Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডাকসু: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে একমত সবাই

ডাকসু: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে একমত সবাই
ডাকসু ভবন/ ছবি: সংগৃহীত
সোহানুর রহমান
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সকল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছরের ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সেই লক্ষ্যে সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের জন্য উপাচার্য কর্তৃক নির্ধারিত ১০ কার্য দিবসের মধ্যেই গঠনতন্ত্র কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে বলেও জানান কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার জন্যে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনগুলো তাদের দাবি তুলে ধরে। তবে লিখিতভাবে পরামর্শ উপস্থাপনের জন্য আগামী সোমবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলো আলাদা আলাদা দাবি জানালেও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে একমত পোষণ করেছেন সবাই।

ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রের ৫ নং ধারার ১ নং উপধারা অনুযায়ী, সভাপতি (উপাচার্য) যে কোনো সময় নির্বাহী কোনো সদস্যকে বরখাস্ত এমনকি নির্বাহী কমিটিও বাতিল করে দিতে পারবেন।

৮ নং ধারার ১২ নং উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত সভাপতি কর্তৃক গৃহীত কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের কোনো রায় কার্যকর হবে না।

এই ধারাগুলো গণতন্ত্রের পরিপন্থী উল্লেখ করে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যের ক্ষমতার ভারসাম্য আনার দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো।

গঠনতন্ত্রে ডাকসু সভাপতির ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, 'সকলের ক্ষমতার ভারসাম্য হোক, সমান অধিকার নিয়ে রাজনীতি ও মতাদর্শ চর্চা করুক। এজন্য ডাকসুর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হোক। বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির ক্ষমতা অনেকটা একক। তাই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হওয়া উচিত।'

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, 'যদি সভাপতির কাছেই একক ক্ষমতা থেকে যায়, তাহলে তো ডাকসু নির্বাচনের আর প্রয়োজন নেই। এমনটা হলে সভাপতি ও প্রশাসন যাচ্ছেতাই করতে পারবেন। এই ক্ষমতা স্বৈরাচারী। ডাকসু নির্বাচন যতটা যৌক্তিক ততোটাই অযৌক্তিক সভাপতির একক ক্ষমতা।’

এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, 'সভাপতির বর্তমান ক্ষমতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরে না। তাছাড়া, হল প্রাধ্যক্ষেরও অনেক ক্ষমতা। তাই সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির মধ্যকার ক্ষমতা এবং হল প্রাধ্যক্ষের ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা উচিত।'

ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, 'সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির ক্ষমতায় যদি ভারসাম্য না থাকে তাহলে সভাপতির কাছে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থেকে যাবে। ফলে সাধারণ ছাত্রদের দাবি পূরণ হবে না। তাই আমরা চাই, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হোক।'

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের কাছে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের যৌক্তিকতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'উপাচার্য সব কথা বলে না।'

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের দাবি বাস্তবায়ন করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'কমিটি ভালো বুঝবে। কমিটি কাজ করুক। কোথায় কী আছে ভালো করে পর্যালোচনা করুক। কোথায় কোন ক্ষমতা আছে সেটা কমিটি দেখুক। কোথায় কী প্রয়োজন সেটা কমিটি বিবেচনায় নেবে।'

ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই। ডাকসু নির্বাচন চেয়ে ২০১২ সালের ২১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করার পর ঐ বছরের ৮ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

পরবর্তীতে আইনি জটিলতা পেরিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের নির্দেশ দেন আদালত। এ আদেশ অনুযায়ী আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

আপনার মতামত লিখুন :

জাবির পরিবহনে যুক্ত হলো ৫টি নতুন গাড়ি

জাবির পরিবহনে যুক্ত হলো ৫টি নতুন গাড়ি
গাড়ি উদ্বোধন করলেন জাবি উপাচার্য, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহন ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে নতুন করে আরও পাঁচটি গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে। পাঁচটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে- দুটি এসি মিনিবাস, একটি নন এসি মিনিবাস, একটি এসি মাইক্রোবাস ও একটি পিকআপ।

জানা যায়, দুটি এসি মিনিবাস ও এসি মাইক্রোবাস শিক্ষকদের পরিবহনে এবং নন এসি মিনিবাসটি শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হবে বলে জানা যায়।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে পরিবহনগুলোর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, 'আমরা অত্যন্ত খুশি যে, শেষ পর্যন্ত নতুন বাস পেলাম। এর মধ্যদিয়ে আমাদের পরিবহন আরও সমৃদ্ধ হল। যদিও চাহিদার তুলনায় বাসের সংখ্যা এখনো কম। খুব শীঘ্রই আরও কিছু বাস আমরা পরিবহনে সংযোজন করতে পারব।'

গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে সকলের সহযোগিতা কামনা করে উপাচার্য আরও বলেন, 'এসব আপনাদের সম্পদ। আমাদের পরিবহন শুধু গাড়িতেই সুন্দর হবে তা নয়। পরিবহন সেবায় নিয়োজিত সকলের আচরণও ভালো হবে আশা করি।'

এদিকে দুই কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে গাড়িগুলো কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ সিটের এসি মিনিবাস দুটি ক্রয়ে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ও ১৬ সিটের মাইক্রোবাস ক্রয়ে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া পিকআপ ২৯ লাখ এবং ৩০ সিটের নন এসি মিনিবাস ক্রয়ে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক রাশেদা আখতার, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ প্রমুখ।

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সারাদেশে একেরপর এক ঘটতে থাকা খুন, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রমৈত্রী।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর আমরা রাজাকারদের বিচার করতে পেরেছি। কিন্তু দেশে চলমান খুনি, ধর্ষণকারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের কেন বিচার করতে পারছি না?

এ সময় তারা খুন, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের কার্যকরী ভূমিকা পালন করার দাবি জানান।

ছাত্র মৈত্রী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোরশেদ হাবিবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সহসভাপতি আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামিমুল ইসলাম সুমন, শেখ রাসেল হলের সভাপতি আশিকুর রহমান প্রমুখ।

ছাত্র মৈত্রী ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফের সঞ্চালনায় মানবন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দফতর সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ পাপ্পু, প্রচার সম্পাদক মোরশেদুল ইসলাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রিড়া সম্পাদক আশিকুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসাইন আজাদসহ বিভিন্ন পর্যয়ের নেতাতর্মীরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র