Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পদবঞ্চিতদের অনড় কর্মসূচি ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে

পদবঞ্চিতদের অনড় কর্মসূচি ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেয়া পদবঞ্চিতরা। ছবি: বার্তা২৪.কম
তপন কান্তি রায়
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিতদের সরাতে পদবঞ্চিতরা অনড় অবস্থানে থাকলেও তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পদবঞ্চিতরা এমন আন্দোলন করছে। ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করছে তারা।

অপরদিকে পদবঞ্চিত নেতারা জানান, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করলে কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াবে তারা। আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের পদায়ন করারও দাবি জানিয়েছে পদবঞ্চিতরা।

কিন্তু কমিটিতে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও পদবঞ্চিতরা রাস্তায় নেমে অবস্থান কর্মসূচি করায় ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেছেন ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের ‘ভাবমূর্তি’ নষ্ট করতেই এমনটা করছে।

তবে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার কথা অস্বীকার করেছেন পদবঞ্চিতদের মুখপাত্র রাকিব হোসেন। তিনি বলেন,‘কমিটিতে বিতর্কিতরা আছে, সেটার প্রমাণও আছে। তারাই কমিটিকে বিতর্কিত করছে।’

তিনি জানান, কমিটি ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাতে অখুশি ছিলেন না তারা। কিন্তু এখনো বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, গেল ১৩ মে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। ওই দিনই সন্ধ্যায় কমিটির বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিতরা। এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারীরা এই পদবঞ্চিতদের মারধর করেন। এর কয়েকদিন পর রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন পদবঞ্চিতরা। পরে আন্দোলন থেকে সরে আসে তারা।

কিন্তু বিতর্কিতদের বাদ না দেওয়ায় গত ২১ দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন এই পদবঞ্চিত নেতারা।

ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতার মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম একজন। তিনি জানান, ছাত্রলীগের ‘ভাবমূর্তি’ নষ্ট করতেই পদবঞ্চিতরা এমন আন্দোলন করছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বার্তা২৪.কমকে জানান, কিছু দুষ্টলোক ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পদবঞ্চিতদের ব্যবহার করছে।

পদবঞ্চিতদের আন্দোলন দুষ্টুমি ছাড়া আর কিছু না জানিয়ে তিনি জানান, এরা ভাগ ভাগ করে আন্দোলন করছে। নিজেরা কয়েকজন থাকছে। আবার আরেক দল আসছে। এটা দুষ্টুমি ছাড়া আর কিছুই না।

তিনি জানান, যারা বিতর্কিত, তারা বাদ হবেই। ছাত্রলীগকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্যই এবার কমিটি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

নিজের অস্ত্রে ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত গুলিবিদ্ধ

নিজের অস্ত্রে ছাত্রলীগ নেতা মেশকাত গুলিবিদ্ধ
মেশকাত হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন নিজের পকেটে থাকা অস্ত্রে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ হল গেটের ভেতরে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মেশকাত হোসেনের পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘লোডেড অস্ত্র পকেটে নিয়ে ঘুরলে যা হয় আর কি! আরও খারাপ কিছু হতে পারত।’

একটি সূত্র জানায়, মেশকাত সব সময় অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে হল গেটে ঢোকার সময় সম্ভবত অস্ত্র আনলক করা ছিল। তাই অসাবধানে গুলি বের হলে তার ডান পায়ের হাঁটুতে লাগে।

এ ব্যাপারে মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্র সংসদের ভিপি মারিয়াম জামান খান সোহান জানান, হলে ঢোকার সময় মেশকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। আর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মকবুল হোসেন ঘটনাটি দেখার জন্য লোক পাঠিয়েছেন বলে জানান।

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’
‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনার/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে শিখন-পঠনের নতুন মাধ্যম স্টেম শিক্ষা। এর সহায়তায় এমন এক সুসমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে যাতে তারা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, বাস্তবজ্ঞান, যেকোন কিছুকে ভেঙে তার মূল সমস্যায় পৌঁছাতে পারবে। এজন্য একুশ শতকে স্টেম শিক্ষা অতি জরুরি।

শনিবার (২০ জুলাই) ‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  ড কামাল উদ্দীন আহমেদ, স্টেম বাংলাদেশের আহবায়ক ড আল নাকীব চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি থাকার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, স্টেম শিক্ষা হচ্ছে নতুন উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেকোনো কিছুর অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা অর্জন করে ক্রিটিক্যাল ব্যাখ্যা করতে পারবে।

তিনি বলেন, দারিদ্রতা এবং বৈষম্য দূরীকরণে এটি বড় অবদান রাখতে পারবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি হবে রিয়েল লাইফ সিচুয়েশন অর্থাৎ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে কি ব্যবস্থা নিতে হবে, সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। স্টেমকে স্মার্ট শিক্ষা পদ্ধতি হিসাবেও তিনি মনে করেন।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে স্টেম শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের জীবনের একটি লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ, মানসম্মত, সংঘাতমুক্ত সমাজ ও ভারসাম্য পরিবেশে বসাবস করা। সেজন্য স্টেম শিক্ষা হবে সার্ভাইভাল টেকনিক যেটা প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল খুঁজতে মানুষকে সাহায্য করবে। এই সুবিধা  যাতে সবাই পায় সেজন্য আমরা লাইব্রেরির সুযোগ সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ইত্যাদির প্রতি নজর দিচ্ছি।

অনুৃষ্ঠানে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড জ্যাক হোলব্রুক এবং ড মুহাম্মদ আব হাদী বুনয়ামিন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র