Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ঢাবি ক্যাস্পাসে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গণপরিবহন

ঢাবি ক্যাস্পাসে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গণপরিবহন
প্রক্টরিয়াল কমিটির এক সভা, ছবি: বার্তা২৪.কম
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গণপরিবহন। এখন থেকে ভারী কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না। এছাড়া নীলক্ষেত থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রহরী বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সেমিনার কক্ষে প্রক্টরিয়াল কমিটির এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানীর সভাপতিত্বে সভায় সহকারী প্রক্টররা, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের প্রতিনিধিরা, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক শামস-ই-নোমান এবং ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে লরি, তেলের ট্যাংকার, বড় ট্রাকসহ সব ধরনের ভারী যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তা কঠোরভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শহিদুল্লাহ হল সংলগ্ন এশিয়াটিক সোসাইটির গেট, চানখারপুল-ডিএসসি, পলাশী ও নীলক্ষেত মোড় দিয়ে ক্যাম্পাসে যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব প্রবেশমুখ দিয়ে অতিরিক্ত যানবাহনের প্রবেশ ঠেকাতে প্রাথমিকভাবে প্রক্টরিয়াল টিম, বিএনসিসি, রোভার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পৃথকভাবে পাহারা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার থেকেই এসব জায়গায় পাহারা বসানো হতে পারে। সভায় ক্যাম্পাসে ছিনতাই রোধ, ভাসমান বস্তি উচ্ছেদ, টোকাই, ভিক্ষুক ও হিজরাদের দৌরাত্ম রোধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক যানবাহন নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

সভায় প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না। তাই আমরা সীমিত রাখার চেষ্টা করছি। এজন্য বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বেচ্ছাসেবক টিম দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা চান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

বেরোবির নতুন প্রক্টর আতিউর রহমান

বেরোবির নতুন প্রক্টর আতিউর রহমান
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। ছবি: সংগৃহীত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নতুন প্রক্টর হিসেবে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আতিউর রহমানকে (চলতি দায়িত্ব) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাতে জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব.) আবু হেনা মুস্তাফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আতিউর রহমানকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে এ দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে সকল প্রকার সভা সমাবেশ, মিছিল, মাইকিং এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ পরিপন্থী সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছেন নতুন প্রক্টর আতিয়ার রহমান।

এদিকে দীর্ঘ তিন বছর আট মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানসহ চার দফা দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২৩ জুন থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন করছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি সংগঠন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে আন্দোলনরত কর্মচারীরা তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে বিকেলে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় এবং হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে ফেলেন। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কার্যকরী কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বুধবার (২৬ জুন) সকাল থেকে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বেরোবি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের নেতারা।

কুবি ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত না করতে আইনি নোটিশ

কুবি ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত না করতে আইনি নোটিশ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাসকে দ্বিখণ্ডিত না করতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। গত ৩০ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন ১৩ জন বাদীর পক্ষে এ আইনি নোটিশটি পাঠান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিষয়টি এতদিন জনসম্মুখে আসেনি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, ভূমি সচিব,চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা পুলিশ সুপার, কোটবাড়ী পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়।

জানা গেছে, সংলগ্ন জমি থাকা সত্ত্বেও এক হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য অনেক দূরে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এমনকি ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণের দাবিতেই এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে দ্বিখণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ বর্জন করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমান ক্যাম্পাসের সাথে নতুন ক্যাম্পাসের একটি সুপ্রশস্ত নিজস্ব রাস্তা করে দিবে এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রভাবশালী মহলকে খুশি করতে আন্দোলনরত এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দাবি এড়িয়ে যান।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর ২০১৮ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরে কুবিক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য কুমিল্লা সদর উপজেলার লালমাই মৌজার অন্তর্ভুক্ত ৭, ৯, ১২ ও ১৩ নং সিটের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে, মূল ক্যাম্পাস থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এদিকে, প্রকল্প পাসের পর থেকে প্রভাবশালী একটি মহল নতুন ওই এলাকায় জমি কিনতে শুরু করেছেন। যাতে জমি অধিগ্রহণের সময় তারা বেশি দামে জমি বিক্রি করতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র নেতারা জানান,বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুকৌশলে ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা করছে। বর্তমান ক্যাম্পাস সংলগ্ন যাদের জমি আছে তারা জমি দিতে প্রস্তুত। এরপরও ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত চেষ্টা করা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নোটিশদাতা আইনজীবী কামাল হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘নোটিশে ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত করার কার্যক্রম বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি নোটিশ গ্রহীতারা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মো. আবদুল মান্নান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমি এখনও লিগ্যাল নোটিশ পাইনি। তবে যদি ক্যাম্পাস সংলগ্ন পর্যাপ্ত জমি পাওয়া যায় তাহলে কেন দূরে যাবে?’

এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীকে একাধিক বার ফোর করেও পাওয়া যায়নি। তবে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমরা আইনি নোটিশটি পেয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী নোটিশের জবাব দেওয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র