Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

নানা জটিলতায় বিলম্বিত হতে পারে জকসু নির্বাচন

নানা জটিলতায় বিলম্বিত হতে পারে জকসু নির্বাচন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় / ছবি: সংগৃহীত
নিজাম উদ্দিন শামীম
জবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই বিলম্বিত হতে পারে জকসু নির্বাচন।

২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। আর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্রসংসদের বিধানটি যুক্ত করা হয়নি। তাই আইনটি সংশোধন করে সেখানে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের বিধানটি যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিলে প্রশাসন তাদের সাময়িক আশ্বাস দেয়। বলা হয়, ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেলে জকসু নিয়ে তারা আলোচনায় বসবে। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকসু নির্বাচন হয়ে গেলেও জকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের কোনো প্রদক্ষেপ নেই।

গত ১৬ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জকসু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও জকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় জকসু নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। কারণ জকসু নির্বাচনের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো খসড়া চূড়ান্ত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিম্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে ডাকসুর আদলে নীতিমালা প্রণয়ন করে জকসু নির্বাচন দেওয়ার জন্য। কিন্তু এমন হলে পরাজিত পার্থী যদি আইনের আশ্রয় নেয় তাহলে নির্বাচন বাতিল হয়ে যাবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে জকসুর বিধানটি যুক্ত নেই। তাই প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে ও সিন্ডিকেট সভায় আইনটি পাশ করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠাতে হবে। তারপর জকসু নির্বাচন দেওয়া যাবে। আর সেটা করতে হলে সময়ের প্রয়োজন।’

তবে এ বিষয় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা বলেন, জকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। প্রশাসন মনোযোগ দিলে সব ধরনের জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থাকাকালে ১৯৫৪ সালে জগন্নাথ কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে ও পরে আর কোনো ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

ধর্মভিত্তিক দলের ব্যাপারে ঢাবি সিনেটকে কঠোর হওয়ার আহবান শোভনের

ধর্মভিত্তিক দলের ব্যাপারে ঢাবি সিনেটকে কঠোর হওয়ার আহবান শোভনের
ঢাবি সিনেট, ছবি: বার্তা২৪

ধর্মভিত্তিক দল যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য ঢাবি সিনেটকে কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিনেট সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। এসব দলকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৬ জুন) নওয়াব নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেট সিনেট অধিবেশনে ছাত্রপ্রতিনিধি হিসাবে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

বিকেলে উপাচার্য আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে ছাত্রপ্রতিনিধির বক্তব্যে এই সিনেট সদস্য বলেন, ডাকসু নির্বাচনে কিছু ধর্মভিত্তিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। আমি সিনেট অধিবেশনে এটি বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ধর্মভিত্তিক দলের রাজনীতি ও নির্বাচন করার বৈধতা নেই। কিন্তু গত ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা) অংশগ্রহণ করে। এতে প্রশ্নবিদ্ধ হয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দাবি ছিল তারা স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করেছিল, কোনো দল থেকে না।

সিনেট অধিবেশনে শোভনের প্রস্তাব- লাইব্রেরির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা, ক্যানটিনে খাবারের মান বৃদ্ধি করা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাস বৃদ্ধি ও পুরাতন বাসগুলোর সংস্করণ, প্রক্টরিয়াল টিমকে আরও প্রশিক্ষিত করা, তাদের জন্য আরও গাম্ভীর্জপূর্ণ পোশাকের ব্যবস্থা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কাজ অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা, শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট আইডেন্টিটির ব্যবস্থা করা, ঢাবির হাসপাতালের মান উন্নয়ন করা ইত্যাদি।

শোভন বলেন, ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জম্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে সরকারের বছরব্যাপী বাংলাদেশজুড়ে কর্মসূচি থাকবে। সে হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও মার্চ মাসজুড়ে কর্মসূচি হাতে নেওয়া যায় কি-না, সে ব্যাপারে ভাবতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়তি সলিমুল্লাহ মুসলিম ও ফজলুল হক মুসলিম হলে ভাস্কর্য স্থাপন করা যেতে পারে। 

আরও পড়ুন: ঢাবি ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রস্তাব রাব্বানীর

ঢাবি ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রস্তাব রাব্বানীর

ঢাবি ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রস্তাব রাব্বানীর
ঢাবির বাজেট অধিবেশন, ছবি: বার্তা২৪.কম

গবেষণা ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ওয়েব সাইটকে আধুনিকায়ন, লাইব্রেরীর অবকাঠামেগত উন্নয়ন, ক্যাম্পাসকে ছিনতাইয়ের কবল থেকে রক্ষায় সিসি টিভির আওতায় নিয়ে আসা সহ সিনেটে বেশ কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন ডাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী।

বুধবার (২৬ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বার্ষিক বাজেট অধিবেশনে এসব প্রস্তাব করেন তিনি।

এ সময় ছাত্রপ্রতিনিধি হিসাবে গোলাম রাব্বানী বলেন, 'দীর্ঘ আটাশ বছরের অচলায়তন ভেঙে ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার জন্য উপাচার্য মহোদয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।'

প্রসঙ্গত ডাকসু থেকে নির্ধারিত পাঁচ জন প্রতিনিধি সিনেটে সদস্য হিসএবে ছাত্রপ্রতিনিধি হয়ে কথা বলতে পারেন।

গোলাম রাব্বানী যেসব প্রস্তাবনা করেন-

গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি; ওয়েব সাইটকে আপডেট রাখা; লাইব্রেরির অবকাঠামোতমগত উন্নয়ন; ডাকসুর বহুতল ভবন নির্মাণ; ছিনতাই রোধে পুরো ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরায় নিয়ে আসা;পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কাজের তদারকি বাড়ানোর জন্য পরিচয় লিস্ট সহকারে প্রকাশ এবং প্রত্যেক হলে কেয়ারটেকার নির্ধারণ।

এছাড়া রাব্বানী সাত কলেজ ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। এটির দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ঢাবির বাজেট ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র