ভয়াবহ সেশন জটে রাবির চার বিভাগের শিক্ষার্থীরা

সাইফুল্লাহ সাইফ, রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ না হওয়া ও শিক্ষক সংকটের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যাংকিং এন্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সেশন জটের কবলে পড়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক বর্ষ থেকে অন্য বর্ষে উত্তীর্ণ হলেও এই বিভাগের প্রায় আড়াই’শ শিক্ষার্থী ছয় মাস পিছিয়ে পড়েছেন। ফলে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ না করা। ক্লাস নিতে শিক্ষকদের গড়িমসি ও শিক্ষক সংকটের কারণে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষে শিক্ষার্থীদেরকে সেশন জটের কবলে পড়তে হয়েছে। এছাড়া বিভাগে নতুন ব্যাচ আসায় সেশন জটের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে আরও বলেন, 'বিভাগে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা না নিলেও সান্ধ্যকালীন কোর্সের ক্লাস-পরীক্ষা নিতে বেশ মনোযোগী হয়ে পড়েছেন শিক্ষকরা। যার ফলে সেশন জটে পড়তে হয়েছে।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকিং এন্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষে দুই একটি করে ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় চার মাসেও রীতিমতো কোন ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয় নি। এছাড়া বিভাগের প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ক্লাস নেন মাত্র চার জন শিক্ষক। ফলে প্রতিটি বর্ষের ক্লাস-পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চার শিক্ষককে। এ সমস্যা সমাধানে ওই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের কথা বললেও এখন পর্যন্ত নতুন কোন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি।

শুধু ব্যাংকিং এন্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফিন্যান্স বিভাগ ও ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের চিত্র একই। ব্যাংকিং এন্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মতো এ তিনটি বিভাগেও যথাসময়ে ক্লাস শেষ না করা, একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষকদের গড়িমসি ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন কারণে সেশন জট সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে একই সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনার্স ও মাস্টার্স যথাসময়ে শেষ করলেও প্রায় এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সেশন জটে আটকে থাকতে হচ্ছে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের। এতে করে হতাশাগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ করে পরীক্ষা নেয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। এখনো বিভাগের দুজন শিক্ষকের ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। যার ফলে প্রায় আড়াই মাসের সেশন জটে পড়তে হয়েছে বিভাগের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীকে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে আরও বলেন, 'ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে এ্যালামনাইয়ের কারণে তা নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে পারেনি। শিক্ষকরা চাইলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নিতে পারতেন। কিন্তু পরীক্ষা কমিটির সভাপতির গাফিলতির কারণে এ সমস্যায় পড়তে হয়েছে।'

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, বিভাগে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফলে ওই বিভাগে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। যথাসময়ে ক্লাস শেষ না করা, উত্তরপত্র মূল্যায়নে গড়িমসি ও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে ক্রমেই বাড়ছে সেশনজট। একই শিক্ষাবর্ষে অন্য বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও ফিন্যান্সের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছর পিছিয়ে থাকছেন।

ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, যথাসময়ে ক্লাস শেষ করেছে। তবে বিভাগের শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফলে ৫টি ব্যাচের প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থী চার মাস থেকে আট মাসের সেশন জটে আটকে আছে। এর মধ্যে বিবিএ শিক্ষার্থীরা চার মাসের ও এমবিএর শিক্ষার্থীরা আটকে আছে প্রায় ৮ মাসের সেশন জটে। শিক্ষার্থীরা বারবার পরীক্ষা নেওয়ার কথা বললেও শিক্ষকরা নিজেদের অন্তঃকোন্দালকেই বড় দেখছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক এম হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘সেশন জটের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত আছি। এটা সমাধান করা পুরোপুরিভাবে বিভাগের শিক্ষকদের উপর নির্ভর করে। আমি ডিন হিসেবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যেন দ্রুত এ সমস্যা থেকে শিক্ষার্থীরা বের হতে পারে।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'এ সমস্যা সমাধানে অনুষদের ডিন ও বিভাগগুলোর শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করব।'

আপনার মতামত লিখুন :