ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনে মত প্রদানের সময় বৃদ্ধি

ছবি: বার্তা২৪

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোকে লিখিত পরামর্শ উপস্থাপনের জন্য আগামী সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর দুইটায়  বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই ঘোষণা দেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। এসময়, সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের জন্য উপাচার্য কর্তৃক কমিটিকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এরআগে বেলা ১১টায় সিনেট ভবনের কনফারেন্স হলে ডাকসু গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার জন্যে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি।

এতে উপস্থিত ছিলেন- কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা ও শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা। ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বাম ধারার সংগঠনগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে মিজানুর রহমান বলেন, 'ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রটি সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে সংশোধিত হয়েছিল। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি, তাই সেটি সংশোধনের প্রয়োজনও হয়নি। যেহেতু প্রশাসন শীঘ্রই ডাকসু নির্বাচন দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ তাই একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আজকে সংগঠনগুলো তাদের পরামর্শ দিয়েছে। তবে সময় যথেষ্ট না হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়েছে যেন সংগঠনগুলো তাদের পরামর্শ লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।'

তিনি বলেন, 'মতবিনিময় সভায় নতুন নতুন সম্পাদকের পদ সৃষ্টির দাবি এসেছে। নারী নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রীর পক্ষে একজন প্রতিনিধি থাকে। ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই এবং সভাপতির ক্ষমতা গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অনেকে দাবি করেছেন। একটি ক্ষেত্রে সকলে সমঝোতায় এসেছেন। নির্বাচনে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা প্রার্থী ও ভোটার হতে পারবেন। তবে নিয়মিত শিক্ষার্থী বলতে কী বোঝায় এনিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।'

সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের সমস্যাগুলো কমিটির কাছে তুলে ধরেছি। কমিটির আহ্ববায়ক আমাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো উপাচার্য ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন।'

তিনি বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনের সাথে ডাকসু নির্বাচনের কোনো সম্পার্ক নেই। ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, 'আমরা চাই নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই ডাকসু নির্বাচনে ভোট দেবে। নিয়মিত শিক্ষার্থী বলতে আমরা অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের সহাবস্থান রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না। তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে রাজনীতির চর্চা করে তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাব।'

সভার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, 'ডাকসুর গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধনী প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে আজকের এই সভা। এ সভায়ই সবকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র যাদের ভোটার বলে চিহ্নিত করবে তারাই ভোটার হবে। ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন করার প্রয়াস আছে। সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি।'

ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের জানান।

ক্যাম্পাস এর আরও খবর