Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জবিতে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একটিমাত্র লিফট

জবিতে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একটিমাত্র লিফট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, ছবি: সংগৃহীত
নিজাম উদ্দিন শামীম
জবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পুরান ঢাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর উঠানামার জন্য রয়েছে একটি মাত্র লিফট। ফলে নিয়মিত লিফট কেন্দ্রিক ভোগান্তি রাড়ছে শিক্ষার্থীদের। ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়েও লিফটে যায়গা পাওয়া যায় না। পেলেও ধাক্কাধাক্কি করে লিফটে চড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

জবির নতুন ভবনে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে জন্য রয়েছে একটি লিফট ও শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে একটি লিফট। নয় তলা এ ভবনটিতে নিয়মিত প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী আসা যাওয়া করে। এছাড়া এ ভবনটির ৬ষ্ঠ তলায় লাইব্রেরি থাকায় ও বিভিন্ন কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর যাতায়াত করতে হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। আর শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয় মাত্র একটি লিফটে চড়ে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। অনেকে এই নিয়ে সময় মতো ক্লাসে উপস্থিত হতে পারেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র হতে জানা যায়, জবির এ নতুন ভবনটিতে সাতটি লিফট লাগানোর জায়গা রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে দুটি লিফট কার্যকর করা হয়েছে। একটি শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অন্যটি শিক্ষকদের জন্য। তবে ভবনটি ১৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে সবগুলো লিফট কার্যকর করা হবে বলে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনটিতে ১৫টি বিভাগে মোট ৭ হাজার ৮৮০ শিক্ষার্থী রয়েছে। যার মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ৩৮৮, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে ১৩১, ফার্মেসি বিভাগে ২৮৬, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ৩০৮, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩৮৫, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগে ১১৯, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে ১২৬ একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে রয়েছে ১ হাজার ২২৩ শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ১ হাজার ২২০, মার্কেটিং বিভাগে ৭৫২, ফিন্যান্স বিভাগে ৮২৬, আধুনিক ভাষা ইনিস্টিটিউট বিভাগে ৩৪২, আইন বিভাগে ৬১১, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগে ২০৫ ও নৃবিজ্ঞান বিভাগে ৫১৫ জন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০০৫ সালে ভবনটি নির্মাণের জন্য ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। যার সময়সীমা ছিল ২০১৩ সাল পর্যন্ত। কিন্তু নানা অজুহাতে ভবনটির নির্মাণ কাজে বিলম্ব করা হয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'লিফটের জন্য নির্ধারিত সময় পর ক্লাসে যেতে হয়। এছাড়া মাঝে মাঝে লিফটে যায়গা না পেয়ে সিঁড়ি বেয়েই ৮ তলা ৯ তলায় উঠতে হয়।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার চন্দ্র সাহা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য তিনটি লিফটের কাজ শেষ করা হয়েছিল। তবে ভবনের ওপরে কাজ চলার কারণে অনিবার্য কারণ বশত একটি লিফট বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে দুইটি লিফট চালু রয়েছে। একটি শিক্ষকদের জন্য অন্যটি শিক্ষার্থীদের জন্য। বর্তমানে এ ভবনটিতে যাতায়াতের জন্য সাতটি লিফটের যায়গা রাখা হয়েছে। বাকি লিফটগুলো লাগানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।'

আপনার মতামত লিখুন :

ডাকসুর আখতারের ওপর হামলা: ছাত্র ইউনিয়নের নিন্দা

ডাকসুর আখতারের ওপর হামলা: ছাত্র ইউনিয়নের নিন্দা
ডাকসু সমাজ সেবা সম্পাদক আখতারের ওপর হামলায় নিন্দা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজ সেবা সম্পাদক আখতারের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ছাত্র ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক অপূর্ব রায় স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দার জানানো হয়।

এতে বলা হয়, 'সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলন চলাকালীন ডাকসুর সমাজ কল্যাণ সম্পাদকের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। ক্যাম্পাসে যেকোনো ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে বারবার ছাত্রলীগের পেশিশক্তির ব্যবহারে তারা সুন্দর-সুস্থ ক্যাম্পাসের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে তার বিপরীত রূপ তুলে ধরে। আমরা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, আজকের হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।'

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, 'আমরা আজ এও দেখেছি যে, শিক্ষার্থীরা বর্তমান বিতর্কিত ডাকসুর ডাকে সাড়া না দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। এই পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, এই ডাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে না; এই ডাকসু শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে (ডাকসু সাধারণ সম্পাদক বনাম সমাজ কল্যাণ সম্পাদক) মারামারিতে আজ লিপ্ত। শিক্ষার্থীদের এই সচেতনতায়, নিজেদের অধিকার বুঝে নেয়ার চেতনায় আমরা আশাবাদী হই।'

উল্লেখ্য যে, অধিভুক্তির এই আন্দোলন সাত কলেজ বিরোধী হয়ে ওঠায় এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যেভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করে আমরা শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান লক্ষ্য করছি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা করছি। আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং অধিভুক্ত সাত কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা সাপেক্ষে উভয় পক্ষের স্বার্থ ও অধিকার বিবেচনা করে উদ্ভূত সংকট নিরসন করবে।

অবশেষে অধ্যাপক ফারুকের পক্ষে ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি

অবশেষে অধ্যাপক ফারুকের পক্ষে ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি
অধ্যাপক আ ব ম ফারুক

দুধ নিয়ে গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশের পর একজন অতিরিক্ত সচিব কর্তৃক হুমকির দীর্ঘদিন পরে এসে অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে হুমকির ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।

সারাদেশে আ ব ম ফারুকের গবেষণা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও তাকে হেনস্তার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬ জন শিক্ষকের বিবৃতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ হলেও ঢাবি শিক্ষক সমিতির কোন বিবৃতি না দেওয়ায় সমালোচনা হয়।

এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে এ বিষয় নিয়ে দুটি ভাগ ছিল, আমরা ইমোশনালি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। তাই বিষয়টি আমরা প্রথম থেকে আলোচনা করে আসছি। আমরা দেরিতে নয় বরং পূর্ণ বিবেচনা ও সভা করে সবার মতামত নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের প্রতিবাদ্য বিষয় গবেষকদের গবেষণায় হস্তপেক্ষ করা নিয়ে নয়, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব যে দুর্ব্যবহার করেছেন তার বিপক্ষে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সামনে উপাচার্য প্যানেলের জন্য ভোটারদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষক সমিতি এখন বিবৃতি দিয়েছে। এই বিবৃতি ঘটনার পরপরই দেওয়া উচিত ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি অধ্যাপক ফারুকের পর পর দু’টি গবেষণায় বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এর পরই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব গবেষণা-বিশ্লেষণকে ভুল এবং অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ৭১ টেলিভিশনের একটি টক-শোতে অধ্যাপক ফারুকের সঙ্গে ওই সচিব যে রূঢ় ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও শিষ্টাচার বহির্ভূত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ হেন আচরণের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র