Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ক্যানসারজয়ী শাহনাজ

দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ক্যানসারজয়ী শাহনাজ
দেশ সেরা প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ কবীর, ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মনোবল, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে অসাধ্য সাধন করা যায়, তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত শাহনাজ কবীর। মরণব্যাধি ক্যানসারজয়ী এ লড়াকু শিক্ষিকা পেশাগত জীবনেও অর্জন করেছেন শ্রেষ্ঠ সম্মাননা। নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী এসভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ কবীর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে এ সম্মাননা পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর তাকে সারা দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সেরা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত করে।

আগামী ২৬ জুন জাতীয় ভিত্তিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দেশসেরা প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।

শাহনাজ কবীরের অসামান্য সংগ্রাম প্রচেষ্টা নিয়ে বার্তা২৪.কম ১৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তা জাতীয় ক্ষেত্রে স্বীকৃতি লাভ করলো এই সম্মাননার মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: ‘কিশোরগঞ্জের বেগম রোকেয়া’ শাহনাজ কবীর

শাহনাজ কবীর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা, জেলা, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সেরা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।

শাহনাজ কবীর ২০০৬ সালের ৬ মার্চ কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বিদ্যাপীঠ এসভি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের গৌরবময় ফলাফল ও সাফল্য সূচিত করেন তিনি। ১৯৭০ সালের ১৮ মার্চ হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার কুমড়ি-দুর্গাপুর গ্রামের শাহনাজ পুলিশ অফিসার বাবার অধ্যাবসায় ও নিষ্ঠায় কিশোরগঞ্জের নারী শিক্ষায় নবজোয়ার আনেন।

২০১০ সালে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১২ ও ২০১৩ সালে টানা দু’বার এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে এসভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জেলার সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে। ২০১৫ সাল থেকে শতভাগ পাশ ও সর্বাধিক জিপিএ-৫ এর কৃতিত্ব দেখিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলায় ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থান দখল করে আছে এসভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। এসভি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের মোট ২৩৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৬ জন জিপিএ-৫ সহ শতভাগ পরীক্ষার্থী পাশ করে।

একাডেমিক এই ফলাফলের বাইরে শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্য অঙ্গণেও প্রতিষ্ঠানটি তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

দুই কন্যা সন্তানের গর্বিত জননী হলেও স্কুলের সকল ছাত্রীরই তিনি মা। ক্যানসারজয়ী এই শিক্ষাবিদের স্বামী ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরকারের একজন উপসচিব। শিক্ষার পাশাপাশি সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার সরব পদচারণা লক্ষণীয়। লেখক হিসাবেও তিনি সুপরিচিত। কর্ম ও যোগ্যতার স্বীকৃতি স্বরূপ দেশসেরা প্রতিষ্ঠান প্রধান হয়ে তিনি শত বিরূপতার মধ্যেও নিরন্তর সচল থাকার আশাবাদী উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে ডাকসু সদস্য তিলোত্তমার বাধা!

অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে ডাকসু সদস্য তিলোত্তমার বাধা!
আন্দোলনকারীদের অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য শাসান তিলোত্তমা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের করা অবরোধ অন্দোলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডাকসু ও সিনেট সদস্য তিলোত্তমা শিকদারের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) অবরোধ চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার আদেশ দেন তিনি।

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে টিএসসির চতুর্দিকের রাস্তাসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর অবরোধ করে রেখেছিল ঢাবি শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, টিএসসিতে অবরোধ চলাকালীন দুপুর ১২টার দিকে সুফিয়া কামাল হল থেকে রিকশাযোগে টিএসসিতে আসেন তিলোত্তমা শিকদার। টিএসসিতে এসে তিনি নিজ হাতে ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলেন এবং আন্দোলনকারীদের অবরোধ তুলে নেয়ার জন্য শাসিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী কিছু শিক্ষার্থী জানান, তিলোত্তমা শিকদার ব্যারিকেড সরিয়ে দিলে আন্দোলনকারীদের সাথে তার বাদানুবাদ হয়। তখন তিলোত্তমা বলেন, 'সুফিয়া কামাল হল থেকে টিএসএসি পর্যন্ত আসতে তার ৪০ মিনিট সময় লেগেছে।'

জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় পত্র না দেখালে অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা কোনো রিকশা ছেড়ে দিচ্ছেন না। তাই অবরোধ তুলে নিতে বলেছি।'

অধিভুক্ত বাতিল, অটোমেশনের আওতায় যাবতীয় কার্যক্রম, রিকশা ভাড়া নির্ধারণসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নে গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ২টার দিকে ডাকসু সদস্য তানভির হাসান সৈকত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন। শাহবাগে অবরোধ শেষে প্রোগ্রামের সমাপ্তি টানেন অপরাজেয় বাংলায় এসে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, ভিসি কার্যালয় ঘেরাও, শাহবাগমোড় অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিলসহ ইত্যাদি লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে আজকের মতো অবরোধ স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা।

দাবি আদায় না হলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা ঢাবি শিক্ষার্থীদের

দাবি আদায় না হলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা ঢাবি শিক্ষার্থীদের
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্দোলনরত ঢাবরি শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্ত বাতিল করা না হলে শাহবাগমোড় অবরোধসহ লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) আন্দোলনের মুখপাত্র ঢাবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘আমরা কয়েকদিন যাবত আন্দোলন করে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিন্দুমাত্র পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা শাহবাগমোড় অবরোধ করার পরও তারা আমাদের কাছে আসেনি।’

আরও পড়ুন: শাহবাগে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ, তীব্র যানজটের সৃষ্টি

এ সময় লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা লাগাতার কর্মসূচি পালন করব। লাগাতার কর্মসূচির মধ্যে থাকবে শাহবাগমোড় অবরোধ, ভিসি কার্যালয় ঘেরাও, ক্লাস পরীক্ষা বর্জন এবং বিক্ষোভ মিছিল।’

এর আগে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাজুভাস্কর্যে জড়ো হয়। এরপর তারা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগমোড়ে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত অবস্থান করে।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো- সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, দুই মাসের মধ্যে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ফলাফল ঘোষণা, সকল কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় এবং ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া নির্ধারণ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র