১৭ দফা দাবিতে 'রাকসু আন্দোলন মঞ্চের' লিফলেট বিতরণ

রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাকসু নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ, ছবি: বার্তা২৪

রাকসু নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ। লিফলেটে রাকসু সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সংবলিত বিভিন্ন তথ্যাদি ছিল। এছাড়া লিফলেটে রাকসু নির্বাচন ও ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়নে ১৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে আমতলায় এ লিফলেট বিতরণের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোলাম ফারুক টুকু ও রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের কাছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ লিফলেট বিতরণ। লিফলেটে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের পক্ষে সতেরো দফা দাবি জানিয়েছেন।

দাবিগুলো হলো-

১. নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য রাকসু নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ডীন, সিন্ডিকেট, সিনেট, শিক্ষকদের দলীয় স্টিয়ারিং কমিটি, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনের মতো নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাকসু এবং হল সংসদ নির্বাচনকেও নিয়মিতকরণ এবং নির্বাচনের তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

২. নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করে পূর্ণাঙ্গ সিনেট কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর পরিচালনা করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বৈধভাবে হলসমূহে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা নিশ্চিতকরণ ও সিট বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. প্রশাসনিক উদ্যোগে আবাসিক হলসমূহে সকল ধরণের রাজনৈতিক ব্লক নিষিদ্ধ করতে হবে। ভীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ কক্ষে নিরাপদে অবস্থান এবং পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

৫. প্রতিটি আবাসিক হলের ডাইনিং এবং ক্যান্টিনসমূহে খাবারের মান বৃদ্ধি করতে হবে, খাবারের মূল্য কমিয়ে ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে,

৬. প্রতিটি আবাসিক হলে পাঠবান্ধব স্টাডি রুম, টিভি রুম, বিনোদন রুম, কম্পিউটার ল্যাব, ইনডোর গেমস রুম, অডিটোরিয়াম এবং হালনাগাদ গ্রন্থ সমৃদ্ধ আধুনিক গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

৭. ক্যাম্পাসে অবস্থানরত খাবারের দোকানগুলোতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনে নির্ধারিত স্থানসমূহে অবস্থানরত পলিথিন ঘেরা দোকানসমূহ উচ্ছেদ করে সেমিপাকা খাবারের দোকানের বরাদ্দ অনুমোদন এবং উন্নত পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের নির্দেশ দিতে হবে। যত্রতত্র এবং ঘিঞ্জি পরিবেশে খাবারের দোকানের অনুমোদন সীমিতকরণ এবং দোকান মালিক কর্তৃক বর্জ্যসমূহ নির্ধারিত জায়গায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে সমুন্নত রাখতে হবে।

৮. কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সপ্তাহে ৭দিন এবং প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাঠকক্ষ সংকট নিরসন পূর্বক পর্যাপ্ত বই এবং গ্রন্থাগারে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত এসির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বই নিয়ে গ্রন্থাগারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ক্যাম্পাসে চুরি, ছিনতাই ও যৌন হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং ছাত্রী হলসমূহের সান্ধ্য আইন বাতিল করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

১০.ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশগ্রহণ, লাইব্রেরি ওয়ার্ক, কো-কারিকুলাম ও বিবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাকে-কে গতিশীল করতে যাতায়াতের জন্য রুট বৃদ্ধিসহ পরিবহন দফতরে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস সংযুক্ত করতে হবে।

১১. হল প্রশাসন ও বিভাগ সমূহে নামে বেনামে আদায়কৃত সকল ধরনের অযৌক্তিক ফি বাতিল, শিক্ষা সনদ ও নম্বরপত্র উত্তোলন এবং সংশোধনে বিড়ম্বনা ও ইমার্জেন্সি ফি বাতিল করতে হবে।

১২. শিক্ষকদের গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট বৃদ্ধি এবং উন্নত মানের গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্মানীসহ গবেষণা সহকারী হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

১৩. পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি নির্মাণ করতে হবে। এবং নিয়মিত সামাজিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার গতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

১৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের অবস্থান, প্রয়োজনীয় মাত্রায় উন্নত মানের ওষুধ সংরক্ষণ, রোগ নির্ণয়, সর্বাধুনিক পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১৫. ক্যাম্পাসকে আকর্ষণীয় ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং অপরিকল্পিত বৃক্ষনিধন নিয়ন্ত্রণ করে অধিক সংখ্যক বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান স্থাপনা ও সড়কসমূহে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি প্যারিস রোডে সিটি করপোরেশন সড়কের মডেলে আলোকোজ্জ্বল রঙিন বাতির ব্যবস্থা করতে হবে।

১৬. অনুষদ এবং বিভাগসমূহে চলমানও বাণিজ্যিক সান্ধ্য কোর্স বাতিল করতে হবে।

১৭. আইন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক, স্বাধীনতা বিরোধী, ধর্মান্ধ, উগ্র, মৌলবাদ ও জঙ্গি মদদপুষ্ট সংগঠন সমূহের সকল প্রকার রাজনৈতিক কার্যকলাাপ ক্যাম্পাসে বন্ধ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :