৭ বছরেও নেই শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি

আরাফ আহমদ, শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (শাবিপ্রবি) ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থী। সবারই আশা থাকে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়ার। কিন্তু শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সাত বছর চললেও এখনো নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে কেন্দ্র থেকে বারবার আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেনি। তাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এর আগে ২০১৩ সালের ৮মে ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাত সদস্য বিশিষ্ট একবছর মেয়াদি কমিটি অনুমোদন দেন। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুটি নতুন কমিটি আসলেও কমিটি হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে কমিটির দেওয়ার একবছর পর ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করে নতুন কমিটি। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তিন বছর পর ২০১৬ সালে দেওয়া হয়েছে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি। অনেক নেতাকর্মী হয়েছেন বহিষ্কার ও সমালোচিত। বেশিরভাগই নতুন কমিটির আশা ত্যাগ করে হতাশাগ্রস্ত হয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে নতুন নেতৃত্ব এবং কমিটির দাবি উঠলে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। সম্মেলনের পরিবর্তে কর্মী সভা করে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহ করা হয় তখন। ওই সময় সবাই কমিটির আশা দেখলেও আবার হতাশ হতে হয় তাদেরকে।

কেন্দ্রে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে কমিটি হচ্ছে, হবে বলেই দায়সারা কথা বলতে দেখা যায়। এরই মধ্যে পরিবর্তন আসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে, নেতৃত্বে আসেন শোভন-রব্বানী। আবার আশার আলো দেখতে শুরু করেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্র্রীয় কমিটি হওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও নতুন কমিটির আশ্বাস দেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরই কমিটি হবে বলে সিলেটে সফরত অবস্থায় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় নেতাকর্মীদের আবার শুরু হয় ঢাকা-সিলেট যোগাযোগ। ঘোষণা দেওয়ার কয়েকমাস পার হয়ে গেলেও কমিটি দিতে পারেনি কেন্দ্র। আবার ফিকে হয়ে যায় তাদের আশা, কমে যায় ঢাকা সিলেট যোগাযোগ। পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে আবার যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা নিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে সাংবাদিকদের জানান রাব্বানী। চলতি বছরের ১৩মে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পরও নতুন কমিটির আলো আসেনি শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির ২১ সহসভাপতির মধ্যে ১৮ জনই সাবেক ছাত্র, বিবাহিত ও চাকরিজীবী। যৌন হয়রানি ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন সভাপতি সঞ্জিবন চক্রবর্তী পার্থ বহিষ্কার হলে ২০১৭ সালে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সহসভাপতি রুহুল আমীন। এখনো পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান, তিনি ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ১৪৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তার ছাত্রত্ব বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়। নয় জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সাতজন সাবেক ছাত্র, বিবাহিত ও বহিষ্কৃত।

অন্যদিকে, নয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে ছয়জন সাবেক ছাত্র, বিবাহিত ও একজন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ৫০ জন সম্পাদক ও উপসম্পাদকের মধ্যে ২৬ জনই সাবেক ছাত্র ও ছয় জন চাকরিজীবী। ২৫ জন সহ-সম্পাদক ও ৩৫ কার্যনির্বাহী সদস্যের মধ্যে ২৭ জনের ছাত্রত্ব রয়েছে এবং বাকিদের ছাত্রত্ব শেষ, বহিষ্কৃত ও চাকরিজীবী।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স ফাইনাল সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। নতুন কমিটি না পাওয়ায় ২০১২-১৩, ২০১১-১২, ২০১০-১১ কিংবা ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাবেক ছাত্রের খাতায় নাম লেখাতে হয়েছে।

কমিটির ধারাবাহিকতা না থাকায় এই শিক্ষাবর্ষগুলো থেকে কমিটি আসাটা দিনদিন অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরেও যদি কমিটি না হয় তাহলে আরও একটি ব্যাচ সাবেক ছাত্রের খাতায় নাম লেখাবে। বিগত বছরগুলোতে যারা কমিটির ‘হট ক্যান্ডিডেট’ হিসেবে আলোচনায় থাকার কথা ছিল তারাও আজকে সাবেক ছাত্রের খাতায় নাম লেখাচ্ছেন। অনেকে হতাশ হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ছেন। আবার অনেকে ক্যাম্পাসে থেকেই চাতক পাখির মত চেয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করলেও আমাদের কপালে জুটেনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়। বারবার কেন্দ্র থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও কেউ কথা রাখেনি। দ্রুত সময়ের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান তারা।

কমিটি নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কমিটি দেওয়ার কথা জানান। তারা বলেন, কমিটির দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্র আন্তরিক। ঢাকার ইউনিটগুলো নিয়ে কাজ করছেন তারা, শিগগিরই বাকি কমিটিগুলো দেওয়া হবে বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন :