Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাবিতে দলীয় নেতাকে তিন ছাত্রলীগের নেতার মারধর

রাবিতে দলীয় নেতাকে তিন ছাত্রলীগের নেতার মারধর
রাবিতে ছাত্রলীগের এক নেতাকে মারধর, ছবি: বার্তা২৪
রাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

তুচ্ছ ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাকে মারধর করেছে বলে তিন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাদিকুল ইসলাম আশিক চারুকলা অনুষদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। অপরদিকে অভিযুক্ত মারধরকারীরা হলেন- ছাত্রলীগ নেতা শাফিউর রহমান, হাসিবুল ইসলাম শান্ত এবং সাদাত আনোয়ার। সাদাত ইতিহাস বিভাগের সভাপতি। বাকি সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। আশিক ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সৌমিত্র কর্মকার রানার অনুসারী।

আশিক অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে আমি এক ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে হবিবুর হলের দিকে যাচ্ছিলাম। একই সময়ে ওই রাস্তায় মোটরসাইকেলযোগে শাফি, সাদাত ও শান্তও যাচ্ছিলেন। তাদের মোটর সাইকেলকে ওভারটেক করায় তারা আমাদের থামতে বলেন। আমরা হবিবুর হলের সামনে গিয়ে মোটর সাইকেল থামালে তারা এসে আমার সঙ্গে তর্ক শুরু করেন এবং আমার পরিচয় জানতে চান। আমি পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আমার উপর চড়াও হন এবং আমাকে মারধর করেন।’

অপরদিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে শান্ত বলেন, ‘আশিক বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল নিয়ে আমাদের অতিক্রম করে। এ সময় সাদাতের হাতের সঙ্গে তাদের মোটর বাইকের ধাক্কা লাগে। পরে আমরা তাদেরকে থামতে বলি। তাদের সঙ্গে আমাদের সামান্য তর্ক হয়েছে। মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।’ আরেক অভিযুক্ত শাফিও একই কথা বলেন। তবে সাদাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পরপরই সৌমিত্র কর্মকার রানা বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে মারধর করা হয়েছে। আমি দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। আমি সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টি দেখবো।’

এর আগে সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বাপ্পীকে মারধর করে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী।

আপনার মতামত লিখুন :

জাবি ভিসির সাংবাদিক লাঞ্ছনায় জবিসাসের নিন্দা

জাবি ভিসির সাংবাদিক লাঞ্ছনায় জবিসাসের নিন্দা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জবিসাস)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য ফারজানা ইসলাম কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছনা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জবিসাস)।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহসান জোবায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জবিসাস সভাপতি হুমায়ুন কবির হুমু ও সাধারণ সম্পাদক লতিফুল ইসলামের পক্ষ থেকে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

জানা যায়, জাবি উপাচার্য কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আলো ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম সীমান্ত গত ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে চাইলে উপাচার্য তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। ‘এমন প্রশ্ন করার সাহস কোথায় পেলে’ বলে সাংবাদিকদের ধমকাতে থাকেন। এ সময় উপাচার্য প্রক্টরকে সাংবাদিক দুজনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শৃঙ্খলা বিধিতে ব্যবস্থা নিতে বলেন এবং তাদের বিভাগীয় সভাপতিকে ডেকে পাঠান।

এক পর্যায়ে উপাচার্য সাংবাদিক দুজনের ছবি তুলে রাখার নির্দেশ দিলে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম তাদের ছবি তুলে রাখেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে ধমকাধমকি করেন এবং নানা হুমকি দেন।

বিবৃতিতে জবিসাস নেতারা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এ হেন অপেশাদার ও অশোভনমূলক আচরণ কোনভাবেই কাম্য নয়। বিভাগীয় সভাপতিকে ডেকে আনা ও সাংবাদিকদের ছবি তুলে রাখা চরম অশোভন ও তাদের শিক্ষাজীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম শিগগিরই সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসে ন্যক্কারজনক এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এ ধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসবেন বলে আহ্বান জানান জবিসাস নেতারা।

প্রশ্ন করা যাবে না জাবি উপাচার্যকে!

প্রশ্ন করা যাবে না জাবি উপাচার্যকে!
জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিককে হেনস্থা করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি প্লাবন তারিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হেনস্থার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম সীমান্ত।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বণ্টনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান তারা। পরে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উপাচার্য।

এসময় বিভিন্ন প্রশ্ন করার পর এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে চান তারা। এ প্রশ্ন করামাত্র উপাচার্য সাংবাদিকদের উপর প্রচণ্ড রেগে যান তিনি। এমন প্রশ্ন করার সাহস কোথায় পেল বলে সাংবাদিকদেরকে ধমকাতে থাকেন তিনি।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে জানালে উপাচার্য তথ্যের সোর্স বলতে বলেন। কিন্তু সাংবাদিকরা সোর্সের গোপনীয়তা রক্ষা করার স্বার্থে সোর্সের নাম বলেননি। এতে উপাচার্য আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরকে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ছাত্র-শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এছাড়া উপাচার্য তাদের বিভাগীয় সভাপতিকে ডেকে পাঠান। এক পর্যায়ে উপাচার্য তাদের ছবি তুলে রাখার নির্দেশ দিলে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম তাদের ছবি তুলে রাখেন।

এসময় তাদেরকে নানা হুমকি প্রদান করেন উপাচার্য। এছাড়া উপাচার্যের কার্যালয়ে থাকা কয়েকজন শিক্ষক ও উপাচার্যের সঙ্গে তালমিলিয়ে হুমকি দিতে থাকেন বলে জানান তারা।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি প্লাবন তারিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে যেকোন অভিযোগ উঠলে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করার পূর্ণ অধিকার সাংবাদিকদের রয়েছে। প্রশ্ন করার কারণে উপাচার্য কোনভাবেই সাংবাদিকদের উপর রেগে যেতে পারেননা।’

এছাড়া তারা অচিরেই প্রশাসনকে এধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র