে ক্রিটিক্যাল ব্যাখ্যা করতে পারবে।

তিনি বলেন, দারিদ্রতা এবং বৈষম্য দূরীকরণে এটি বড় অবদান রাখতে পারবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি হবে রিয়েল লাইফ সিচুয়েশন অর্থাৎ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে কি ব্যবস্থা নিতে হবে, সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। স্টেমকে স্মার্ট শিক্ষা পদ্ধতি হিসাবেও তিনি মনে করেন।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে স্টেম শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের জীবনের একটি লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ, মানসম্মত, সংঘাতমুক্ত সমাজ ও ভারসাম্য পরিবেশে বসাবস করা। সেজন্য স্টেম শিক্ষা হবে সার্ভাইভাল টেকনিক যেটা প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল খুঁজতে মানুষকে সাহায্য করবে। এই সুবিধা  যাতে সবাই পায় সেজন্য আমরা লাইব্রেরির সুযোগ সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ইত্যাদির প্রতি নজর দিচ্ছি।

অনুৃষ্ঠানে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড জ্যাক হোলব্রুক এবং ড মুহাম্মদ আব হাদী বুনয়ামিন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র