Alexa

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে তালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে তালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দরজায় সাধারণ সদস্যদের লাগানো হাতে লেখা লিফলেট/ ছবি: সংগৃহীত

দুই দফায় সময় বাড়িয়েও নির্বাচন না দেওয়া ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আসিফ ত্বাসীন (আসিফুর রহমান) ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়নের কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে সমিতিতে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন সমিতির সাধারণ সদস্যদের একটি বড় অংশ।

শুক্রবার (২২ মার্চ) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থিত সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে দুটি তালা মারেন সদস্যরা। এ সময় তালাবদ্ধ সমিতির দরজায় ‘সাংবাদিক সমিতির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি অবৈধ ও বিলুপ্ত’ এবং ‘শিবিরের মদদদাতা আসিফকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো’ নামে দুটি লিফলেট টানানো দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে সমিতির সভাপতি আসিফ ত্বাসীনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়নের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। পরে আবার তিনি বলেন, ‘সমিতিতে কোনো তালা লাগানোর ঘটনা ঘটেনি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/23/1553319717406.jpg

সমিতি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৪ ডিসেম্বর এক বছর মেয়াদী এ কমিটির দায়িত্ব নেন আসিফ-নয়ন। সংগঠনের নিয়মানুসারে ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।  কিন্তু নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে একাধিক কারণ দেখিয়ে দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে নেন তারা।

প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়। তা পেরিয়ে গেলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সমিতির সাধারণ সভায় ২২ মার্চ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ২২ মার্চ পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন নিয়ে নানা টালবাহানার কারণে সমিতির সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে সমিতিতে এই তালা লাগিয়ে দেন।

সদস্যদের অভিযোগ, আসিফ ত্বাসীন ও মাহমুদুল হাসান নয়ন গোপনে সদস্যদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সাধারণ সভায় তাদের ইচ্ছামতো মেয়াদ বাড়িয়ে নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি পদে থেকেও সংগঠনের নিয়মভঙ্গ করে গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচন করেন আসিফ ত্বাসীন (আসিফুর রহমান)। সর্বশেষ গত ২১ মার্চ সমিতির প্রথা লঙ্ঘন করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একক সিদ্ধান্তে সমিতির নতুন সদস্যপদ আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে ২১ থেকে ২৩ মার্চ সমিতির নতুন সদস্যপদ দেওয়ার দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। ২২ মার্চ কেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না তার কোনো কারণ দেখানো হয়নি এবং নির্বাচনের কোনো তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।

গত ফেব্রুয়ারিতে বার্ষিক সফরে ভারত ও নেপাল ভ্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। সদস্যদের অভিযোগ, ১২ লাখ টাকা নিয়ে সফরে গেলেও সেই অনুপাতে খরচ হয়নি। এমনকি সফর শেষে এই নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসাব দিচ্ছেন না।

আপনার মতামত লিখুন :