সাত কলেজের একটি আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত: ভিপি নুর

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর,  ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অধিভুক্ত সংকট সমাধানে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে আলাদা একটি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, যেহেতু সাত কলেজ রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কলেজ। সে হিসেবে সমস্যা সমাধানে সাত কলেজ নিয়ে আলাদা একটা বিশ্ববিদ্যালয় করা যেতে পারে।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাতে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

এসময় ভিপি নুর বলেন, রাজধানীর ভিতরে সবচেয়ে ভালো কলেজগুলো নিয়ে এ সাতটা কলেজ। এগুলো নিয়ে আলাদা একটা বিশ্ববিদ্যালয় করা যেতে পারে। ঢাকা কলেজের অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো। এটাকে বিশ্ববিদ্যালয় করে প্রয়োজনে বাকি কলেজগুলোকে এর অধীনে দিয়ে দিতে পারে। ইডেনকেও একটা বিশ্ববিদ্যালয় করা যেতে পারে। ঢাবির দিকে চাপানোকে আমি কোনোভাবেই সমর্থন করিনা।

এসময় তিনি ঢাবির অধিভুক্ত আরও ১০৪টি প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তিরও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, শুধু সাত কলেজ নয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত আরও যে ১০৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এগুলোর অধিভুক্তিও এখন বাতিল করা দরকার। কারণ তাদের নামেমাত্র অধিভুক্ত রাখা হয়েছে কিছু অর্থনৈতিক সু্বিধার জন্য।

ভিপি আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল ঢাবির অধীনে অথচও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো মেডিকেল ফ্যাকাল্টি নেই। তাহলে ঢাকা মেডিকেলকে কিভাবে তারা গাইড লাইন দেবে। টেক্সটাইলের সঙ্গে ঢাবির কোনো সংযোগ নেই অথচও সেটাকেও অধিভুক্ত রাখে। এর কোনো মানে নেই বরং এসব এক ধরণের বোঝা। এজন্য আমার ব্যক্তিগত অভিমত এগুলো বাতিল করা উচিত।

প্রসঙ্গত, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর থেকে চাপ কমানোর লক্ষে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে সরকার। কলেজগুলো হচ্ছে- ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কাজী নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং মিরপুর বাংলা কলেজ। কিন্তু অধিভুক্ত করার ফলে শিক্ষার মানতো উন্নত হয়নি বরং নতুন সংকট তৈরি হয়েছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে।

সেশনজট, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, গণহারে ফেল ইত্যাদি নিয়ে কয়েকবার আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সাত কলেজ ঢাবির অধিভুক্তি থাকুক এটিও মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী। অধিভুক্ত বাতিলের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে টানা চারদিন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ, গত ২৪ জুলাই অধিভুক্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানকল্পে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড মুহাম্মদ সামাদকে আহবায়ক করে ১১ সদস্যের সুপারিশ কমিটি গঠন করে উপাচার্য  আখতারুজ্জামান। কমিটিকে বলা হয় ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে। একমাস অতিক্রম করলেও সুপারিশ কমিটির কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এটাকে প্রশাসনের একধরণের সময়ক্ষেপণ বলে অভিযোগ করেন অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।  

আপনার মতামত লিখুন :