৬ দাবি আদায়ে আন্দোলনে জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের পাঁচটি হল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প থেকে শাখা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও এই মহাপরিকল্পনা সংস্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ।

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ দাবিসহ ছয়টি দাবি জানান।

তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা, নির্মাণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সকল ব্যয়ের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশের তিনটা হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু করা এবং কাজ স্থগিত রেখে সকল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাস করে কাজ শুরু করা।

দাবি আদায়ের জন্য তারা তিন দিনব্যাপী কর্মসূচিও ঘোষণা দিয়েছেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিক্ষোভ মিছিল, সোমবার দিনব্যাপী গণসংযোগ, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং সন্ধ্যায় ট্রান্সপোর্ট চত্বরে পাবলিক টক এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় মশাল মিছিল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, ‘মহাপরিকল্পনার কোনো শর্ত পূরণ করা হয়নি এই পরিকল্পনায়। স্বভাবতই এটি অপরিকল্পিত মহাপরিকল্পনা। এতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলকে ঘিরে গাদাগাদি ও প্রকৃতি ধ্বংস করে তিনটি হল নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-স্বার্থ, প্রকৃতি ও পরিবেশ এবং স্বাভাবিক জীবনধারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ছেলেদের তিনটি ও মেয়েদের তিনটি ১০ তলা হল নির্মাণের দরপত্রের সব কাজ গত মে মাসে শেষ হয়। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দরপত্রের শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। পূর্বনির্ধারিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্যই টেন্ডারের দরপত্র ছিনতাই করা হয়েছে- এমন অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় দৈনিকে। কিন্তু সেই অভিযোগের কোনো তদন্ত করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

লিখিত বক্তব্যে একটি জাতীয় দৈনিকের উদ্ধৃতি টেনে তিনি আরও বলেন, ‘ভয়ানক অস্বচ্ছতা ও লুটপাটের প্রক্রিয়াতে অগ্রসর হয়েছে এই অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। শুরুতেই ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। উপাচার্য নিজে প্রকল্পের টাকা থেকে দুই কোটি টাকা তুলে দিয়েছেন ছাত্রলীগের হাতে। এই হরিলুটের ফসল দ্রুত ঘরে তুলতেই তড়িঘড়ি করে, সকল মতামত পায়ে দলে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এই উন্নয়ন প্রকল্প।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক তারেক রেজা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান প্রমুখ, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য রাকিবুল রনি ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক শাকিল উজ-জামান ও যুগ্ন আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :