জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মদিন পালিত

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
সেলিম আল দীনের জন্মদিনে জাবিতে স্মরণযাত্রা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সেলিম আল দীনের জন্মদিনে জাবিতে স্মরণযাত্রা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নানা আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট নাট্যজন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭০ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের সামনে থেকে সেলিম আল দীনের জন্মদিন ও তার রেখে যাওয়া স্মৃতির কথা স্মরণ করে ‘স্মরণযাত্রা’ র‌্যালির শুরু হয়। এ সময় র‌্যালিতে সেলিম আল দীনের বিখ্যাত গান পরিবেশন করা হয়। স্মরণযাত্রাটি সেলিম আল দীনের সমাধিস্থলে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।

স্মরণযাত্রায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিরা ও সেলিম আল দীনের আত্মীয়-স্বজনরা অংশ নেন।

স্মরণযাত্রা শেষে জাবি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, ঢাকা থিয়েটার, সেলিম আল দীন ফাউন্ডেশন, তালুকনগর থিয়েটার, স্বপ্নদল, ঢাকা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, নাটক সংসদ, কলমা থিয়েটার, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মদিন পালিত

এছাড়া দিনব্যাপী নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ আয়োজিত অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে আছে- বেলা সাড়ে ১২টায় ‘উত্তর উপনিবেশবাদ, রাজনীতি এবং প্রজন্মান্তরে নাট্যচর্চা: এক ধবল রক্তিমাভ নাট্য কথা মালার বহু অক্ষীয় পাঠ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এছাড়া দুপুর ২টায় ‘মানুষের নাটক, নাটকের মানুষ’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

উল্লেখ্য, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ফেনী জেলার সোনাগাজীতে ১৯৪৯ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মফিজউদ্দিন আহমেদ ও মাতা ফিরোজা খাতুন দম্পতির তৃতীয় সন্তান তিনি। ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন সেলিম আল দীন।

সারাদেশে নাট্য আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১-৮২ সালে নাট্যযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। নাটক রচনার পাশাপাশি নাটক নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে গেছেন আজীবন। বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্য বিষয়ক কোষগ্রন্থ ‘বাংলা নাট্যকোষ’ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন তিনি নিজেই। তার রচিত ‘হরগজ’ নাটকটি সুয়েডীয় ভাষায় অনূদিত হয় এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল হিন্দি ভাষায় মঞ্চায়ন করেছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণকেন্দ্রিক এথনিক থিয়েটারেরও উদ্ভাবনকারী ছিলেন তিনি।

সেলিম আল দীনের লেখা নাটকের মধ্যে- ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘মুনতাসির ফ্যান্টাসি’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘চাকা’, ‘হরগজ’, ‘প্রাচ্য’, ‘হাতহদাই’, ‘নিমজ্জন’, ‘ধাবমান’, ‘পুত্র’, ‘বনপাংশুল’ উল্লেখযোগ্য। ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে তার গবেষণাধর্মী নির্দেশনা দুইটি ‘মহুয়া’ ও ‘দেওয়ানা মদিনা’। এছাড়া তার রচিত ‘চাকা’ ও ‘কীত্তনখোলা’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :