‘গেস্টরুমে’ ছাত্রলীগের মারধরের শিকার ২৪ শিক্ষার্থী

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ‘গেস্টরুমে’ এক সাথে প্রথম বর্ষের ২৪ জন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এতে মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মনিরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী।

শনিবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মুমিন আবিরের নেতৃত্বে হলে কয়েক মাস যাবত গেস্টরুম চলে আসছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, ‘মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে প্রথম বর্ষের কিছু ছাত্র উপস্থিত থাকতে পারেননি। সেদিন রাতেই প্রথম বর্ষের সব ছাত্রকে গেস্টরুমে ডেকে দ্বিতীয় বর্ষের ‘পলিটিক্যাল ভাইয়েরা’ কর্মসূচি উপস্থিত না থাকা ছাত্রদের রাতে রুমে ঘুমাতে নিষেধ করে দেন।

অন্য রুমমেটদেরও বলে দেওয়া হয় যাতে কর্মসূচিতে না যাওয়া শিক্ষার্থীরা রুমে ঢুকতে না পারেন। কিন্তু নিষেধ অমান্য করে রুমে ঘুমাতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার রাতে হলের ২১২ নম্বর রুমে গেস্টরুমে ২৪ জন শিক্ষার্থীকে লোহার রড, বাঁশ, স্ট্যাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করা হয়।

মারধরকারীদের মধ্যে ছিলেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সোলেমান রনি, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের মাহমুদুল হাসান, স্বাস্থ্য অর্থনীতির রুবেল হোসেন সহ আরও কয়েকজন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন ও হলের এজিএস আবিরের অনুসারী।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখালে তাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে আরেক দফা মারধর করা হয়।

মারধরের বিষয়ে এজিএস আবির বলেন, ‘এটি ভুল তথ্য। তারা দুই বন্ধু মারামারি করেছিল, আমরা মিটিয়েও দিয়েছিলাম।’

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘ছাত্রলীগের এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও বহুবার এমন হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ডাকসুতে দু’জন বাদে সবাই ছাত্রলীগ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছে। ছাত্রলীগও বলেছিল তারা গেস্টরুম-গণরুম প্রথা বন্ধ করবে। কিন্তু তারা এটি না করায় আমার মনে হচ্ছে তারা তাদের অপকর্মকে বৈধতা দিতেই ডাকসুকে ব্যবহার করছে।’

ডাকসুর এজিএস ও ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। আমরা গেস্টরুমের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব।’
এদিকে, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জিয়া রহমান।

আপনার মতামত লিখুন :