Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

ঢাবি ক্যাস্পাসে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গণপরিবহন

ঢাবি ক্যাস্পাসে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গণপরিবহন
প্রক্টরিয়াল কমিটির এক সভা, ছবি: বার্তা২৪.কম
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গণপরিবহন। এখন থেকে ভারী কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না। এছাড়া নীলক্ষেত থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রহরী বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সেমিনার কক্ষে প্রক্টরিয়াল কমিটির এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানীর সভাপতিত্বে সভায় সহকারী প্রক্টররা, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের প্রতিনিধিরা, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক শামস-ই-নোমান এবং ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে লরি, তেলের ট্যাংকার, বড় ট্রাকসহ সব ধরনের ভারী যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তা কঠোরভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শহিদুল্লাহ হল সংলগ্ন এশিয়াটিক সোসাইটির গেট, চানখারপুল-ডিএসসি, পলাশী ও নীলক্ষেত মোড় দিয়ে ক্যাম্পাসে যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব প্রবেশমুখ দিয়ে অতিরিক্ত যানবাহনের প্রবেশ ঠেকাতে প্রাথমিকভাবে প্রক্টরিয়াল টিম, বিএনসিসি, রোভার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পৃথকভাবে পাহারা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার থেকেই এসব জায়গায় পাহারা বসানো হতে পারে। সভায় ক্যাম্পাসে ছিনতাই রোধ, ভাসমান বস্তি উচ্ছেদ, টোকাই, ভিক্ষুক ও হিজরাদের দৌরাত্ম রোধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক যানবাহন নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

সভায় প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না। তাই আমরা সীমিত রাখার চেষ্টা করছি। এজন্য বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বেচ্ছাসেবক টিম দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা চান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলেছে এমসি কলেজ, সংঘর্ষের আশঙ্কায় বন্ধ ছাত্রাবাস

খুলেছে এমসি কলেজ, সংঘর্ষের আশঙ্কায় বন্ধ ছাত্রাবাস
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা, অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ও শুভ জন্মাষ্টমীর ছুটি শেষে গত রোববার (২৫ আগস্ট) খুলেছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ (মুরারিচাঁদ কলেজ)। তবে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় বন্ধ রাখা হয়েছে কলেজের ছাত্রাবাস।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট রাতে ছাত্রাবাসের কক্ষ দখল নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। পরদিন একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হঠাৎ ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেওয়ায় দুর্ভোগে পরেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি ঈদুল আজহার ছুটি শেষেও ছাত্রাবাস না খোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকমাস ধরে কলেজ ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ছাত্রাবাসের কক্ষ দখল নিয়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চৌধুরী এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হোসাইন আহমদ বলয় সক্রিয় রয়েছেন। এ দুই পক্ষই জেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী।

এমসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র চন্দ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ছুটির পর ছাত্রাবাস বন্ধ রেখেই কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আপাতত ছাত্রাবাস বন্ধই থাকবে।’

মধ্যরাতে অস্ত্র নিয়ে ইবি ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

মধ্যরাতে অস্ত্র নিয়ে ইবি ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া
ইবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৫ আগস্ট) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগের উভয় পক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দেখা যায়। এ ঘটনায় রাতভর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে প্রায় ২০/২৫ জন নেতাকর্মী সাদ্দাম হোসেন হলে যায়। এরপর তারা ছাত্রলীগের এক গ্রুপের কর্মী মোশাররফ হোসেন নীলের খোঁজে হলের ২৩৫ নম্বর কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকতে থাকে। এরপর তারা কক্ষের দরজায় লাথি মারতে থাকলে নীল বেরিয়ে আসেন। এরপর রাকিবের নেতৃত্বে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন কুমার দাসসহ অন্যান্যরা নীলকে মারধর শুরু করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566794788745.JPG

একপর্যায়ে নীল হল থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ফোনে তিনি বিষয়টি তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের জানান। এরপর ছাত্রলীগের এক অংশের নেতা বিপুল, অনিকসহ ১০/১২ জন কর্মী জিয়া মোড়ে যান।

অপরদিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরাও জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা জিয়া মোড় থেকে শেখ রাসেল হলের সামনে ধেয়ে আসলে ছাত্রলীগের অন্য অংশের নেতাকর্মীরাও তাদেরকে পাল্টা ধাওয়া দেয়। পাল্টা ধাওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মী শেখ রাসেল হল, জিয়া হলসহ বিভিন্ন হলে পলিয়ে যায়।

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় উভয় পক্ষে কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দেখা যায়। এ সময় জিয়া মোড়সহ জিয়া হল ও লালন শাহ হলের সামনে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন ও সহকারী প্রক্টর এস এম নাসিমুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566794803272.jpg

মোশাররফ হোসেন নীল বলেন, ‘আমাকে রুম থেকে রেব করে দেওয়া উদ্দেশ্যে রাবিক (সাধারণ সম্পাদক) ও সুমনের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন আমার রুমের সামনে এসে লাথি মারতে থাকে। আমি সেসময় রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। এরপর আমি রুম থেকে বের হওয়া মাত্রই রাকিব ও সুমনসহ অন্যান্য আমাকে মারধর করে।’

এ বিষয়ে সোমবার (২৬ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বার্তাটোয়েন্টফোর.কমকে বলেন, ‘গতকাল রাতের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কিছু অছাত্ররা এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমরা পরবর্তীতে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা তন্ময় সাহা টনি বার্তাটোয়েন্টফোর.কমকে বলেন, ‘শোকের মাসে সাধারণ সম্পাদক (রাকিব) আমাদের দুই কর্মীকে অযাচিতভাবে মারধর করেন। আমরা এর কারণ জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হন। পরবর্তীতে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে একটি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566794814505.JPG

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘রাতেই ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি যান এবং সবার সঙ্গে কথা হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আজ (সোমবার) বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে বসব। এরপর ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র