Alexa

'জাকসু'সহ সকল নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন

'জাকসু'সহ সকল নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন

নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষকদের প্রতীকী অবস্থান, ছবি: বার্তা২৪

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের ঘোষণা অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ডিন, সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থী শিক্ষকদের জোট ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’।

এ লক্ষ্যে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। তবে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা বলছেন, 'উপাচার্যের অসুস্থতার কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে।'

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘উপাচার্যের কাছে যে আশা ছিল সেই আশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা চেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে চলুক। এখনো আপনার সময় শেষ হয়ে যায়নি। আপনি অতিদ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। যদি না করেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে আসব। গোটা প্রশাসন বসে ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনের আয়োজন করবেন। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে গেছি এমন ঘোষণা দেওয়ার পরেও আপনি লঙ্ঘন করলেন। আপনি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় না নিজেরও ক্ষতি করে ফেললেন। আমাদের আন্দোলনের ভিত্তি হলো নৈতিক ও যৌক্তিক। স্মরণ রাখবেন লক্ষ্যে অর্জনের জন্য আমরা খুব শীঘ্রই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘উপাচার্য ও তার আশপাশের মানুষের কারণে আজ বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৬ মের মধ্যে সকল ধরণের নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। কিন্তু এখন উপাচার্যের অসুস্থতার কথা বলে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। গত ৬মার্চ থেকে তিনি অসুস্থতার জন্য ছুটি নিয়েছেন, তাহলে ছুটি নেওয়ার আগে কেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেন না? বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে আছে নির্বাচন দিতে হবে সুতরাং উপাচার্য নির্বাচন দিতে বাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করা প্রয়োজন আর এই জন্য আমরা সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ নেমেছি। আমরা কাউকে রক্ষা বা পদত্যাগের জন্য নামি নাই। আমরা নেমেছি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশকে রক্ষা করতে। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করতে।’

জাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনের কথা বলে উপাচার্য শিক্ষক ও ছাত্রদেরকে মুখোমুখি দাড় করিয়েছেন। উনি বলেছেন শিক্ষকরা নাকি নির্বাচন চায়না। আমি বলছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭০ জন শিক্ষক জাকসু নির্বাচন চায়। আপনি যদি ২১ দিনের মধ্যে শিক্ষকদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করে জাকসু নির্বাচন দিতে পারেন দেন। আমরা চাই আগে জাকসু হোক। তারপরও যদি মনে করেন আপনি শিক্ষকদের নির্বাচন দিবেন না জাকসু দিবেন তবে তাই করেন। কিন্তু ছাত্র শিক্ষক মুখোমুখি অবস্থানে দাড় করাবেন না।’

অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানা, অধ্যাপক মো. শামছুল আলম সেলিম, অধ্যাপক কৌশিক সাহা, অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রনু প্রমুখ।

এর আগে গত ১৬ মার্চ উপাচার্য পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে প্রচারিত এক প্রচারপত্রে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা দাবি করেন উপাচার্যের অসুস্থতাকে নিয়ে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের বক্তব্য ‘অত্যন্ত অমানবিক, অযৈাক্তিক ও নিন্দনীয়’। এছাড়া তারা মনে করেন মেয়াদোত্তীর্ণ সকল নির্বাচনের ব্যাপারে উপাচার্য আন্তরিক। তিনি খুব শীঘ্রই সকল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।

এছাড়া দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চার দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ। এর মধ্যে আগামী ১৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি এবং গণসংযোগ, ২১ মার্চ সারাদিন কর্মবিরতি, ২৪ মার্চ দুপুর একটায় কালো পতাকা ধারণ এবং ২৭ মার্চ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের সাধারণ সভা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ৬ মে’র মধ্যে সকল নির্বাচন আয়োজন করার ঘোষণা দেন। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে তফসিল ঘোষণায় গড়িমসি করছেন উপাচার্য এমন দাবি করে আন্দোলনে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থী শিক্ষকদের জোট ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’।

 

আপনার মতামত লিখুন :