জাবির উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৬ শতাংশ চাঁদা দাবি শোভন-রাব্বানীর



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
শোভন-রাব্বানী, ছবি: সংগৃহীত

শোভন-রাব্বানী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের টাকা থেকে ৬ শতাংশ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

গত ৮ আগস্ট রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে তার বাসভবনে দেখা করে চাঁদা চান দুই নেতা বলে গণমাধ্যমকে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা।

উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার পেয়েছে- এমন কোম্পানির কাছ থেকে ভিসিকে টাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন শোভন ও রাব্বানী। কিন্তু উপাচার্য তাতে রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে দুই নেতা অসংলগ্ন আচরণ করেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে নির্বিঘ্নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঈদের আগে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সর্বশেষ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উন্নয়ন প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান সংশোধন ও দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ৩-৫ সেপ্টেম্বর তিনদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখেন তারা। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে পড়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আলোচনা সভায় তোপের মুখে আন্দোলনকারীদের দুইটা দাবি মেনে নেন উপাচার্য। তবে অমীমাংসিত থেকে যায় দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্য লেখা এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী লেখেন, ‘উপাচার্য ম্যামের স্বামী ও ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে কাজের ডিলিংস করে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল আজহার পূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হয় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ম্যাম আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন। নেত্রী, ওই পরিস্থিতিতে আমরা কিছু কথা বলি, যা সমীচীন হয়নি। এ জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’