Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য

রাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়/ ছবি: সংগৃহীত
সাইফুল্লাহ সাইফ
রাবি করেপসন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে বেড়েই চলেছে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য। খেলার মাঠ দখল, ছিনতাই, ছাত্রী উত্যক্ত, মাদক ব্যবসা, বেপরোয়া গতিতে ক্যাম্পাসে মটরবাইক চালানোসহ একের পর এক অপকর্ম করে চলেছে বহিরাগতরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা, মেহেরচণ্ডী, বিনোদপুর, বুধপাড়া ও আশেপাশের এলাকা থেকে বহিরাগতরা হরহামেশাই ঢুকছে ক্যম্পাসে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর, জোহা চত্বর, পশ্চিম পাড়া, পরিবহন মার্কেট, ইবলিশ চত্বর, নাসিরের দোকান, বধ্যভূমি, সোহরাওয়ার্দী হল সংলগ্ন পুকুর পাড় ও মাদার বখ্শ হল সংলগ্ন দিপুর দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বহিরাগতদের আনাগোনা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন এলাকা ও পশ্চিম পাড়া শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেখানেও তারা অবাধে প্রবেশ করে ঘটিয়ে চলেছে নানা অপকর্ম। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যেসব খেলার মাঠ রয়েছে সেগুলোও থাকছে বহিরাগতদের দখলে।

ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালীন একাডেমিক ভবনের সামনে এসে উচ্চস্বরে হর্ন বাজিয়ে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালান বহিরাগতরা। শুধু তাই নয় দ্রুত মোটরবাইক চালিয়ে ছাত্রীদের উত্যক্ত করা বহিরাগতদের রুটিন মাফিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অপকর্মের প্রতিবাদ করলে বহিরাগতদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড, ইবলিস চত্বর, জুবেরি মাঠ, চারুকলাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ছিনতাইয়ের শিকার হন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ঘুরতে আসা লোকজন এমন ঘটনার শিকার হন বেশি। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুঁত বাগান সংলগ্ন রাস্তায় দুই বহিরাগত যুবকের কাছে ছিনতাইয়ের শিকার হন সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন আলী। বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কারণে গত ছয় মাসে প্রায় ২০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের ছত্রচ্ছায়ায় বহিরাগতরা এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নমনীয় অবস্থানের কারণে নিজ ক্যাম্পাসে বখাটেদের কাছে শিক্ষার্থীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ বলেন, ‘বহিরাগতাদের উৎপাতে ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলতে পারি না। খেলার মাঠে খেলতে গেলে বহিরাগতদের সাথে প্রায়ই দ্বন্দ্ব হয়। কিছু বলতে গেলে পরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।’

রাফি নামের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কাম্পাসে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরায় আমাদেরকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ক্যাম্পাসে যে চুরি-ছিনতাইগুলো হয়, তার অধিকাংশের সাথে বহিরাগতরা জড়িত। এছাড়া তারা ক্যাম্পাসে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালায়। তাদের এ অনিয়ন্ত্রিত মোটর সাইকেল চালানোর ফলে প্রায়ই আমাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে।’

দিহান আমীর নামের খালেদা জিয়া হলের এক ছাত্রী বলেন, ‘মেয়েদের হলের সামনে প্রায়ই দলবেঁধে বহিরাগতদের ঘুরতে দেখা যায়। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তারা হলগুলোর সামনে গিয়ে জোরে মোটরসাইকেল চালায় এবং ঘন ঘন হর্ন দিতে থাকে। এছাড়া সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে চলতে গেলে তারা দূর থেকে আজেবাজে মন্তব্য করে। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়।’

এ বিষয়ে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘কেউ যদি ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, হোক সে বহিরাগত কিংবা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী। মাঝে মাঝে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে অভিযান চালিয়ে থাকি। প্রয়োজন হলে আবার অভিযান চালাব।’

আপনার মতামত লিখুন :

জাবির পরিবহনে যুক্ত হলো ৫টি নতুন গাড়ি

জাবির পরিবহনে যুক্ত হলো ৫টি নতুন গাড়ি
গাড়ি উদ্বোধন করলেন জাবি উপাচার্য, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহন ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করতে নতুন করে আরও পাঁচটি গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে। পাঁচটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে- দুটি এসি মিনিবাস, একটি নন এসি মিনিবাস, একটি এসি মাইক্রোবাস ও একটি পিকআপ।

জানা যায়, দুটি এসি মিনিবাস ও এসি মাইক্রোবাস শিক্ষকদের পরিবহনে এবং নন এসি মিনিবাসটি শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হবে বলে জানা যায়।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে পরিবহনগুলোর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, 'আমরা অত্যন্ত খুশি যে, শেষ পর্যন্ত নতুন বাস পেলাম। এর মধ্যদিয়ে আমাদের পরিবহন আরও সমৃদ্ধ হল। যদিও চাহিদার তুলনায় বাসের সংখ্যা এখনো কম। খুব শীঘ্রই আরও কিছু বাস আমরা পরিবহনে সংযোজন করতে পারব।'

গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে সকলের সহযোগিতা কামনা করে উপাচার্য আরও বলেন, 'এসব আপনাদের সম্পদ। আমাদের পরিবহন শুধু গাড়িতেই সুন্দর হবে তা নয়। পরিবহন সেবায় নিয়োজিত সকলের আচরণও ভালো হবে আশা করি।'

এদিকে দুই কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে গাড়িগুলো কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ সিটের এসি মিনিবাস দুটি ক্রয়ে এক কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ও ১৬ সিটের মাইক্রোবাস ক্রয়ে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া পিকআপ ২৯ লাখ এবং ৩০ সিটের নন এসি মিনিবাস ক্রয়ে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক রাশেদা আখতার, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ প্রমুখ।

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সারাদেশে একেরপর এক ঘটতে থাকা খুন, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রমৈত্রী।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর আমরা রাজাকারদের বিচার করতে পেরেছি। কিন্তু দেশে চলমান খুনি, ধর্ষণকারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের কেন বিচার করতে পারছি না?

এ সময় তারা খুন, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের কার্যকরী ভূমিকা পালন করার দাবি জানান।

ছাত্র মৈত্রী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোরশেদ হাবিবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সহসভাপতি আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামিমুল ইসলাম সুমন, শেখ রাসেল হলের সভাপতি আশিকুর রহমান প্রমুখ।

ছাত্র মৈত্রী ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফের সঞ্চালনায় মানবন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দফতর সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ পাপ্পু, প্রচার সম্পাদক মোরশেদুল ইসলাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রিড়া সম্পাদক আশিকুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসাইন আজাদসহ বিভিন্ন পর্যয়ের নেতাতর্মীরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র