Alexa

‘‘সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে কেউ বিদায় নেয় না’’

‘‘সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে কেউ বিদায় নেয় না’’

ছবি: বার্তা২৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মো. আলী এবং অধ্যাপক আখতার সুলতানাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার (২০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে বিভাগের পক্ষ থেকে অগ্রায়নের আয়োজন করা হয়।

বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েনের সভাপতিত্বে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান সহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে বিভাগের চেয়ারপারসন বলেন, এ বিভাগে সাধারণত 'বিদায়' কথাটি ব্যবহার করি না। এক্ষেত্রে আমরা 'অগ্রায়ন' শব্দটি ব্যবহার করি। এই বিভাগ থেকে কেউ কখনো বিদায় নেয় না। তারা জীবনে সামনের দিকে অগ্রসর হন; এ কারণেই আমরা 'বিদায়' শব্দটি ব্যবহার না করে 'অগ্রায়ন' শব্দটি ব্যবহার করি।

কাবেরী গায়েন বলেন, আখতার সুলতানা সব সময় বলতেন- শিক্ষকতা কোনো খণ্ডকালীন বিষয় নয়। এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। এর মাধ্যমে তিনি শুধু এই বিভাগের বর্তমান, সাবেক ও অনাগত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অমোঘ বাণী। আহাদুজ্জামান স্যার আমাদের 'ক্রিটিক্যাল স্কুল'সহ অনেক কিছু শিখিয়েছেন, যা আমি এখনো মেনে চলি। তাঁরা ৩৫ বছর ধরে তারা আমাদের পড়িয়েছেন, আমাদের দেখার চোখকে সৃষ্টি করেছেন।

সারাবাংলা.নেটের সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, আহাদ স্যার সম্পর্কে বলতে গেলে স্বামী বিবেকান্দের একটি কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন- বিধাতা আকাশ থেকেও আসেন না বা মাটি ফুঁড়েও আসেন না। ঈশ্বর মানুষের মাঝেই বিরাজ করে। আহাদ স্যারও এমন একজন মানুষ। আমি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর এক অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক ও ভবিষ্যত সম্পর্কে বলেছিলেন। যা এখন আমরা বুঝতে পারি। তিনি একজন সুন্দর মানুষ, সুন্দর মনের মানুষ।

তিনি বলেন, আখতার সুলতানা ম্যাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একজন শিক্ষক, যিনি কোনো ধরনের শিক্ষক রাজনীতি না করে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি আমাদের মায়ের মতোই স্নেহ করতেন।

সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, অবসরগ্রহণ মানে খাঁচা থেকে মুক্ত হওয়া। এতদিন ধরে চলতে থাকা অনুশাসন থেকে মুক্ত হওয়া; যেহেতু আখতার সুলতানা ও আহাদুজ্জামান খাঁচা থেকে মুক্ত হচ্ছেন। এখনো যেহেতু তারা আর খাঁচায় বন্দি নেই, এখন আরো বেশি কিছু দেশকে দিতে হবে।

সদ্যবিদায়ী অধ্যাপক আখতার সুলতানা বলেন, শিক্ষক ও ছাত্র আমাদের একই লক্ষ্য। সহায়তা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক দ্বারা এটা অর্জন করা যায়। কেউ আমাদের সম্মান করবে এটা নয়, সম্মান অর্জন করে নিতে হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের ছেলে-মেয়ের মতো। আমাদের সব সময় তাদের পাশে থাকতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো বুঝতে হবে, প্রয়োজনে এগিয়ে যেতে হবে। জোর করে সম্মান আদায় করা যায় না। তিন দশক পূর্বে যাদের পড়িয়েছি, তারাও এখানে আসছে। এর চেয়ে বড় সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ আর কী হতে পারে।

সদ্যবিদায়ী অধ্যাপক আহাদুজ্জামান বলেন, আমি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে মনে করি না। আজীবন ছাত্রই রয়ে গেছি। আমি খুব শিক্ষক সুলভ ছিলাম না। আমি অনেক দিন বটতলায় ক্লাস নিয়েছি, মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদের সঙ্গে গল্প করেছি। সুতরাং আমি কখনোই শিক্ষকসুলভ ছিলাম না। শেখাটা এখনো আমার অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শেখাতে গিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি, শিখছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। দুই শিক্ষককে উত্তরীয় পরিয়ে দেন ড. কাবেরী গায়েন। তাদের একগুচ্ছ ফুল দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান বিভাগের প্রভাষক তাহমিনা হক দিনা ও মো. আসাদুজ্জামান কাজল। তাদের প্রীতি উপহার দেন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ ও ড. গীতিআরা নাসরীন। তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান ও বর্তমান চেয়ারপারসন কাবেরী গায়েন। অনুষ্ঠানে ২৩টি প্রবন্ধ ও দুই শিক্ষকের দু’টি সাক্ষাৎকার 'অগ্রায়ন জার্নাল' উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :