রাবিতে প্রকাশ্যে চলে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম!

সাইফুল্লাহ সাইফ রাবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ইসলামী ছাত্র শিবির গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংগঠনটির নারী শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। অভিযোগ আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি ছাত্রী হলে একক আধিপত্য বিস্তার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থার নেত্রীরা।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হলগুলোতে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকা এবং ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থক সংকটের কারণে তাদের কার্যক্রম বাড়ছে। তাছাড়া সংগঠনের সমর্থন বাড়াতে ও নতুনদের দলে টানতে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। এছাড়া সংস্থার বৈঠকে অংশ নিতে রুমে রুমে গিয়ে আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে কোরআন, হাদিস ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জানা গেছে, হলগুলোতে ছাত্রী সংস্থার নিয়ন্ত্রিত কিছু কক্ষ আছে। কেউ হল ছাড়লে তাদের কর্মী-সমর্থককে সেসব কক্ষে তোলা হয়। শুধু তাই না, হলে হলে ব্লক ভাগ করে নিজস্ব নিয়ম প্রথা চালুর চেষ্টাও করা হয়।

ছাত্রী হলের আবাসিক একাধিক ছাত্রী জানান, ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বৈঠক করেন। কর্তৃপক্ষ যেন বুঝতে না পারে সেজন্য তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ও সরলমনা ধর্মভীরু নারীদের জিহাদে অংশগ্রহণসহ প্রচলিত সংবিধানের বাইরে সমাজ প্রতিষ্ঠা তথা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে জিহাদী মনোভাবাপন্ন করে তোলার চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়াসহ অরাজকতা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। তাই অনতিবিলম্বে এ অপচেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন।’

সম্প্রতি রাবির শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রী সংস্থার এক সদস্যের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে গত ২৪ এপ্রিল রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তখন থেকেই ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রমের বিষয়টি সবার সামনে আসে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় শিবির। এ হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক নিহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে চিরুনি অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়লে গোপনে কার্যকক্রম চালায় শিবির।

এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়। কিন্তু আমরা ছাত্রী হলে অভিযান চালাতে পারি না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে বারবার বলা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. মো. আমিনুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শুনেছি ছাত্রী সংস্থা হলগুলোতে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু এ কাজে জড়িতদের পরিচয় আমরা জানতে পারিনি। পরিচয় পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এই বিষয়টি প্রাধ্যক্ষ পরিষদ দেখবে। তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে তখন আমরা সাহায্য করতে পারবো। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি।’

আপনার মতামত লিখুন :