Alexa
independent day 2019

ঢাবি অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের ১১তম পুনর্মিলনী

ঢাবি অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের ১১তম পুনর্মিলনী

ঢাবি অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের ১১তম পুনর্মিলনী / ছবি: বার্তা২৪

ঢাবি করেসপনডেন্ট, বার্তা২৪.কম

ব্যাপক জাঁকজমক ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) খেলাধুলা, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো দিন পার করেন অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাই সদস্যরা।

সকাল ১০টায় টিএসসি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের অ্যালামনাই। এটি যত বেশি শক্তিশালী হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ও ততো বেশি শক্তিশালী হয়। অ্যালামনাই ও অ্যালামনাস এ দুইয়ের মিথস্ক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। অ্যালামনাইরাই বিশ্ববিদ্যালয়কে সকল প্রকার সমর্থন দিয়ে থাকে।'

উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর একটা নিদর্শন। এ নিদর্শন অ্যালামনাইয়ের মধ্যে আরো প্রখর। এই মূল্যবোধের প্রভাব নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য এসব অ্যালামনাইয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তাদের কথা শোনার জন্য এবং তাদের পরামর্শ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দরভাবে চালানোর জন্য।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ, একাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের অনারারি সদস্য সিএজি (কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) অধ্যাপক মুসলিম চৌধুরী। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অ্যালামনাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম হারুনুর রশিদ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিয়াজুর রহমান প্রমুখ।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান আমলে আমাদের দেশ দরিদ্র ছিলো। স্বাধীনতার পর দরিদ্রতা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু এখন আমরা দেশের অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি।'

রাজস্বের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘করদাতারা যদি সৎভাবে ব্যবসা করেন ও কর দেন তাহলে আমাদের রাজস্বের অভাব হবে না।’

একাউন্টিং অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকে যার যার ক্ষেত্রে দিকপাল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আপনাদের গুরুত্ব অনেক উপরে। আপনারা অনেকে ব্যাংক, কর্পোরেট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে রয়েছেন। সবার উচিত ‘ইন্টিগ্রিটি’ শক্তভাবে ধরে রাখা। তাহলে নিজের মর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পাবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছেও আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের সন্তানরাও আমাদের অনুসরণ করবে। আমরা যদি সৎ ও কর্তব্যপরায়ন হই তাহলে পুরো জাতিই আমাদের অনুসরণ করবে।'

এ কে আজাদ বলেন, ‘আমাদের অনেকের আয়ু ৫০-৬০ বছর পেরিয়ে গেছে। আর কয়দিন বা পৃথিবীতে থাকবো। কিন্তু নিজেদের পরিবারের বাইরে আমরা অন্যদের জন্য কী করেছি সেটা ভেবে দেখা দরকার। সমাজে আমরা যে যে অবস্থায়ই থাকি না কেন আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে অনাহারি মানুষ ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করতে হবে। যদি আমাদের সহায়তায় তাদের জীবন ফিরে আসে, আমাদের প্রচেষ্টায় কেউ যদি চাকরি পায় সেটিই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমরা হয়তো বেঁচে থাকবো না কিন্তু আমাদের সহায়তায় সেই পরিবারটি বেঁচে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি একাউন্টিবিলিটি না থাকে তাহলে একাউন্টিং করে কোনো লাভ হবে না। আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে সমাজকে সেই একাউন্টিবিলিটির জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।'

ক্যাম্পাস এর আরও খবর