Alexa

সন্ধ্যা নামলেই ছিনতাই আতঙ্ক, নির্বিকার জাবি প্রশাসন

সন্ধ্যা নামলেই ছিনতাই আতঙ্ক, নির্বিকার জাবি প্রশাসন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: বার্তা২৪

মাজেদ মিয়া লেগুনা ড্রাইভার। গাড়ি চালান সাভার এলাকায়। সন্ধ্যার পর মালিকের কাছে গাড়ি জমা দিয়ে সারাদিনের মজুরি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। থাকেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়াতে। সবদিন বাসে ফিরলেও মাজেদ মিয়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক হয়ে হেঁটে ফিরছিলেন। গন্তব্য গেরুয়ার বাসায় ফেরা। কিন্তু একটু পথ এগুতেই মুখে কাপড় বাঁধা আর হাতে বড় ছুরি নিয়ে হাজির কয়েকজন ব্যক্তি। মাজেদ মিয়ার আর বুঝতে বাকি রইলো না এরা কারা। মুহূর্তেই সারাদিনের রোজগার হারাল মাজেদ। 

শুধু মাজেদ মিয়া নয়, সাধারণ পথচারী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক সবাই এই স্থানটিতে নিয়মিত ছিনতাইয়ের শিকার হন। তবে বারবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার পরেও মিলছে না তার প্রতিকার। বরং নিঃস্ব হতে হচ্ছে জনসাধারণকে। রয়েছে জীবন হারানোর ভয়ও।

জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন গেইটে ছিনতাইয়ের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীর নাম সাব্বির হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ছিনতাইয়ের শিকার ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ইফতার করার পর টিউশনিতে যাওয়ার জন্য সাইকেল নিয়ে বের হই। ডেইরি গেইট পার হতেই মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন গেইটের একটু আগের জঙ্গল থেকে ৩ জন ছিনতাইকারী চাপাতি হাতে আমার সাইকেল আটকায়।

এ সময় আমি চিৎকার করতে থাকি, তখন রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটা বাস দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে ওরা চাপাতি দিয়ে বাসে আঘাত করলে বাস চলে যায়। এসময় আমার কাছে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় তারা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যা নামলেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইট থেকে মীর মশাররফ হোসেন হল গেইট সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সর্বস্বান্ত হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেক পথচারিদের। আবার অনেক সময় তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হন পথচারি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর একই জায়গায় ছিনতাইয়ের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা রংপুরের আশিক, ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফিজ উদ্দিন, ২৪ অক্টোবর ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রিয়াংকা প্রিয়া, ১২ ডিসেম্বর ৩ জন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, ১৪ ডিসেম্বর ৩৬ তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিন।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার বিভাগের ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফাহিম ছিনতাইকারীদের হাতে গুরুতর জখম হন এবং চলতি বছর ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌরভ সিদ্দিকিসহ গত কয়েক বছরে এ জায়গায় অগণিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদিপ্ত শাহীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যেহেতু জায়গাটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে তাই ওখানে যাওয়া আমাদের জন্য আইন বহির্ভূত। আমরা এ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা জেলা পুলিশের সঙ্গে বসে মিটিং করেছি। এছাড়া ও একাধিকবার চিঠি দিয়েছি ঢাকা জেলা পুলিশকে। আশাকরি দ্রুত সমাধান হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এলাকাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকার কারণে আমাদের নিজস্ব সিকিউরিটি দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে আমরা বারবার পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি কিন্তু তারপরও দেখছি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলছে। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এলাকাটি নিরাপদের সাথে চলাচলের জন্য অনুরোধ করব।’

আশুলিয়া থানার দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তা শেখ মো. রেজাউল হক বলেন, ‘এই এলাকায় আমাদের পুলিশের টহল সব সময় থাকে। আমরা একাধিকবার আসামি ধরেছি এবং তাদের চালান করে দিয়েছি। কিন্তু ছাড়া পেয়ে তারা আবার ছিনতাই শুরু করেন। তবে গত এক মাসে আমরা কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা জানতে পারিনি। ভবিষ্যতে আমাদের পুলিশের টিম আরও বেশি তৎপর থাকবে। যাতে ওই স্থানে কাউকে ছিনতাইয়ের শিকার না হতে হয়।

আপনার মতামত লিখুন :