পৃথক মন্ত্রণালয়ের মতোই চলছে ডাকসু, নেই সমন্বয়!

ইমরান হোসাইন, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
(বাম থেকে) নুরুল হক নুর, গোলাম রাব্বানী ও সাদ্দাম হোসাইন, ছবি: সংগৃহীত

(বাম থেকে) নুরুল হক নুর, গোলাম রাব্বানী ও সাদ্দাম হোসাইন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মন্ত্রণালয়গুলো যেমন পৃথকভাবে নিজেদের কাজ নিজেরাই করেন, ঠিক তেমনি  মন্ত্রণালয়ের মতোই চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। অভিযোগ উঠেছে, ডাকসু প্রতিনিধিদের মধ্যে নেই কোনো সমন্বয়। সমন্বয়হীনতার অভাবে শিক্ষার্থীরা দেখছেন না তাদের কাঙ্ক্ষিত আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর সহ ডাকসুর কয়েকজন সম্পাদক, সদস্যের মাধ্যম ও বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম এর অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসুকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু ছয় মাস অতিক্রম করতে চললেও  সেটার প্রতিফলন দেখতে না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সমন্বয়হীনতার মূলে রয়েছে ভিপির সঙ্গে অনৈক্য, গঠনতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ না ঘটা, দলীয় লেজুড়বৃত্তি, ছাত্রলীগ প্যানেলের দু'ভাগে বিভক্তি, অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, ক্ষমতাসীনদের ডাকসু-কে গতিশীল না করার প্রবণতা ইত্যাদি।

সমন্বয়হীনতার অভাবেই শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করার সুযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়া ডাকসুর এক সদস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ সদস্য বলেন, ‘অনেক কিছুই করতে চাই। কিন্তু ডাকসু থেকে কোনো ধরণের সাপোর্ট পাচ্ছি না। সবাই স্বপ্রণোদিত হয়ে মন্ত্রণালয়ের মতো নিজের কাজ নিজেই করছেন। প্রত্যেক সম্পাদক পৃথকভাবে প্রোগ্রাম আয়োজন করে। যে আয়োজন করে তাকেই যাবতীয় কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে মোটেও সমন্বয়তা দেখা যায় না।'

ডাকসুতে ২৩ জন ছাত্রলীগ প্রতিনিধি হওয়ার পরও কেন সমন্বয়হীনতা? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডাকসু প্রতিনিধিদের অনেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ বঞ্চিত। আশানুরূপ পদ না পাওয়ায় এক ধরণের ক্ষোভে ফুঁসছে তার। এতে নিজেদের মধ্যে দুটি ভাগ হয়ে যাওয়া দরুন এই সমন্বয়হীনতা আরও বেড়েছে।’

ডাকসু আয়োজিত বেশকিছু প্রোগ্রাম অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রোগ্রামে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরকে আমন্ত্রণ পর্যন্ত জানানো হয়নি।

এ ব্যাপারে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে নির্বাচিত সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হচ্ছে ভিপি নুর সর্বোচ্চ পজিশনে আছে। এজন্য ছাত্রলীগ চাই না তিনি ডাকসুতে ভালোভাবে ইনভলবড হোক এবং ভালো কাজগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকুক। নুরকে কোণঠাসা করে রাখার জন্যই তারা ডাকসুর আয়োজিত প্রোগ্রামে তাকে আমন্ত্রণ পর্যন্ত জানান না। নুর ডাকসুকে কমন প্লাটফর্ম হিসেবে গতিশীল করে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করুক এটা ছাত্রলীগ চাই না।'

জিএস-এজিএসের অসহযোগিতার কারণে ডাকসু-তে একসঙ্গে একটা মিটিং কিংবা আলোচনা সভাও হচ্ছে না অভিযোগ করে আখতার বলেন, 'শিক্ষার্থীরা যে প্লাটফর্ম চেয়েছিল, সেটা আসলে গড়ে উঠেনি। জিএস-এজিএসের দায়িত্ব হচ্ছে বাকি যারা নির্বাচিত সবাইকে একত্র ও সমন্বয় করা, তদারকির দায়িত্ব নেওয়া। কিন্তু সেই চেষ্টা করা হয়নি। ডাকসুতে একসঙ্গে বসাটাও হচ্ছে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জিএস সবাইকে নিয়ে মিটিং কল করবেন। কিন্তু তা করছেন না।'

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত  আরেক সম্পাদক বলেন, 'সমন্বয়ের ব্যাপারটা আসলে নির্ভর করে প্রোগ্রামটা যে আয়োজন করে তার উপর। সে কতটুকু সমন্বয় করতে আগ্রহ দেখায় তার উপর। আমি এখনও কোনো প্রোগ্রাম করিনি। তবে সমন্বয় করেই করব।'

এদিকে  সমন্বয়হীনতা ছাত্রলীগের কারণেই হচ্ছে বলে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।

এ ব্যাপারে ডাকসুর জিএস ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :