Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়: জাফর ইকবাল

পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়: জাফর ইকবাল
ছবি: বার্তা২৪
ঢাবি করেসপনডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পাকিস্তানও আমাদের মতো হতে চায়।’

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল লনে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াড-২০১৮, ঢাকা বিভাগের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ।

জাফর ইকবাল বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের কোনো অর্থনীতি ছিল না। কিন্তু আজ বাংলাদেশ এমন অবস্থানে এসেছে যে পৃথিবীর সমস্ত দেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে কীভাবে এদেশ এত উন্নতি করেছে। আমাদের সময় এত সুযোগ ছিল না। তোমরা যারা কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে পারনি, যারা উদ্ভিদবিদ্যায় পড়ছ, তোমাদের কোনো চিন্তার কারণ নেই। উদ্ভিদবিদ্যা একটি অভিজাত বিষয়। তোমাদের জন্য অসংখ্য সুযোগ রয়েছে।'

অলিম্পিয়াডে যোগ দিতে আসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদের হাতেই দেশ গড়ার দায়িত্ব। সুন্দরভাবে দেশটা গড়ে তোলার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন যে অনেক শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় মনোযোগ নেই। এর কারণ স্মার্টফোন। প্রযুক্তি ভাল জিনিস। তবে আমরা প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করব, প্রযুক্তি আমাদের নয়।’

শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও গবেষণা করতে উৎসাহিত করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘চিন্তা কর, চিন্তা কর এবং চিন্তা কর। তাহলে ভাল গবেষক হতে পারবে। আর এজন্য প্রচুর বই পড়তে হবে এবং তা মাথায় কল্পনা করতে হবে।'

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার বলেন, ‘উদ্ভিদবিজ্ঞান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সনাতন বিষয়। সারা বিশ্বব এ বিষয়ে গবেষণায় এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে আছে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহারিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা জরুরি।'

বোটানি অলিম্পিয়াড-২০১৮ ঢাকা বিভাগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোজাদ্দেদী আলফেসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বোটানি অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জাদুঘরের সহকারী কিউরেটর মুমিনুর রশিদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাখহরি সরকার, বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ড. এম এ গফুর ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা প্রমুখ।

সমাপনী অনুষ্ঠানের পর্বে অলিম্পিয়াডে ঢাকা বিভাগের চূড়ান্ত বাচাই পর্বে ২১টি কলেজের অর্ধসহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে শিক্ষার্থীদের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে দেশের মোট আটটি বিভাগের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ‘বোটানি অলিম্পিয়াড' এর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটি ও জাতীয় বিজ্ঞান জাদুঘর যৌথভাবে এই আয়োজন করে।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবীকে স্বর্গ বানাতে হবে: শোভন

ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবীকে স্বর্গ বানাতে হবে: শোভন
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্য করে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়েমা ওয়াজেদ পুতুলও আপনাদের মতো মানুষদের নিয়ে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে আপনাদেরও অংশীদার হতে হবে। আপনাদের অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গিতে পৃথিবীটা স্বর্গ বানাতে হবে। মুজিবের আর্দশকে ধারণ করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

রোববার (২৫ আগস্ট) আরসি মজুমদার মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন সংস্থা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

শোভন বলেন, ‘কৃষক-শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের কথা ভেবে ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’

সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড় বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধকতা অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিভা বিকশিত করার মাধ্যমেই দূর করতে হবে। ১৯৭৪ সালে ৪৭টি বিদ্যালয়ের সমন্বয়ে পড়াশোনা চালুর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশে প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ রাখ প্রতিবন্ধী মাসিক ৭৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকে, কিন্তু যৌক্তিক হারে তা বৃদ্ধি করা উচিত। বঙ্গবন্ধু আমাদের যে ত্যাগের শিক্ষা দিয়ে গেছে তা অনুসরণ করে অন্যদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’

প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন সংস্থার সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা একজন স্বচ্ছ মানুষের চেয়ে কম নই। ইচ্ছা থাকলেই আমরা সব কিছু করতে পারি।’

এ সময় তিনি প্রতিবন্ধীদের ভাতা তিন হাজার টাকা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, চাকরি প্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন প্রমুখ।

জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় প্রতিবাদ

জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় প্রতিবাদ
বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পূর্বঘোষিত তিন দফার ছয় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের কয়েকটি ভবন ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদ চত্বরে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।

মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশের তিনটি হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু করা, উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা দূর্নীতির ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করা এবং টেন্ডার ছিনতাইকারদীর বিচারের আওতায় আনাসহ প্রকল্পের সকল ব্যয়ের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান।

এছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় নিন্দা জানান বক্তারা।

আরও পড়ুন: জাবিতে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় নিন্দা

উপাচার্যসহ তার পরিবার প্রকল্পের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মাদ দিদার বলেন, ‘আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি এই দুর্নীতির সঙ্গে স্বয়ং উপাচার্য জড়িত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বারবার নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। এবার উপাচার্য ও তার পরিবার যে জনসাধারণের টাকা লুটপাট করতে নেমেছেন তা বন্ধ করতে আমরাও রুখে দাঁড়াব।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566732339061.jpg

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথা হলো উপাচার্য। আমরা লক্ষ্য করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। আমরা এটার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি। সাংবাদিকরা যখন অর্থ কেলেঙ্কারির তথ্য তুলে ধরলেন তখন উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম উপাচার্য সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে চেয়েছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই হুমকি ধামকি দিয়ে আপনারা কারও কণ্ঠ রোধ করতে পারবেন না।’

আরও পড়ুন: ৬ দাবি আদায়ে আন্দোলনে জাবি শিক্ষার্থীরা

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের কাজ চোর ধরে বেড়ানো না। তেমনি শিক্ষকদের কাজ চুরিতে সহযোগিতা করা না। শুরু থেকে এই মাস্টারপ্ল্যান নামক জিনিসটা নিয়ে যে লুকোচুরি চলছে এবং নানা পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণের মতকে উপেক্ষা করে অস্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল পরিমান টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং খরচ করার পায়তারা করছে।’

প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন করে ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি যুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন,‘আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নয়। আমরা উন্নয়ন চাই তবে সেটা হোক পরিকল্পিত উন্নয়ন। কিন্তু আমরা দেখছি তড়িঘড়ি করে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে যেয়ে লুটপাট শুরু করে দেওয়া হয়েছে।’

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সদস্য রাকিবুল রনি, বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার ও সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার সমন্বয়ক আবু সাইদ প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র