Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

সেই ছাত্রলীগ নেত্রী দিশাকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ

সেই ছাত্রলীগ নেত্রী দিশাকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ
ছাত্রলীগ নেত্রী শ্রাবণী দিশা/ ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ বঞ্চিত হয়ে প্রতিবাদের কারণে হামলার শিকার হন শ্রাবণী দিশা। পরে তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করছেন দিশা। দিশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

রোববার (১৯ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

শ্রাবণী দিশা জানান, বদরুন্নেছা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এস কে রিমা তাকে ফোন দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপ -মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল কথা বলতে চান।

সন্ধায় রিমা হাতিরপুলের একটি বাসায় শ্রাবণী দিশার কাছে যান। কিন্তু রিমার আচরণ দেখে দিশা বুঝতে পারেন নওফেলের কথা বলে তাকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ সময় তড়িঘড়ি করে রিমা বেরিয়ে যান। পরে তারা জানতে পারেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন।

পরে এই ঘটনায় শ্রাবণী দিশা শাহবাগ থানায় শনিবার রাতে সাধারণ ডায়েরিও করেছেন (জিডি নম্বর ১২০১)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/19/1558265627834.jpg
সংবাদ সম্মেলনে শ্রাবণী দিশা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

 

অভিযুক্ত সেই ছাত্রলীগ নেত্রী এস কে রিমা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নওফেল আমার কাছে ফোন করে শ্রাবণী দিশার নম্বর চান। পরে শ্রাবণী দিশা নিজেই আমাকে ফোন দিয়ে হাতিরপুলে একটি বাসায় যেতে বলেন। আমি সেখানে যাই। তার সঙ্গে আমার স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়। অপহরণের কী হলো এখানে বুঝতেছি না।’

সংবাদ সম্মেলনে শ্রাবণী দিশা বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। যার কারণে আমি এখনও শঙ্কিত।’

সোমবারের মধুর ক্যান্টিনে হামলার সঙ্গে এই অপহরণ চেষ্টার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে বিতর্কিত ও প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গৌরব ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন।

প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করলে পদবঞ্চিত একটি অংশ বিক্ষোভ করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বিবাহিত, ছাত্রদল ও চাকরিজীবীদের পদ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করতে যান। এ সময় তাদের ওপর পদপ্রাপ্ত ও তাদের অনুসারীরা হামলা করেন। এতে শ্রাবণী দিশার চোখে আঘাত লাগে। এই ঘটনায় ছাত্রলীগের পাঁচ থেকে সাত জন আহত হন।

আপনার মতামত লিখুন :

৫৯ বছরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

৫৯ বছরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাকৃবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভাযাত্রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

৫৮ পেরিয়ে ৫৯ বছরে পা দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষি ও কৃষি বিজ্ঞানের সকল শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৬১ সালের আজকের এই দিনে (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহে পূর্ব পাকিস্থান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে এ প্রতিষ্ঠানটি। স্বাধীনতার পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশবিদ্যালয় (বাকৃবি)।

ময়মনসিংহ শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে এক হাজার ২০০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠা এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়েছে ৪৭ হাজার ২৬৮ জন কৃষিবিদ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122325068.gif

প্রতিষ্ঠাকালে ভেটেরিনারি ও কৃষি অনুষদ নামে মাত্র দুটি অনুষদ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ছয়টি অনুষদ রয়েছে। কৃষি, ভেটেরিনারি, পশুপালন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের আওতায় ৪৪ বিভাগে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সাত হাজার ১০৩ জন শিক্ষার্থী ও ৫৮১ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে ১৩টি হল।

শোকের মাস আগষ্টের কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তেমন কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না করে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122353373.gif

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাডে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। পরে হ্যালিপ্যাড থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়।

শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মৎস্য খামারের সহযোগিতায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জার্মপ্লাজম সেন্টারের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বনজ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122378559.gif

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস বাস্তবায়ন উপ-কমিটির সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকিরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান।

উপাচার্য বলেন, 'বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করার যে চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছিলাম, তাতে আমরা জয়লাভ করেছি। তবে বর্তমানে দেশে সেইফ ফুড বা খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়টি আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে আমরা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি।'

জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মদিন পালিত

জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মদিন পালিত
সেলিম আল দীনের জন্মদিনে জাবিতে স্মরণযাত্রা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নানা আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট নাট্যজন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭০ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের সামনে থেকে সেলিম আল দীনের জন্মদিন ও তার রেখে যাওয়া স্মৃতির কথা স্মরণ করে ‘স্মরণযাত্রা’ র‌্যালির শুরু হয়। এ সময় র‌্যালিতে সেলিম আল দীনের বিখ্যাত গান পরিবেশন করা হয়। স্মরণযাত্রাটি সেলিম আল দীনের সমাধিস্থলে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।

স্মরণযাত্রায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিরা ও সেলিম আল দীনের আত্মীয়-স্বজনরা অংশ নেন।

স্মরণযাত্রা শেষে জাবি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, ঢাকা থিয়েটার, সেলিম আল দীন ফাউন্ডেশন, তালুকনগর থিয়েটার, স্বপ্নদল, ঢাকা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, নাটক সংসদ, কলমা থিয়েটার, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মদিন পালিত

এছাড়া দিনব্যাপী নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ আয়োজিত অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে আছে- বেলা সাড়ে ১২টায় ‘উত্তর উপনিবেশবাদ, রাজনীতি এবং প্রজন্মান্তরে নাট্যচর্চা: এক ধবল রক্তিমাভ নাট্য কথা মালার বহু অক্ষীয় পাঠ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এছাড়া দুপুর ২টায় ‘মানুষের নাটক, নাটকের মানুষ’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

উল্লেখ্য, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ফেনী জেলার সোনাগাজীতে ১৯৪৯ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মফিজউদ্দিন আহমেদ ও মাতা ফিরোজা খাতুন দম্পতির তৃতীয় সন্তান তিনি। ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন সেলিম আল দীন।

সারাদেশে নাট্য আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১-৮২ সালে নাট্যযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। নাটক রচনার পাশাপাশি নাটক নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে গেছেন আজীবন। বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্য বিষয়ক কোষগ্রন্থ ‘বাংলা নাট্যকোষ’ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন তিনি নিজেই। তার রচিত ‘হরগজ’ নাটকটি সুয়েডীয় ভাষায় অনূদিত হয় এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল হিন্দি ভাষায় মঞ্চায়ন করেছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণকেন্দ্রিক এথনিক থিয়েটারেরও উদ্ভাবনকারী ছিলেন তিনি।

সেলিম আল দীনের লেখা নাটকের মধ্যে- ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘মুনতাসির ফ্যান্টাসি’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘চাকা’, ‘হরগজ’, ‘প্রাচ্য’, ‘হাতহদাই’, ‘নিমজ্জন’, ‘ধাবমান’, ‘পুত্র’, ‘বনপাংশুল’ উল্লেখযোগ্য। ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে তার গবেষণাধর্মী নির্দেশনা দুইটি ‘মহুয়া’ ও ‘দেওয়ানা মদিনা’। এছাড়া তার রচিত ‘চাকা’ ও ‘কীত্তনখোলা’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র