শোক দিবসে শাবিপ্রবি প্রক্টরের হাসিমাখা ছবি ভাইরাল

শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত শাবিপ্রবি প্রক্টরের হাস্যোজ্জ্বল মুখ, ছবি: সংগৃহীত

শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত শাবিপ্রবি প্রক্টরের হাস্যোজ্জ্বল মুখ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ।

শ্রদ্ধাঞ্জলির কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবিগুলোতে শাবিপ্রবি প্রক্টরের হাসিমুখ নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। ছবির পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস, পাল্টা স্ট্যাটাস এবং কমেন্ট-পাল্টা কমেন্ট লক্ষ্য করা যায়।

গত ১৫ আগস্ট শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে স্থাপিত জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ, হল এবং সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওইদিনের ছবিগুলোতে দেখা যায় ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ, সৈয়দ মুজতবা আলী হল, কর্মচারী সমিতির সঙ্গে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার সময় এবং ফুল দেওয়ার পর বেশ কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কয়েকটি ছবিতে প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ হাসছেন। একাধিক ছবিতে বিভিন্ন সংগঠন এবং ব্যক্তির সঙ্গে হাসিমাখা ছবি তোলায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেন অনেকেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566792787428.jpg

এ নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য সাজিদুল ইসলাম সবুজ এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আগস্ট মাসে সারা বাংলাদেশ ছেয়ে যায় ‘কাঁদো বাঙ্গালি কাঁদো’ এই স্লোগানে। আর সেই ১৫ আগস্ট শাবিপ্রবির প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ সাহেব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ২৫টা দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এই ব্যক্তির বিচার চাই আমরা সাবেক ছাত্রলীগের কর্মীরা।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম বুলবুল ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী হিসেবে পরিচিত একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক যিনি আবার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শোক দিবসের প্রোগ্রামে এমন ছবি তোলা ও অঙ্গভঙ্গি আমার কাছে চেতনা পরিপন্থী, লজ্জাকর ও অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে!!’

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য অনুজ কান্তি দাস রাজ নামের আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হাসি-আনন্দে জাতীয় শোক দিবস পালনে তারাই শ্রেষ্ঠ। লজ্জা থাকা দরকার।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566792802025.JPG

তবে রাকিবুল ইসলাম সাগর নামে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক কর্মী আরেকটা স্ট্যাটাস লেখেন, ‘ছবি নিয়ে নষ্টামি করবেন না। স্যার সেই সময় অপ্রস্তুত ছিলেন হয়তো, অথবা অন্য কোনো কারণে হেসেছিলেন, সেটা নিয়েও আপনাদের সমস্যা? স্যারের মতো অমায়িক মানুষ ক্যাম্পাসে খুব কম আছে।’

হাসিমাখা ছবির বিষয়ে যোগাযোগ করলে প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তখন অপ্রস্তুত অবস্থায় অন্য আরেকটা প্রসঙ্গে দূর থেকে কেউ কথা বলছি। সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আর অন্য কিছু নয়।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মনজুর-উল-হায়দার (সুমন আকন্দ) আগস্ট মাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে কটূক্তি করেছিলেন। ওই বছরের ১৫ জুলাই ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেন- ‘দিন গুনছি..আসছে আমার আনন্দের আগস্ট’। এই স্ট্যাটাসটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566792820816.JPG

এ নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ও শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তার শাস্তির দাবি করেন। পরবর্তীতে সুমন আকন্দকে চাকরি থেকে ছয় মাসের অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি সহকারী অধ্যাপক থেকে পদাবনতি দিয়ে প্রভাষক করা হয়েছে। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :