ভর্তি জালিয়াতি, মেধা তালিকায় শীর্ষের ১২ জন আটক!

ছবি: বার্তা২৪

রাব্বী হাসান সবুজ, বেরোবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

ভর্তি জালিয়াতির দায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার ও ভর্তি হতে এসে মোট ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ১২ জনই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে একজন এবং সকালে ভর্তি হতে এসে তিনিজনকে আটক হয়। এর আগে বুধবার (৯ জানুয়ারি) সাক্ষাৎকার দিতে এসে আটজন এবং ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর প্রক্সি পরীক্ষা দিতে এসে একজন আটক হয়।

আটককৃত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। বার্তা২৪কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৩ জন আটক শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জনই মেধা তালিকার শীর্ষে ছিল। শিক্ষার্থীদের জালিয়াতি করার বিষয়টি শিক্ষকরা ধরে ফেলায় প্রশাসন তাদের সকলেরই ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে। পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দাবি, ভর্তির পরেও যদি জালিয়াত শিক্ষার্থী থেকে থাকে তাহলে প্রশাসনের গোপন টিম তাদেরও বের করবে। ইতোমধ্যে প্রশাসন জালিয়াত শিক্ষার্থী সনাক্তকরণের জন্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা ডায়, বুধবার (৯ জানুয়ারি) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাক্ষাৎকার বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আটজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার আরও চারজন শিক্ষার্থী আটক হয়।

বি ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটে মেধাতালিকায় ১ম স্থান অধিকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জের আলতাফ হোসেনের ছেলে মাসুম হাসান, বিজ্ঞান অনুষদে ৪র্থ স্থান অধিকারী ময়মনসিংহ মুক্তাগাছার আবুল কাশেমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ১ম স্থান অধিকারী সিরাজগঞ্জ দেওরামারার সাইফুল ইসলামের ছেলের মাহিদুল ইসলাম মৃদুল, ঐ অনুষদের ৬ষ্ঠ স্থান অধিকারকারী টাঙ্গাইল বিশ্বাস বেতকার আব্দুস সোবহানের ছেলে রেজাউল করিমকে বৃহস্পতিবার আটক করা হয়।

এছাড়া প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে ২য় স্থান অধিকারী নেত্রকোনার মোক্তারপাড়ার জুবায়ের আহমেদ রাকিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে নীলফামারী কিশোরগঞ্জের মারুফ হাসান নিথেল, গাজীপুর শ্রীপুরের রাকিবুল ইসলাম শান্ত, গাজীপুর কাপাশিয়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে এসএম নাইম, টাঙ্গাইল সদরের শোয়েব হাসান, টাঙ্গাইলের গোডাউন বাজারের শাহরিয়ার ইসলাম সম্পদ, শেরপুরের মধ্য শ্রেরীর রাহাত মজুমদার রাফি। ঠাকুরগাঁওয়ের গোয়ালপাড়ার খাইরুল আহমেদের ছেলে শাফিন আহমেদকে বুধবার আটক করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রক্টর এইচএম তারিকুল ইসলাম বার্তা২৪কে বলেন, ‘আটককৃত সকলেই মেধাতালিকার শীর্ষে। আমরা আশঙ্কা করছি বড় একটি চক্র কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুধবার আটককৃতদের তথ্য অনুযায়ী আরও ৩ জনকে আটক করেছি। আমরা আমাদের জালিয়াত ধরার কার্যক্রম চালিয়ে যাব।’

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত ১১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার সময় কেউ অংশগ্রহণ করেননি। পরীক্ষায় তাদের বদল প্রক্সির মাধ্যমে মূল এক্সপার্ট পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই মেধা তালিকায় স্থান করে নেন এই ১১ শিক্ষার্থী।

‘বি’ ইউনিটের ৪র্থ শিফটের (মানবিক) সমন্বয়ক তাবিউর রহমান প্রধান বার্তা২৪কে বলেন, ‘বুধবার আমার কক্ষে দুই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় আসা কিছু প্রশ্ন করেছিলাম কিন্তু তারা উত্তর না দিয়ে অসংলগ্ন প্রশ্নের উত্তর ও হাতের লেখা সম্পূর্ণ অমিল থাকায় তাদের জালিয়াত বলে প্রাথমিক স্তরে চিহ্নিত করি। পরে প্রক্টরিয়্যাল বডির হাতে তুলে দিই।’

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনর্চাজ মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বাদী হয়ে থানায় এজাহার দিয়েছেন। আটককৃতদেরকে থানায় পাঠানো হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবু কালাম মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ভর্তি পরীক্ষায় খুব গুরুত্বের সাথে জালিয়াত ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই দিনে মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। অনেক বড় একটি চক্র এখানে কাজ করছে। আশা করি আটককৃতদের মাধ্যমে খুব দ্রুতই মূল জালিয়াত চক্রকে ধরা সম্ভব হবে।’

এর আগে ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর প্রক্সি পরীক্ষা দিতে এসে শরিয়তপুর জেলার ঘোষেরহাট থানার হাটরিয়া গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত শিক্ষার্থীকে এক বছরের কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ক্যাম্পাস এর আরও খবর