Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন সংস্থার পথচলা শুরু

প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন সংস্থার পথচলা শুরু
ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

'হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাই উন্নয়নের দিকে' স্লোগান নিয়ে শুরু হলো 'প্রতিবন্ধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন সংস্থা'র পথচলা। এর মাধ্যমে সারাদেশের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়চাকরি ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করতে এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু স্বপ্নবাজ প্রতিবন্ধী তরুণ।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সমাজ সেবা সম্পাদক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার (২২ মে) বিকালে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে উদ্বোধন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এ সংগঠনের শুভ  উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আইনুল ইসলাম, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রভাষক মলয় কুমার সাহা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড় উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী ভাষণে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন,  "আজকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবুল হোসেনের নেতৃত্বে যে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করছে, দেশের প্রতিবন্ধীদের জন্য এটি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আসলে তারা বোঝা নয়, তারা দেশের সম্পদ। প্রতিবন্ধী হয়েও তারা আজ ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে পড়ছেন। অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন  কল্পনা করা যায় না।"

এ সময় তিনি সংগঠনটিকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী শব্দটির বিরূপ ব্যবহার সঠিক নয়। সবাই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। হয়তো তারা সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। সমাজে তাদের সমান অধিকার রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে আমাদের কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড় বলেনবাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিবন্ধীদের সমান অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা রয়েছে। এতে সমধিকার, মানবসত্ত্বার মর্যাদা ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সুতরাং জাতীয় উন্নয়নসহ  সকল কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির ভাষণে আবুল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে হল সংসদ নির্বাচন করি। সেখান থেকে আমি বুঝতে পারি সারা দেশের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিবন্ধী হয়েও নির্বাচনে জয়ী হতে পেরেছি। আমি  দেশের  পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য  কিছু করতে চাই। বাংলাদেশের ইতিহাস একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। আমাদের লেখাপড়া শেষ হলে বেকার থাকতে হয়। আমরা প্রতিবন্ধীদের চাকরি, পুনর্বাসন ও তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন :

জাবি শাখা ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে হোটেল মালিককে মারধরের অভিযোগ

জাবি শাখা ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে হোটেল মালিককে মারধরের অভিযোগ
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী, সুমন জোয়ার্দার, ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক হোটেল মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার সুজন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং সার্ভিসে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম সুমন জোয়ার্দার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ তম ব্যাচের ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী বলে জানা যায়।

সুজন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং সার্ভিসের মালিক মো. সুজন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'রোববার বিকালে সুমন তার বান্ধবীকে নিয়ে আমার দোকানে আসে। এ সময় তার বাড়ি থেকে আনা মাংস গরম করে দিতে বলে। কিন্তু আমাদের গ্যাসের চুলা নিভিয়ে ফেলায় আমরা অস্বীকৃতি জানাই। এরপরও সুমন কয়েকবার আমাকে ডাকে। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে আমি শুনতে পাইনি। পরে তার কাছে গেলে সুমন আমাকে বলে, তোর কানেতো সমস্যা, যাওয়ার সময় ঠিক করে দিয়ে যাব। খাওয়া শেষে বান্ধবীকে নিয়ে চলে যায় সুমন। পরে হলের সাত-আটজন জুনিয়র ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে এসে কাঠের টুকরা দিয়ে আমাকে মারধর করে।'

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন জোয়ার্দার মারধরের ঘটনা স্বীকার করে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দোকানের কাঠের চেলা দিয়ে মারছি। তার দোষের কারণেই মারধর করা হয়েছে। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে সেও মারধর করত।'

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'মাত্র জানতে পারলাম, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দোকানগুলো হলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত হল প্রশাসন নেন। তবে যেহেতু মারধরের ঘটনা ঘটেছে আমরা খোঁজ খবর নেব। এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগপত্র পাইনি।'

৫৯ বছরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

৫৯ বছরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাকৃবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভাযাত্রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

৫৮ পেরিয়ে ৫৯ বছরে পা দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষি ও কৃষি বিজ্ঞানের সকল শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৬১ সালের আজকের এই দিনে (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহে পূর্ব পাকিস্থান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে এ প্রতিষ্ঠানটি। স্বাধীনতার পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশবিদ্যালয় (বাকৃবি)।

ময়মনসিংহ শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে এক হাজার ২০০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠা এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়েছে ৪৭ হাজার ২৬৮ জন কৃষিবিদ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122325068.gif

প্রতিষ্ঠাকালে ভেটেরিনারি ও কৃষি অনুষদ নামে মাত্র দুটি অনুষদ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ছয়টি অনুষদ রয়েছে। কৃষি, ভেটেরিনারি, পশুপালন, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের আওতায় ৪৪ বিভাগে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে সাত হাজার ১০৩ জন শিক্ষার্থী ও ৫৮১ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে ১৩টি হল।

শোকের মাস আগষ্টের কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তেমন কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না করে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122353373.gif

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাডে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। পরে হ্যালিপ্যাড থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়।

শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মৎস্য খামারের সহযোগিতায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জার্মপ্লাজম সেন্টারের সহযোগিতায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বনজ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566122378559.gif

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস বাস্তবায়ন উপ-কমিটির সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকিরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান।

উপাচার্য বলেন, 'বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করার যে চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছিলাম, তাতে আমরা জয়লাভ করেছি। তবে বর্তমানে দেশে সেইফ ফুড বা খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়টি আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে আমরা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র