Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে দাওয়াত পাননি জাবির সিনেট সদস্যরা

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে দাওয়াত পাননি জাবির সিনেট সদস্যরা
ছবি: সংগৃহীত
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রতিষ্ঠা দিবসে নিয়ম ভেঙ্গে নির্বাচিত সিনেট সদস্যদের দাওয়াত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্যরা।

এছাড়াও উপার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচিত সিনেট সদস্যদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ না করা ও সিনেট সদস্যদের মতামতকে অগ্রাহ্য করার।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিনেট সদস্যের জন্য রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সমর্থিত প্যানেল আওয়ামী পন্থী অপর একটি অংশের কাছে পরাজিত হন। এ ভরাডুবির পর উপাচার্য সিনেট সদস্যদের নিয়ে বিশেষ তলবি সভাও ডাকেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেওয়াজ অনুযায়ী সিনেট সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা দিবসে দাওয়াত পাওয়ার কথা। কিন্তু দলীয় কোন্দলগত কারণ ও বেশিরভাগ সিনেট সদস্য বর্তমান উপাচার্যের পক্ষের না হওয়ায় এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে তারা দাওয়াত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নির্বাচিত সিনেট সদস্য।

এ বিষয়ে সিনেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর বার্তা২৪কে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মত একটা বড় অনুষ্ঠানে একজন নির্বাচিত সিনেট সদস্য হিসেবে এখনো দাওয়াত পাইনি।’

সিনেট সদস্য শেখ মনোয়ার হোসেন বার্তা২৪কে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সাবেক ছাত্রদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আমরা কোনো পক্ষের তল্পিবাহক নই। কিন্তু বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে একটি পক্ষের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে অংশ নিতে দিচ্ছেন না।’

আরেক সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘গতবারও চিঠির মাধ্যমে দাওয়াত পেয়েছিলাম। এবার কেন পেলাম না জানিনা। তবে এটা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ভুল হয়ে থাকে সেটা আলাদা কথা, আর যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করে থাকে তাহলে সেটা দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজ দাওয়াত দেওয়ার রেওয়াজের কথা অস্বীকার করে বার্তা২৪কে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কখনো দাওয়াত দেওয়া হয় না। তবে গত বছর সম্মানসূচক নির্বাচিত সদস্যদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এটা কোনো নিয়মিত ঘটনা নয়।’

আপনার মতামত লিখুন :

শাবিপ্রবিতে ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট

শাবিপ্রবিতে ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট
ছবি: বার্তা২৪

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ জুন) প্রশাসনিক ভবন-২ এর সম্মেলন কক্ষে এই বাজেট ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

গতবারের তুলনায় এ বছরের বাজেট ৭.১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত বরাদ্দ দাঁড়ায় ১৩৩ কোটি ৯৬ লাখ। এবছর গবেষণা খাতে ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের বাজেটে গবেষণা খাতে অনুদান দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি টাকা, যা গতবার ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ছিল।

লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরের মোট ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেটের মধ্যে বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে ৮৬ কোটি ৪৮ লাখ, যা মূল বাজেটের ৬১.৮৯ শতাংশ, এটি গতবার ছিল ৯৩ কোটি ৫ লাখ। এছাড়া সরবরাহ, সেবা ও মেরামত খাতে ৩০ কোটি ৭৯ লাখ, বিশেষ মূলধন অনুদান ৩ কোটি ৪২ লাখ এবং অন্যান্য অনুদান বাবদ ১৯ কোটি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ বাবদ ১০ লাখ, সেমিনার ও কনফারেন্সে ৫০ লাখ টাকা, পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় ১২ কোটি ১০ লাখ, মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ও কম্পিউটার সফটওয়্যার ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এসময় উপাচার্য আরও বলেন, আমাদের লাইব্রেরিকে আধুনিকায়ন করা হবে আর তার জন্য ২০ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। এই অর্থবছরে ২টি বাস, ১টি মাইক্রোবাস ও ১টি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতের পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন জার্নাল, সাস্ট স্টাডিজ, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, বিভিন্ন কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণ ভাতা রাখা হয়েছে। প্রত্যেকটি অফিসগুলোকে ই-অফিসের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। বাজেট ঘোষণায় আরো উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, হিসাব পরিচালক আ ন ম জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।

বেরোবির প্রশাসনিক ভবনে কর্মচারীদের তালা

বেরোবির প্রশাসনিক ভবনে কর্মচারীদের তালা
৪ দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়েছেন বেরোবির কর্মচারীরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

তিন বছর আট মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানসহ চার দফা দাবি আদায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়েছেন আন্দোলনরত কর্মচারীরা। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমেরর পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির তৃতীয় দিন সকালে প্রশাসনিক ভবনের দুই গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ নামে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের একটি সংগঠন।

কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় কর্মচারীবান্ধব পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন নীতিমালা বাস্তবায়ন, ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান, ১০ম গ্রেড প্রাপ্ত ২৫ জন কর্মকর্তাকে পদমর্যাদা প্রদান ও মাস্টার রোল কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত কর্মচারীরা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমরা অতিকষ্টে চাকরি করছি। কোনো রহস্যজনক কারণে কয়েকজনকে ৪৪ মাস যাবৎ বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি। ২৮৮ জনকে বকেয়া বেতন ভাতা দেওয়া হলেও ৫৮ জন কর্মচারীর বেতন ভাতা আটকে রাখা হয়েছে।’

এ বিষয়ে কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।’

অন্যদিকে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মাহবুবার রহমান বলেন, 'আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন কোনো সহযোগিতা বা আলোচনার ইঙ্গিত না দেওয়ায় আজ বাধ্য হয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়েছি। দাবি আদায়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যহত থাকবে।'

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র