Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

'জাকসু'সহ সকল নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন

'জাকসু'সহ সকল নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন
নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষকদের প্রতীকী অবস্থান, ছবি: বার্তা২৪
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের ঘোষণা অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ডিন, সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থী শিক্ষকদের জোট ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’।

এ লক্ষ্যে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। তবে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা বলছেন, 'উপাচার্যের অসুস্থতার কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে।'

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘উপাচার্যের কাছে যে আশা ছিল সেই আশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা চেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে চলুক। এখনো আপনার সময় শেষ হয়ে যায়নি। আপনি অতিদ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। যদি না করেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে আসব। গোটা প্রশাসন বসে ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনের আয়োজন করবেন। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে গেছি এমন ঘোষণা দেওয়ার পরেও আপনি লঙ্ঘন করলেন। আপনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় না নিজেরও ক্ষতি করে ফেললেন। আমাদের আন্দোলনের ভিত্তি হলো নৈতিক ও যৌক্তিক। স্মরণ রাখবেন লক্ষ্যে অর্জনের জন্য আমরা খুব শীঘ্রই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘উপাচার্য ও তার আশপাশের মানুষের কারণে আজ বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৬ মের মধ্যে সকল ধরণের নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। কিন্তু এখন উপাচার্যের অসুস্থতার কথা বলে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। গত ৬মার্চ থেকে তিনি অসুস্থতার জন্য ছুটি নিয়েছেন, তাহলে ছুটি নেওয়ার আগে কেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেন না? বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে আছে নির্বাচন দিতে হবে সুতরাং উপাচার্য নির্বাচন দিতে বাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করা প্রয়োজন আর এই জন্য আমরা সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ নেমেছি। আমরা কাউকে রক্ষা বা পদত্যাগের জন্য নামি নাই। আমরা নেমেছি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশকে রক্ষা করতে। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করতে।’

জাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনের কথা বলে উপাচার্য শিক্ষক ও ছাত্রদেরকে মুখোমুখি দাড় করিয়েছেন। উনি বলেছেন শিক্ষকরা নাকি নির্বাচন চায়না। আমি বলছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭০ জন শিক্ষক জাকসু নির্বাচন চায়। আপনি যদি ২১ দিনের মধ্যে শিক্ষকদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করে জাকসু নির্বাচন দিতে পারেন দেন। আমরা চাই আগে জাকসু হোক। তারপরও যদি মনে করেন আপনি শিক্ষকদের নির্বাচন দিবেন না জাকসু দিবেন তবে তাই করেন। কিন্তু ছাত্র শিক্ষক মুখোমুখি অবস্থানে দাড় করাবেন না।’

অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা, অধ্যাপক মো. শামছুল আলম সেলিম, অধ্যাপক কৌশিক সাহা, অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রনু প্রমুখ।

এর আগে গত ১৬ মার্চ উপাচার্য পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে প্রচারিত এক প্রচারপত্রে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা দাবি করেন উপাচার্যের অসুস্থতাকে নিয়ে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের বক্তব্য ‘অত্যন্ত অমানবিক, অযৈাক্তিক ও নিন্দনীয়’। এছাড়া তারা মনে করেন মেয়াদোত্তীর্ণ সকল নির্বাচনের ব্যাপারে উপাচার্য আন্তরিক। তিনি খুব শীঘ্রই সকল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।

এছাড়া দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চার দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ। এর মধ্যে আগামী ১৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি এবং গণসংযোগ, ২১ মার্চ সারাদিন কর্মবিরতি, ২৪ মার্চ দুপুর একটায় কালো পতাকা ধারণ এবং ২৭ মার্চ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের সাধারণ সভা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ৬ মে’র মধ্যে সকল নির্বাচন আয়োজন করার ঘোষণা দেন। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে তফসিল ঘোষণায় গড়িমসি করছেন উপাচার্য এমন দাবি করে আন্দোলনে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থী শিক্ষকদের জোট ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’।

 

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি
ইবিতে প্রতিবাদ র‍্যালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২১ আগস্ট) ক্যাম্পাসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়। এরপর র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে বেলা ১২টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক শাসুজ্জামান খান।

বায়ো টেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শানিহনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়া স্বাগত বক্তা ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

এদিকে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। মানববন্ধনে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের মধ্যে যাদেরকে এখনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাদের শাস্তি কার্যকরে জোর দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুর ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি
জাবিতে ২১ আগস্টের হামলায় জড়িত খুনিদের প্রতীকী ফাঁসি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে গ্রেনেড হামলায় জড়িত তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও হারিস চৌধুরীকে প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্বর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।

প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, '২০০৪ সালের আগস্টের এই দিনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্যদিয়ে দেশকে অন্ধকারে পতিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দেশনেত্রীকে তারা হত্যা করতে পারেনি। সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ২১ আগস্টের ভয়াল এই হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জড়িত ছিল। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।'

এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুইশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র