৪৪ মাসের বকেয়া পেলেন বেরোবির ৫ কর্মকর্তা

বেরোবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘ ছয় বছর প্রতীক্ষার পর ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন পেলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পাঁচ কর্মকর্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বরাবর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বকেয়া অর্থ গত রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

বকেয়াপ্রাপ্ত পাঁচ কর্মকর্তা হলেন- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) গোলাম নূর ও ইংরেজি বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) ওবায়দুর রহমান, বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) রফিকুল ইসলাম, ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সায়েন্টিফিক অফিসার আবু সায়েম মো. আহসান হাবীব, ও সেকশন অফিসার (গ্রেড-১) তৌহিদুল ইসলাম।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল এই চার মাসের বেতন পেলেও মে মাস থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ৪৪ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর। পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে পুনরায় তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু হয়। এ ব্যাপারে তারা কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান উপাচার্য, রেজিস্ট্রারের সঙ্গে মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের বকেয়া পরিশোধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পাঁচ কর্মকর্তা বকেয়া বেতন পেলেও বাকি ৫৩ জন কর্মচারী অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ৪৪ মাসের বকেয়া বেতনসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) নূর ইসলাম বলেন, ‘রোববার অ্যাকাউন্টে বকেয়া বেতন জমা করা হয়।’

এদিকে, দীর্ঘদিন পর হলেও কর্মকর্তাদের বকেয়া বেতন প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের বরাত দিয়ে জনসংযোগ দফতরের সহকারী প্রশাসক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কর্মকর্তাদের ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহার করলে কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ করতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিক।’

তবে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম বলেন, ‘আমরা বর্তমানে চার দফা দাবিতে আন্দোলন করছি। ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন তার মধ্যে একটি। বাকিগুলোর বিষয়ে নিশ্চয়তা না পেলে আন্দোলন থেকে কিভাবে সরে আসি?’ 

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল জলীল মিয়ার সময়ে ইউজিসি’র অনুমোদন ছাড়াই ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৩৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকট দেখা দেয়। এই ৩৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করে সে সময়ের চলমান সংকট নিরসন করার জন্য ইউজিসি কর্তৃক ১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে ২৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলেও বাদ পড়ে এই ৫৮ জন।

আপনার মতামত লিখুন :