Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শিক্ষার্থীদের টাকায় জাবি শিক্ষকদের বিলাসী সফর

শিক্ষার্থীদের টাকায় জাবি শিক্ষকদের বিলাসী সফর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়/ ছবি: বার্তা২৪.কম
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষা সফরের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত চাঁদা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থে কক্সবাজারের বিলাশবহুল হোটেলে থাকা ও ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ‘ট্যুর পরিচালনা কমিটি’র তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন- বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খালিদ কুদ্দুস, ট্যুরের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-হেল-কাফি ও সহকারি অধ্যাপক রনি বসাক।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-হেল-কাফি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা এত ফকির না যে শিক্ষার্থীদের টাকায় ট্যুরে যাবে। ট্যুরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কতো টাকা দেয় জানো? সেই টাকায় কিবা হয়?’

‘আমাদের নিজেদের টাকায় ট্যুরে গেছি। আমি আগেই ছাত্রদের বলছিলাম যে আমি সাজেক যাবো না, পরে ওরা বললো স্যার আপনাকে যাওয়া লাগবে না। আমরা যেতে পারবো। এইজন্য ওদের কথায় আমরা সাজেক না যেয়ে কক্সবাজার যাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেব্রুয়ারির ২-৮ তারিখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সফরের স্থান নির্ধারণ করা হয় রাঙ্গামাটি জেলার সাজেক। কিন্তু উল্লেখিত শিক্ষকরা ট্যুরের জন্য নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকায় কক্সবাজারে ভ্রমণে যান।

ট্যুর পরিচালনা কমিটির বাইরের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শিক্ষার্থীদের সাথে রাঙ্গামাটি জেলার সাজেকে যাবেন বলে ঠিক করা হয়। কিন্তু সাজেকে যাওয়ার পথে রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী বিদেশি নাগরিক হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেখানে কর্তব্যরত সেনা সদস্যরা তাদেরকে প্রবেশে বাধা দেন। 

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার হয়ে সেন্টমার্টিন সফরে গেলে ঐ শিক্ষক ও তার পরিবার শিক্ষার্থীদের সাথে যুক্ত হন। কিন্তু শিক্ষা সফর শেষ হবার আগেই ট্যুর পরিচালনা কমিটি’র সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-হেল কাফি শিক্ষার্থীদের কোনরূপ দায়িত্ব না নিয়েই একদিন আগেই পরিবারসহ সেন্টমার্টিন থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাসেল স্যার (সহকারী অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম) আমাদের সাথে সাজেক পৌঁছাতে না পারায় আমরা খুব আতঙ্কে ছিলাম। অথচ চেয়ারম্যান স্যার, কাফি স্যার, রনি স্যার কক্সবাজারে থেকে ফেসবুকে ছবি দিচ্ছিলেন, তারা আমাদের সাথে থাকলে হয়তো রাসেল স্যারকে এই ঝামেলায় পড়তে হতো না।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সাজেক একটা দুর্গম এলাকা, যেখানে নানা ধরনের সন্ত্রাসী গ্রুপ থাকে, সেখানে স্যারেরা আমাদের সাথে না গিয়ে একপ্রকার অভিভাবকহীনভাবে পাঠিয়েছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. খালিদ কুদ্দুস বলেন, ‘ওরা সাজেক আর সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য প্লান করেছে কিন্তু ট্যুর কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-হেল-কাফি স্যার সাজেক যাবেন না বলে জানান। এছাড়া তিনি বলেন যে সাজেক খুব রিস্কি জায়গা তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব না।’

‘আমার হলো পাহাড়ভীতি এবং স্ত্রীর প্রচণ্ড ব্যাকপেইন। ফলে যদি সাজেক যাই, তবে সমস্যা বাড়বে এই জন্য ডাক্তারের নিষেধ ছিলো। ফলে সাজেক যাইনি। আমরা আমাদের নিজেদের টাকায় গ্রীনলাইনের টিকিট কেটে কক্সবাজার গেছিলাম, এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকাও নেইনি।‘

আপনার মতামত লিখুন :

জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগের সম্মেলনের আর বাকি একদিন। তবে এ সম্মেলন ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পদপ্রত্যাশীদের আক্রোশপূর্ণ মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে সংঘর্ষের।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারিতে ক্যাম্পাসে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগে সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীরা। পরবর্তীতে জবি শাখা ছাত্রলীগ সংঘর্ষ এড়াতে ব্যর্থ হলে ১৯ ফেব্রুয়ারি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রিয় কমিটি। কেন্দ্রিয় সংগঠনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সৎ,পরিশ্রমী ও যোগ্য নেতৃত্ব দিতে আগামী ২০ জুলাই (শনিবার) সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম টিটনকে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি সম্মেলন কমিটি দেওয়া হয়।

সম্মেলন কমিটির নেতৃত্বে উৎসব মুখর পরিবেশে সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হলেও পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে বাড়ছে আন্তঃকোন্দল ও রোষানল। এরইমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের মধ্যে পোস্টার ছেড়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে সম্মেলন ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে সবার মাঝে।

পোস্টার ছেড়ার বিষয়ে সম্মেলনের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম টিটু বার্তাটোয়োন্টিফোর.কমকে জানান, কে বা কারা পোস্টার ছিড়ছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। সম্মেলনে সংঘর্ষের কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখানে যারা আছি, সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে একান্তই যদি কোনো অহেতুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা মীমাংশা করে নেব। এছাড়া অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকীতে রাবিতে আলোচনা সভা

ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকীতে রাবিতে আলোচনা সভা
ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকীতে রাবিতে আলোচনা সভা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ফোকলোর গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির সভাপতি রাশেদ রিমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম কনক।

আলোচনা সভায় আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'পৃথিবীতে দুটি নাম মানুষ সবচেয়ে বেশি জানে। তার একটি হলো নেলসন ম্যান্ডেলা। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে তিনি অনেকগুলো পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯০ সালে ভারত সরকার প্রদত্ত ভারত রত্ন পুরস্কার ও ১৯৯৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ তাদের মধ্যে অন্যতম।'

আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, 'পৃথিবীর অনেকেই সংগ্রাম করে, নেতা হয় বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পরপরই তাদের নিজেদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা এমন একজন নেতা যিনি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।'

এছাড়া আলোচনা সভায় নেলসন ম্যান্ডেলার আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র