প্রিয় ক্যাম্পাসে প্রাণবন্ত একদিন..

সোহানুর রহমান, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ অন্যদিনের তুলনায় আজ একটু ভিন্ন পরিবেশ ও ভিন্ন আমেজ বিদ্যমান। না.. টান টান উত্তেজনাপূর্ণ কোনো খেলা চলছে না এখানে। তবু ফাগুনের এই দিনে সূর্যের মোলায়েম রশ্মির নিচে মাঠের সবুজ ঘাস থেকে শুরু করে আকাশে-বাতাশে এক প্রাণচাঞ্চল্যকর পরিবেশ বিরাজমান।

চল্লিশোর্ধ্ব থেকে শুরু করে অশীতিপর বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাদের প্রাণবন্ত ও সজীব পদচারণায় মুখরিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। কিন্তু এদের কারও চেহারায় বিন্দুমাত্র বয়সের ছাপ লক্ষণীয় নয়। একেকজনের চলাফেরা দেখে মনে হয়েছে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কুড়ি বছরের উদ্যমী তরুণ।

আনন্দ-বেদনার সংমিশ্রণ, আড্ডা-গান আর অতীত স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে এক অনাবিল আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা-২০১৯।

‘শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (৯ মার্চ) ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মিলনমেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/09/1552147622562.jpg

এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয় মনোরম সাজে। প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। বয়স, পদ ও সামাজিক অবস্থান ভুলে তারা হারিয়ে যান নিজেদের যৌবনে। ক্যাম্পাসের ফেলে আসা সেই রঙিন জীবনকে খুঁজে ফেরেন তারা। টিএসসির আড্ডা, দুরন্তপনা অথবা আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলো তাদের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে। দিনভর আনন্দ-উল্লাস, ছবি তোলা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, হৈ চৈ ও কোলাহলে ব্যস্ত ছিলেন সবাই।

সকালে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মিলনমেলার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে মিলনমেলার উদ্বোধন করেন।

অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারে সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- মধ্যে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মনজুর এলাহী, রকীব উদ্দীন আহমেদ, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, মিলনমেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার প্রমুখ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/09/1552147642112.JPG

এ সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদসহ সাবেক উপাচার্যগণ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট শিল্পপতি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও উচ্চপদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনন্য অবদান রেখেছেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/09/1552151045830.jpg

এ সময় বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ছাত্র জীবনের বর্ণাঢ্য জীবন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

নির্বাচিত ডাকসু নেতৃবৃন্দ জাতির প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিকেলে সবাই মিলে পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন, আড্ডা, সেলফি ও গ্রুপ ফটো সেশন করেন। সন্ধ্যার পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে দিনব্যাপী মিলনমেলার। স্মৃতির পটে আগলে রাখার মতো একটি দিন উপভোগ করেন সবাই। আজকের মতোই আবারও কোনো একদিন একসাথে মিলিত হবার অভিপ্রায়ে ফিরে যান সবাই আপন নীড়ে।

আপনার মতামত লিখুন :