Alexa

‘রাজাকাররা না থাকলে পাকিস্তানিরা কিছুই করতে পারতো না’

‘রাজাকাররা না থাকলে পাকিস্তানিরা কিছুই করতে পারতো না’

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক), ছবি: বার্তা২৪

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক) বলেছেন, রাজাকাররা না থাকলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের কিছুই করতে পারতো না। আমরা যখন যুদ্ধের পরিকল্পনা করতাম, প্রথমদিকে আমরা সাধারণ মানুষের খুব সহযোগিতা পেতাম। এক পর্যায়ে পাকিস্তানিরা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিত। লাখ লাখ মানুষ হত্যা করতো। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে তারা সব সীমা অতিক্রম করে গভীর রাতে সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, শিল্পীদের উপর হামলে পড়লো। ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড চালালো তারা।

সোমবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে তিন দিনব্যাপী মুক্তিসংগ্রাম সাংস্কৃতিক উৎসবের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গাজী গোলাম দস্তগীর বলেন, ‘রাজাকাররা আমাদের ধরিয়ে দিত, আমার সঙ্গী সাথীদের পাকিস্তানি বাহিনীর সহায়তায় গুম করে ফেলতো। তাদের ক্যাম্পে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা শোনার জন্য নির্মম নির্যাতন চালাত। আর এভাবে আমরা হারিয়েছি আলতাফকে, আজাদকে।’

জাতির জনককে স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের বা ছাত্রলীগের নয়, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পত্তি।

অনুষ্ঠানে, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক) সহ বিশিষ্ট পাঁচ ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত বাকি গুণীরা হলেন-

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/25/1553528024442.jpg

মুক্তিযুদ্ধ ও সংগীতে অবদানের জন্য স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ফকির আলমগীর, নারী জাগরণের জন্য জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল আলম এবং চিত্রকলায় অবদানের জন্য কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক।

এর আগে উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফোরকান বেগম, আবৃত্তিকার হাসান আরিফকে একই সম্মাননা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে মুক্তিসংগ্রাম আর্ট ক্যাম্প ও স্থির চিত্র প্রদর্শিত হয়।বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে জীবনঢুলি ও স্টপ জেনোসাইড চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে আলোচনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/25/1553527992365.jpg

তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) থাকছে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, মুক্তির সংগ্রাম চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শেষ দিন বুধবার (২৭ মার্চ) রয়েছে আলোচনা অনুষ্ঠান ও সম্মাননা স্মারক প্রদান, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ চলচ্চিত্র এবং সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ‘একজন জয়নব বিবি ও ক্রান্তিকাল’ নাটকের প্রদর্শনী।

ক্যাম্পাস এর আরও খবর