Alexa

শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার সক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের জন্য হুমকি

শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার সক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের জন্য হুমকি

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ/ছবি: বার্তা২৪.কম

তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন,‘ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার সক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের জন্য হুমকি।’

‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যদি চিন্তা করার সক্ষমতা, প্রশ্ন করার আগ্রহ, সমাজ ও রাষ্ট্র বিষয়ে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, তবে সেটা স্বৈরতন্ত্র, নিপীড়ক, রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রভুদের জন্য হুমকি। সে জন্য সরব হতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে,’ যোগ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই: উচ্চশিক্ষা, নীতিমালা ও কাঠামো’ শীর্ষক শিক্ষক সম্মেলনের প্রথমদিন তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই- এর উত্তর এক কথায় বললে হবে, বর্তমানে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় চলছে সে রকম বিশ্ববিদ্যালয় আমরা চাই না। বাংলাদেশে বহু রকমের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ দ্বারা পরিচালিত হয়। এটা শুধু অধ্যাদেশ নয়, এটা একটা ইতিহাস।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বৈরশাসকরা মানুষকে যেমন ভয় পায়, তার চেয়ে বেশি ভয় পায় বিশ্ববিদ্যালয়কে। আর এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে যতো রকম অনিয়ম পদ্ধতি আছে তা প্রয়োগ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কেউ যেন প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য সরকার পুতুল তৈরির একটা প্রকল্প নিয়েছে। রাষ্ট্র চায়, রোবট সোফিয়ার মতো শিক্ষার্থী। তাদের যেভাবে বলা হবে ঠিক সেভাবে চলবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে অনুগত করা হয়। আর এখান থেকেই মাস্তান ও মেরুদণ্ডহীন তৈরি হচ্ছে।’

সম্মেলনের প্রথমদিনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, অধ্যাপক বখতিয়ার আহমদ, অধ্যাপক তানজিম উদ্দীন খান, অধ্যাপক একেএম শাহনাওয়াজ, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক আইনুন নাহার প্রমুখ।

এছাড়া সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলন শেষে আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ সম্মেলনে উঠে আসা প্রস্তাব সরকার ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান আয়োজকরা।

আপনার মতামত লিখুন :