মধ্যরাতে অস্ত্র নিয়ে ইবি ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

ইবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ইবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ইবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৫ আগস্ট) মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগের উভয় পক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দেখা যায়। এ ঘটনায় রাতভর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে প্রায় ২০/২৫ জন নেতাকর্মী সাদ্দাম হোসেন হলে যায়। এরপর তারা ছাত্রলীগের এক গ্রুপের কর্মী মোশাররফ হোসেন নীলের খোঁজে হলের ২৩৫ নম্বর কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকতে থাকে। এরপর তারা কক্ষের দরজায় লাথি মারতে থাকলে নীল বেরিয়ে আসেন। এরপর রাকিবের নেতৃত্বে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন কুমার দাসসহ অন্যান্যরা নীলকে মারধর শুরু করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566794788745.JPG

একপর্যায়ে নীল হল থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ফোনে তিনি বিষয়টি তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের জানান। এরপর ছাত্রলীগের এক অংশের নেতা বিপুল, অনিকসহ ১০/১২ জন কর্মী জিয়া মোড়ে যান।

অপরদিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরাও জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা জিয়া মোড় থেকে শেখ রাসেল হলের সামনে ধেয়ে আসলে ছাত্রলীগের অন্য অংশের নেতাকর্মীরাও তাদেরকে পাল্টা ধাওয়া দেয়। পাল্টা ধাওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মী শেখ রাসেল হল, জিয়া হলসহ বিভিন্ন হলে পলিয়ে যায়।

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় উভয় পক্ষে কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দেখা যায়। এ সময় জিয়া মোড়সহ জিয়া হল ও লালন শাহ হলের সামনে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন ও সহকারী প্রক্টর এস এম নাসিমুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566794803272.jpg

মোশাররফ হোসেন নীল বলেন, ‘আমাকে রুম থেকে রেব করে দেওয়া উদ্দেশ্যে রাবিক (সাধারণ সম্পাদক) ও সুমনের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন আমার রুমের সামনে এসে লাথি মারতে থাকে। আমি সেসময় রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। এরপর আমি রুম থেকে বের হওয়া মাত্রই রাকিব ও সুমনসহ অন্যান্য আমাকে মারধর করে।’

এ বিষয়ে সোমবার (২৬ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বার্তাটোয়েন্টফোর.কমকে বলেন, ‘গতকাল রাতের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কিছু অছাত্ররা এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমরা পরবর্তীতে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা তন্ময় সাহা টনি বার্তাটোয়েন্টফোর.কমকে বলেন, ‘শোকের মাসে সাধারণ সম্পাদক (রাকিব) আমাদের দুই কর্মীকে অযাচিতভাবে মারধর করেন। আমরা এর কারণ জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হন। পরবর্তীতে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে একটি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566794814505.JPG

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক ড. আনিছুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘রাতেই ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি যান এবং সবার সঙ্গে কথা হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আজ (সোমবার) বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে বসব। এরপর ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :