ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনে ছাত্রদলের ক্ষোভ, ছাত্রলীগের সন্তোষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা ২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনীতে ছাত্রদল ও বাম প্রগতিশীল ছাত্রজোটের দাবির প্রতিফলন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। অপরদিকে দাবির প্রতিফলন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে নিয়মিত সিন্ডিকেট সভা শেষে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

গঠনতন্ত্রের নিয়ম সংশোধন করে হল থেকে ভোট কেন্দ্রগুলো একাডেমিক ভবনে নিয়ে আসাসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়ে আসছিল ছাত্রদলসহ বামজোট প্রগতিশীল জোট। কিন্তু সেই দাবির প্রতিফলন ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনীতে না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদি তালুকদার বার্তা ২৪ কে বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠনগুলোই এটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। হলের ভেতর ভোটকেন্দ্র হলে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আমরা আশংকায় রয়েছি। আমাদের আশ্বস্ত হওয়ার কোনো সুযোগই নেই যে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

তাছাড়া, ৩০ বছরের যে বয়সসীমা দেওয়া হয়েছে সেটা কেন। এগুলা নিয়ে ঝামেলা তৈরি হতে পারে।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, 'সিন্ডিকেট সভার সবগুলো সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। শুধু একটি সিদ্ধান্ত আমরা মনে করি এক পাক্ষিক হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মতের ভিত্তিতে সেটার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে আমরা মনে করি প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গণভোটের ব্যবস্থা করা। গণভোটের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত দেবে সেখানেই ভোটকেন্দ্র করা হোক। কেননা ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়, কোনো একক সংগঠনের নয়।'

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকি বলেন, 'আমরা আমাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি। সমস্ত ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রদের মতকে অগ্রাহ্য করে অগণতান্ত্রিক উপায়ে একটি প্রহসনের নির্বাচনের দিকে প্রশাসন এগুচ্ছে বলে আমরা মনে করি।

না হলে একটি সংগঠনের দাবিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো না। আমরা মনে করি, প্রশাসন ছাত্রলীগের সাথে মিলে একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। আমরা ক্ষুব্ধ এবং জোড় দাবি জানাচ্ছি প্রশাসন যে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, 'আমরা ক্ষুব্ধ এবং একইসাথে হতাশা প্রকাশ করছি যে প্রশাসন একতরফাভাবে শুধু একটি সংগঠনের মতামতই নিল। যেখানে অন্যান্য সংগঠন হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র চাচ্ছে। হলের ভেতরে ভোটকেন্দ্র হলে নির্বাচনের ফল কী হবে সেটা অনুমেয়। আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করব।

ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বার্তা২৪ কে বলেন, 'আমরা পূর্বেই বলেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিকে আমরা স্বাগতম জানাবো। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে ৩০ বছর বয়সসীমা বাড়িয়েছে আমরা মনে করি এতে করে প্রত্যেক ছাত্র সংগঠনের অনেক নেতারাই অংশগ্রহণ করবে এবং একটি আনন্দঘন পরিবেশে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আমাদের দাবিগুলো মোটামুটি অনেকাংশে প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন আমরা চেয়েছিলাম যে হলগুলোর ভেতরেই যেন হল সংসদ নির্বাচন হয় সেটা হয়েছে। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।'

আপনার মতামত লিখুন :