২১ বছর ধরে অচল শাকসু

আরাফ আহমদ, শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গত ২১ বছর ধরে অচল হয়ে আছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু)। তবে শাকসু’র নির্বাচন দিতে উদ্যোগ নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশসনের।

জানা গেছে, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চাল সিলেটের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ এই বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯১ সালে একাডেমিকভাবে যাত্রা শুরুর পর শাকসুর কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ২৫ আগস্ট। ওই নির্বাচনে বিরোধীদলে থেকেও ছাত্রলীগকে হারিয়ে ছাত্রদলের পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হয়। ভিপি পদে কামরুল হাসান কাবেরী ও জিএস পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্বাচিত হন। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। বিভিন্ন সময় শাকসু নির্বাচনের দাবি জানালেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ঘোষণা ও সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ঢাবি’র বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথেও নিয়মিত আলোচনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইভাবে রাকসু, জাকসু এবং চাকসু নির্বাচন নিয়েও নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। কিন্তু শাবিপ্রবি প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

অন্যদিকে নির্বাচিত ছাত্র নেতৃত্ব না থাকায় শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে বড় কোনো প্লাটফর্ম নেই ক্যাম্পাসে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কমিটি থাকলেও তারা নিজ স্বার্থেই কাজ করেন। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের দাবি তাদের কাছে গৌণ বিষয়।

শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রুহুল আমিন বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে সোচ্চার। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দাবি আদায়ের সবচেয়ে বৃহৎ প্লাটফর্ম হল শাকসু। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাকসু নিবার্চনের উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করবো এবং অংশগ্রহণ করবো।’

শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এম এ রাকিব বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ছাত্রদল সব সময় নিবার্চনমুখী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ শাকসু নিবার্চনেও ছাত্রদল জয়ী হয়েছিল। এখন নিবার্চনের উদ্যোগ নিলে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করবো। তবে তার আগে ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ রুদ্র বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। শাকসু নির্বাচনের জন্য আমরা গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছিলাম। তবে, শাকসু নির্বাচন দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবশ্যই নিবার্চনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সবাইকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর জন্য সুযোগ দিতে হবে।’

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন দেবনাথ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ছাত্রদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে ১১ দফা জানিয়ে আসছি। ১১ দফা দাবির অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দফা হচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। আমরা চাই শগগিরিই শাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক এবং ছাত্র নেতৃত্বের একটি প্লাটফর্ম গড়ে উঠুক।’

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আমরা ভাবছি। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :