Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

অরক্ষিত শহীদ মিনার, ঘষামাজা শুধু ফেব্রুয়ারিতেই

অরক্ষিত শহীদ মিনার, ঘষামাজা শুধু ফেব্রুয়ারিতেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ইমরান হোসাইন
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ১৯৫৭ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে।

কিন্তু শহীদদের আত্মত্যাগের এই গৌরবস্থল আজ অবহেলা, বঞ্ছনা ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলায় শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রকম অশালীন, অনৈতিক, নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ঘটেই চলছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যার পরে শহীদ মিনার এলাকা মাদকসেবীদের অখড়ায় পরিণত হয়। নিয়মিত পরিষ্কার করার কথা থাকলেও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সেদিকে নজর নেয়। তাই ফেব্রুয়ারি ঝকঝকে শহীদ মিনার বছরের অন্য সময়টায় থাকে অপরিষ্কার।

গত ১১ বছর ধরে রাতের বেলা শহীদ মিনার দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত আছেন সিটি করপোরেশনের কর্মচারী রিয়াদ। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতো আল্পনা করে, কতো যত্ন করে মানুষকে দেখানোর জন্য দেয়ালে আল্পনা করে! অথচ সেখানেই অনেকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/25/1556200731907.gif
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার/ ছবি বার্তা২৪.কম

রিয়াদ বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে সকাল-বিকাল এটি পরিষ্কার করার জন্য। কিন্তু তারা তিন দিনে একবার অথবা সপ্তাহে একবার আসে। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাকে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়না।’

শহীদ মিনারের আশপাশ যেন পরিণত হয়েছে ফুটপাতের দোকান রাখার আশ্রমখানায়। রিয়াদ বলেন, 'যে কেউ এসে দোকানপাট তালা মেরে রেখে চলে যায়। কিছু বলতে গেলে অমুক-তমুক নেতার নাম বলে। শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা খুলে উঠতে বললে অনেকে ধমক দেন।’

শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কয়েকটি তথাকথিত মাজার। মাজারের পাশেই অন্ধকার জায়গা, যেখানে সব ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। সেখানে একটি জানালা ভাঙা ঘর রয়েছে, রাত ১২টার পর এখানে বসে গাঁজা, মাদক ইয়াবার আড্ডা।

শহীদ মিনারের উত্তর পাশ হাঁটার জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ভাসমান মানুষরা এখানে নিয়মিত প্রস্রাব-পায়খানা করেন। শহীদ মিনারে কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় এটি আরও প্রকট হচ্ছে।

শহীদ মিনারের বেদীর উপরে উঠা-নামায় পবিত্রতা রক্ষার্থে বিডি ক্লিনার নামে একটি সংগঠনের লিখিত কিছু প্ল্যাকার্ড থাকলেও তা শহীদ মিনারের অব্যবহৃত জায়গায় পড়ে আছে। জানা যায়, বিডি ক্লিনার নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বেশকিছু দিন যাবৎ সংগঠনটি শহীদ মিনার পরিষ্কার করছিলেন। তবে শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে উঠা এক বৃদ্ধকে ঝাড়ু দিয়ে মারার অভিযোগ উঠে বিডি ক্লিনারের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জের ধরে তাদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/25/1556200513061.gif
ফেলে রাখা হয়েছে নির্দেশনা প্ল্যাকার্ডগুলো/ ছবি বার্তা২৪.কম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.একেএম গোলাম রব্বানীর কাছে এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শহীদ মিনারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে একজন লোক রয়েছে। তিনিই দেখাশোনা করেন। যাবতীয় সবকিছু তারাই দেখেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া, প্রোগ্রাম করার ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া। কিন্তু সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয় তথা সিটি করপোরেশনের হাতে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের (যার অধীনে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার) পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রাশেদুর রহমানের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে শহীদ মিনারের পরিচ্ছন্নতার জন্য তিন জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা। সেখানে আরও একজন বাড়িয়ে মোট চার কর্মীকে শহীদ মিনার পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য রেখেছি।’

‘আমাদের কর্মীরা প্রতিদিনই সকালে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজটি করে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সারাদিন অনেক দর্শনার্থী শহীদ মিনার পরিদর্শনে আসেন, ফলে দ্রুত এটি নোংরা হয়ে যায়।’

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি
ইবিতে প্রতিবাদ র‍্যালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২১ আগস্ট) ক্যাম্পাসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়। এরপর র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে বেলা ১২টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক শাসুজ্জামান খান।

বায়ো টেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শানিহনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়া স্বাগত বক্তা ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

এদিকে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। মানববন্ধনে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের মধ্যে যাদেরকে এখনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাদের শাস্তি কার্যকরে জোর দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুর ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি
জাবিতে ২১ আগস্টের হামলায় জড়িত খুনিদের প্রতীকী ফাঁসি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে গ্রেনেড হামলায় জড়িত তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও হারিস চৌধুরীকে প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্বর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।

প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, '২০০৪ সালের আগস্টের এই দিনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্যদিয়ে দেশকে অন্ধকারে পতিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দেশনেত্রীকে তারা হত্যা করতে পারেনি। সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ২১ আগস্টের ভয়াল এই হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জড়িত ছিল। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।'

এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুইশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র